আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

সহিংসতা বন্ধের আহ্বান

hrw 8.2.15ওমেনআই:বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ব্র্যান্ড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনিক নির্যাতন বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এই পরিস্থিতিতে সবার অধিকারের প্রতি সম্মান এবং স্বেচ্ছচারের মতো বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার, গুম বন্ধের বিষয়গুলো সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গত এক মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬০ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে শতাধিক, গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজারো লোককে। সমর্থকরা যাতে বেআইনিভাবে কাউকে হতাহত না করে সে ব্যাপারে প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতাকে পরিস্কার বিবৃতি দিতে হবে।সহিংসতা বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘অপরাধ চক্র থামাতে সব রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করতে হবে এবং এসব অপরাধের যারা জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধীদের কিছু সংখ্যক সদস্যের সহিংস অপরাধের জন্য সরকার হত্যা, আহত ও বাছবিচারহীন গ্রেপ্তারের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করতে পারে না।’তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে ১৭ জন নিহত হয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মী। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ বলছে এসব ব্যক্তি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

অন্যান্য ক্ষেত্রে পুলিশ খুবই সাধারণভাবে জানাচ্ছে যে, তারা গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে। কিন্তু নিহতদের স্বজনদের দাবি, হত্যার আগে এসব লোকদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছিল।নিরাপত্তা বাহিনীর এই অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে সরকার কোনও পদক্ষেপই নিচ্ছে না এমনকি তদন্ত কিংবা দোষীদের বিচারের বিষয়েও নয়। বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো প্রয়োজনে যে কারও ওপর যে কোনও ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে।হিউম্যান রাইটসের মতে, হরতাল অবরোধ চলাকালে রাজনৈতিক সহিংসতার অন্যতম ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে পেট্রোলবোমা হামলা। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক যেখানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে সেখানে তাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই সব হামলার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি একে অপরকে দায়ী করে আসছে এবং তাদের দলের দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করে আসছে। উদহারণ হিসেবে বিএনপির নেতা খালেদা জিয়া ৫ ফেব্রুয়ারি সহিংসতার নিন্দা জানান। কিন্তু এসব হামলায় তার দলের সদস্যদের জড়িতের বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ থাকার পরও তিনি এর জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন।ব্র্যান্ড অ্যাডামস বলেন, বিএনপির বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় নেতা ছাড়াও দলটির সাত হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। প্রথম যখন বিক্ষোভ শুরু হয় তখন তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়াকে দুই সপ্তাহ কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নেয়া ও গেটের তালা খুলে দেয়া হলেও গত সপ্তাহে তার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামলাও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এখন তিনি মূলত গ্রেপ্তার হওয়ার পথে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ।যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকা দেশ ভারতকে সহিংসতা বন্ধের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা উচিৎ।অ্যাডামস বলেন, ‘বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বিশ্বসম্প্রদায় আর এড়িয়ে যেতে পারে না।’ রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এই রক্তস্রোত যদি বন্ধ না হয়, তাহলে অন্য দেশের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক রয়েছে তার ওপর প্রভাব ফেলবে।’

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close