আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডাঃ এসএম আব্দুল আজিজ :
ক্যান্সার! শোনার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং নিশ্চিত মৃত্যু বলে মনে করে। স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সব চেয়ে বেশি। ঘাতক ব্যাধিসমূহের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বেশি মারাত্মক ও ভয়াবহ। ক্যান্সার জনিত কারণে সারা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারের স্থান দ্বিতীয়। আর নবজাতকের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে মায়ের সুস্থতার ওপর। কথায় বলে, শিশুর হাসি মায়ের খুশি। শিশুদের সুস্থতার লক্ষণ সব সময় হাসি-খুসি থাকা। আর এই সুন্দর হাসিটির কারণে যখন শিশুর ঝকঝকে ছোট ছোট সাদা একরাশ দাঁত দেখা যায়, তখন সবার চোখে শিশুর অনাবিল সৌন্দর্যভরা হাসিমাখা মুখ দেখে মুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয় পরিবারে।
শিশুর এ নির্মম হাসির জন্য তার সুস্থতা নিশ্চিত করা মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিশেষ করে শিশুর শরীরের যথাযথ পুষ্টির জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই কিন্তু যদি মায়ের স্তনে প্রদত্ত শিশুর জন্য মহান আল্লাহর সেই মহাদান ও নেয়ামত কোনভাবে বাধাগ্রস্ত হলে তখন শিশুর দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা বা সমস্যা হচ্ছে ব্রেস্ট টিউমার ও স্তন ক্যান্সার। গবেষণা করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের মূল কারণ ও রহস্য আবিষ্কার করতে কোন চিকিৎসক ও গবেষক সক্ষম হয়নি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন আসল কারণ চিহ্নিত করতে।
ইদানীং সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও ব্রেস্ট টিউমার ও স্তন ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের দেশের মা-বোনদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। ভারত উপমহাদেশে প্রতিবছর আশি হাজার থেকে এক লাখ মহিলা ব্রেস্ট টিউমার ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে।
যথাসময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারকে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আয়ত্তের মধ্যে আনা সম্ভব। সাধারণত এ রোগ চল্লিশোর্ধ মহিলাদের বেশি দেখা যায়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পুরুষদেরও এ সমস্যা দেখা যায়। নিঃসন্তান মহিলা বা যে মহিলারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না বা খাওয়াতে সক্ষম তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া অল্প বয়সে মিন্সট্রেশন হওয়া, বেশি বয়সে মেনোপজে গেলে, ধূমপান করলে, শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলেও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একথা এখন সর্বজন স্বীকৃত যে, ব্র্রেস্ট ক্যান্সারের একটা জেনেটিক (এবহবঃরপ) ভিত্তি আছে। পরিবারের কোনও মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাদের মা, বোন অথবা মেয়ের (ঋরৎংঃ উবমৎবব জবষধঃরাব) স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩০-৪০% বেড়ে যায়। এ পর্যন্ত ৮টি ব্রেস্ট ক্যান্সারের জিন (এবহব) আবিস্কৃত হয়েছে, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইজঈঅ১ ্ ইজঈঅ২
স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার কি?
স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান ক্যান্সার এক ধরনের ঘাতক ব্যাধি, যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। স্তন বা ব্রেস্টের সেল বা টিস্যুর স্বাভাবিক অবস্থার বিকৃতি ঘটিয়ে দেয়াকে ক্যান্সার হিসাবে অখ্যায়িত করা হয়।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ:
স্তন ক্যান্সারের রোগীরা সাধারণত বুকে চাকা অথবা গাঁটের মতো (খটটগ) অনুভব করেন। অনেক ক্ষেত্রে নিপল্ থেকে লাল রঙের রস অথবা রক্ত জাতীয় পদার্থ বাহির হয়। এ জাতিয় সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন মহিলা। স্তনের উপরের চামড়ার রং ও নিপলের আকার পরিবর্তন, স্তনের চামড়া কমলালেবুর মতো কুচকে যায়। অনেক মহিলা স্তনে বা ব্রেস্ট এই উপসর্গগুলো অনুভব করেন কিন্তু ভয়ে ও লজ্জায় চিকিৎসকের কাছে যান না, তাদের ক্ষেত্রে বগলের নিচে চাকা বা স্তনের উপরের চামড়ার কোঁচকানো লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে বুঝে নিতে হয় যে রোগটা অনেকদূর এগিয়েছে। একথা অনস্বীকার্য যে, প্রাথমিক অবস্থায় স্তন টিউমার ও ক্যান্সার ধরা পড়লে ৮০-৮৫% রোগীকে চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য করা সম্ভব।
কখন নিজেকে পরীক্ষা করবেন?
স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয়ের জন্য একটি পদ্ধতি হলো নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা (ইৎবংঃ ঝবষভ ঊীধসরহধঃরড়হ) আর প্রাথমিক অবস্থায় নিজের শরীর নিজেকেই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। একমাত্র এই পদ্ধতিতেই দেখা গেছে যে স্তনের টিউমার ও ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে এবং রোগীর চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশের চল্লিশোর্ধ মহিলারা বেশি সমস্যায় পড়ে, বিশেষত যাদের পরিবার স্তন ক্যন্সারে আক্রান্ত রোগী আছে, তাদের উচিত নিয়মিত গধসসড়মৎধস করানো। যার ফলে ব্রেস্টে গাঁট হওয়ার অনেক আগেই ক্যান্সার নির্ণয় করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন। বলা বাহুল্য ও সমস্ত ক্ষেত্রে চিকিৎসায় রোগী আরোগ্য লাভ করে। নিজেকে পরীক্ষা করার আগে যেটা মনে রাখতে হবে, মাসিক বা ঋতুচক্রের সময়ে স্তনের গঠন ও আকৃতির পরিবর্তন হয়ে থাকে। যাদের মাসিক বা ঋতুচক্র নিয়মিত তাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের কয়েকদিন আগে বুকের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে বগলের কাছে সামান্য ফোলা ও ব্যথা অনুভব হয়।
কিভাবে স্তন পরীক্ষা করবেন?
* যে সব মহিলার বয়স ২০-৩০ তারা প্রতি একবার মাসিক বা ঋতুস্রাবের এক সপ্তাহ পরে, সাধারণত গোছল বা পোশাক পরিধান করার সময় এই পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়। যাদের বয়স ৪০-৫০ বছর তারা প্রতি ৩ বছর পর চিকিৎসাকের সঙ্গে পরামর্শ করবেন স্তনে কোন অসামঞ্জস্যা দেখা দিলে।
* আয়নার সামনে দু’পাশে হাত রেখে দাঁড়ান। দুকিদের স্তনের মধ্যে কোনও অসামঞ্জস্য আছে কিনা লক্ষ্য করুন। এবার দু’হাত উপরে তুলন মাথার দুই পার্শে রাখুন দেখুন দু’দিকে কোন অসামঞ্জস্য আছে কিনা?
* হাতের চেটো দিয়ে প্রথমে ডান দিকের স্তন ও পরে বাম দিকের স্তন পরীক্ষা করুন। কোন প্রকার চাকা বা ফোলা আচে কিনা লক্ষ্য করুন।
* এবার দেখুন নিপলের কোন পরিবর্তন হয়েছে কি না? যদি দেখা যায় একটি নিপ্ল ভেতরের দিকে ঢুকে যাচ্ছে বি নিপলের চার পাশে কোন ফুসকুড়ি বা ঘায়ের মতো লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাহলে সত্বর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
* স্তনের বোঁটা বা নিপল থেকে কোন প্রকার রক্ত বা রসজাতীয় পদার্থ হচ্ছে এমন লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সহজেই স্তনে চাকা বা গুটলি ও বাহুমূলে স্তন ব্যথা অনুভব হয়।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা: মেমোগ্রাফি, এম আর আই, গজ ও আলট্রাসনোগ্রাফি, বায়োএফসি, ক্যান্সার মারকার ইত্যাদি পরীক্ষার দরকার হতে পারে।
যদিও বলা স্তন ক্যান্সার বংশগত বা পরিবারিক ইতিহাস ও জিনের প্রভাব থেকে রোগীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। বংশগত কারণ ছাড়াও স্তন টিউমার ও ক্যন্সারে আক্রান্ত হতে পারে তবে ভাল পুষ্টিকর খাদ্য এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। অনেক রোগী অপারেশন করেও আশানুরূপ ফল পায়নি। এমনও রোগী আছে যারা দুই-তিন বার অপারেশন করার পর আবার তাদের ব্রেস্ট টিউমার বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মনে রাখতে হবে অপারেশন করার পর আবার তাদের ব্রেস্ট টিউমার বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মনে রাখতে হবে অপারেশন করে কেটে বাদ দিলেই রোগ চলে যায় না। অনেকে মনে করে কেটে বাদ দিলে রোগ চলে যাবে। এ ধারনা সম্পূর্ণ ভুল, কারণ পয়জন আক্রমণ করে ব্যক্তির শরীরে, রক্ত ও মাংসের মধ্যে। পয়জন দূর করতে হলে মেডিসিনের বিকল্প নেই। অপারেশন ছাড়া মেডিসিনের সাহায্যে ব্রেস্ট টিউমার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্তকে সুন্দরভাবে আরোগ্য করা সম্ভব। লক্ষণ সাদৃশ্য সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা হলে সহজে আরোগ্য সম্ভব। রোগীরা শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, রোগের মূল ও উত্তেজক কারণ, ব্যথা-বেদনা, মানসিক চাপ বিবেচনা করে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close