আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

সরদার ফজলুল করিম স্মরণ

boimela wmnওমেনআই: সরদার ফজলুল করিম আবিষ্কার করেছিলেন— ‘আমাদের রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে শ্রেণীচরিত্রহীন মধ্যবিত্ত। এই সংকটের সমাধান মধ্যবিত্তের হাতে নেই, আছে নিপীড়িত মানুষের হাতে।’

অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে প্রাবন্ধিক রায়হান রাইন এ সব কথা বলেন। ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং অধ্যাপক জিয়া রহমান।

রায়হান রাইন বলেন, সেই নিপীড়িত মানুষ যে সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে আসবে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির শর্তগুলো সৃষ্টি হবে— এমন রাজনীতির সক্রিয় উপস্থিতিই সরদার ফজলুল করিমের স্বপ্নকে সফল করতে পারে।

তিনি বলেন, সরদার ফজলুল করিমের দর্শনে আমরা এই সত্য পাই যে, জীবন জয়ী হবে, মানুষ স্বপ্ন দেখে বলেই। আমরা স্বপ্নের দিকেই এগিয়ে যাই। সরদার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমাদের সংকটকে খুব স্পষ্ট দেখতে পেতেন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরদার ফজলুল করিম দর্শন ও তত্ত্বের পরিসরের সঙ্গে অনুবাদের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় ঘটিয়েছেন। কিন্তু এই কাজে ব্যাপৃত থেকে সমাজবিচ্ছিন্ন বুদ্ধিজীবীতে পরিণত হননি। মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি সাম্যবাদী রাজনৈতিক তৎপরতায় নিজে সক্রিয় ছিলেন, তরুণ প্রজন্মকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন সমাজের মানবিক রূপান্তরের স্বপ্নে। আমাদের প্রতিদিনের সংগ্রামে ও স্বপ্নে সরদার ফজলুল করিম চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

সন্ধ্যায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুলতানা হায়দারের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন’ নৃত্য পরিবেশন করে। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, আঞ্জুমান আরা শিমুল, নবীনকিশোর, হাসান মাসুদ, সুমনা হক, খালেদ মুন্না, সোমা হক, মাহবুব আরা বিপাশা ও এস এম মেজবা উদ্দীন।

এর আগে সকাল ১০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। প্রতিযোগিতায় ‘ক’ শাখায় ‘সাধারণ জ্ঞান’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন— দীপান্বিতা বিশ্বাস শৈলী, দ্বিতীয়-হোসাইন এবং তৃতীয় হয়েছেন আকিবা আফরোজ। ‘খ’ শাখায় ‘উপস্থিত বক্তৃতা’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন ফারিয়া তাসনিম, দ্বিতীয়-নামিরা রহমান অন্তরা এবং তৃতীয় হয়েছেন আনাম আবরার।

বাংলা একাডেমির উপপরিচালক মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। বিচারক ছিলেন— খায়রুল আলম সবুজ, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং শাহিদা খাতুন।

মেলায় এই পর্যন্ত মোট নতুন বই এসেছে ১৯২৯টি। গ্রন্থমেলা ১৪তম দিনে শনিবার ১৪৭টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে ২৯টি গল্প, ৩৬টি উপন্যাস, ৩টি প্রবন্ধ, ৩৬টি কবিতা, ২টি গবেষণা, ৫টি ছড়া, ৩টি জীবনী, ১টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক, ৩টি নাটকের, ১টি বিজ্ঞান, ৪টি ভ্রমণ সাহিত্য, ১টি ইতিহাস, ৪টি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক, ১টি ধর্মীয় ও ২টি অনুবাদ সাহিত্য। এ ছাড়াও সাহিত্যের অন্যান্য শাখার ১৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এ দিন ১২টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। শনিবার ছিল মেলার শিশু প্রহরের শেষ দিন।

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close