আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

সাইবার মামলায় অভিযুক্ত ফিলিপাইনের পুরস্কারবিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া

ওমেনআই ডেস্ক : সাইবার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন ফিলিপাইনের সুপরিচিত ও পুরস্কারবিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তার বিরুদ্ধে এই মামলাটিকে দেশটির মিডিয়ার মুক্ত সাংবদিকতার জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মারিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট র‌্যাপলারের সাবেক একজন লেখককেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের জামিন আবেদন মুলতবি অবস্থায় জামিন দেয়া হয়েছে। দু’জনেরই ৬ বছর করে জেল হতে পারে। মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের পক্ষের লোকজন বলছেন, প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করার জন্যই এই বিচার করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ও তার সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রকাশ করার অভিযোগ তুলেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ফিলিপাইনে সাংবাদিকতা বড় হুমকির মুখে। এমন প্রেক্ষাপটে মারিয়া রেসার মামলাটিকে একটি প্রতীকি মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর দিকে দৃষ্টি রেখেছে দেশের ভিতর এবং বাইরের বিশ্ব থেকে। মারিয়া রেসা সিএনএনের সাবেক একজন সাংবাদিক। তিনি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন র‌্যাপলার। তার এই সাইটটি হয়ে ওঠে প্রেসিডেন্ট দুতের্তে প্রশাসন ও মাদকের বিরুদ্ধে নৃশংস যুদ্ধের সমালোচনাকারী সংগঠন। মারিয়া রেসার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা আট বছর আগের একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে। তাতে সাবেক একজন বিচারকের সঙ্গে একজন ব্যবসায়ীর যোগসূত্র নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তা বহুল বিতর্কিক সাইবার আইনের অধীনে পড়ে গেছে। এই আইনটি করা হয়েছে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই বিচারক সোমবার বলেছেন, তাদের অভিযোগের বিপরীতে কোনো প্রমাণ দিতে পারে নি র‌্যাপলার।

মারিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করার রায়ের পিছনে আদালতে প্রমাণ আছে বলে জানিয়েছেন বিচারক রেইনেলডা মন্টিয়া। তিনি আরো বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে না। তবে বিচারের এমন ভয়ে ভীত নন মারিয়া। তিনি বলেছেন, মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াবো।

কে এই মারিয়া রেসা
মারিয়া রেসার জন্ম ফিলিপাইনে। তিনি বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কর্তৃত্ববাদী নেতা ফার্দিনান্দ মার্কোসের পতনের পর ১৯৮০র দশকে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। সাংবাদিকতা করেছেন সিএনএনের হয়ে। তবে ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন র‌্যাপলার। স্থানীয় পর্যায়ে দুতের্তে প্রশাসনের প্রকাশ্যে সমালোচনাকারী হাতেগোনা দু’চারটি সংবাদ ভিত্তিক সংগঠনের মধ্যে এটি অন্যতম। এ জন্য র‌্যাপলার এবং মারিয়া রেসাকে আরো কিছু মামলায় টার্গেট করা হয়েছে আদালতে। এর মধ্যে রযেছে আয়কর ফাঁকি দেয়া থেকে শুরু করে বিদেশে মালিকানা বিষয়ক নিয়ম লঙ্ঘন।

আদালতকক্ষের চেহারা
ফিলিপাইনে আদালতকক্ষে মারিয়া রেসার ঠিক পিছনে বসা ছিলেন বিবিসির সাংবাদিক হাওয়ার্ড জনসন। তিনি বলছেন, বিচারক যখন ঘোষণা করেন যে, এই মামলার রায়ে সরকারের কোনো প্রভাব নেই, তখন মারিয়া নীরবেই তার মাথা এদিক ওদিক দোলান। মারিয়া ২০১৮ সালে র‌্যাপলারের বিরুদ্ধে ১১টি মামলার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, দীর্ঘদিন তিনি বলে আসছেন এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এক সময় প্রেসিডেন্ট দুতের্তে র‌্যাপলারকে একটি ভুয়া সংবাদ মাধ্যম বলে অভিহিত করেছিলেন। তার দমনমুলক নীতির বিরুদ্ধে এবং তার ঘনিষ্ঠ মহলের স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে রিপোর্টিং করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এমন কথা বলেছিলেন। এমন সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন দুতের্তে। এর আগে র‌্যাপলার অভিযোগ করেছিল যে, ব্যবসায়ি উইলফ্রেডো কেং একজন মাদক ও মানব পাচারকারী। তার আইনজীবী সোমবার আদালতে বলেছেন, তার মক্কেলকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

কেমন আছেন সাংবাদিকরা
সংবিধানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেয়া আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম হাউজের মতে, বিশে^ সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক যে কয়েকটি দেশ আছে তার মধ্যে অন্যতম ফিলিপাইন। সাংবাদিকদের অধিকার বিষয় সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, সেখানে স্থানীয় জঙ্গিদেরকে মাঝে মাঝেই ভাড়া করেন স্থানীয় রাজনীতিকরা। তাদের উদ্দেশ্য, সাংবাদিকদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া। এক্ষেত্রে তারা পুরো দায়মুক্তি পান। প্রেসিডেন্ট দুতের্তের সমালোচকরা বলেন, যখনই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন তারপর থেকেই সংবাদ মাধ্যমকে রেখেছেন চাপে। সরকার সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close