আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামত

কেজরিওয়ালের দিল্লি জয়, মমতার ঢাকা সফর ও দেশে শান্তি ফেরানো প্রসঙ্গ

KAZRIYAL-1423340050শিতাংশু গুহ: ফেব্রুয়ারীর জবর খবর দিল্লীতে বিজেপি’র শোচনীয় পরাজয়। আম-আদমী (এএপি)পার্টির বিশাল বিজয়, ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি, বিজেপি ৩টি। কংগ্রেসের খবর নাই। কেউ কেউ লিখেছেন, দিল্লি থেকেই মোদীর পতন শুরু। একটি সাপ্তাহিক হেডিং করেছে, ”কেজরী ‘ওয়ালে’ থেমে গেল মোদী ঝড়”। ১৪ই ফেব্রুয়ারী অরবিন্দ কেজরীওয়াল রামলীলা ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাথে দেখা করেছেন, দু’জনের হাসিখুশী একটি ছবি পত্রিকায় এসেছে। কেজরিওয়ালের বিজয়ে আমাদের কি আসে যায়? নিউইয়র্কে কে মেয়র হলো তাতে যেমন বাংলাদেশের কিছু আসে যায়না, তেমনি দিল্লীর প্রাদেশিক নির্বাচনেও আমাদের তেমন উত্সাহের কোন কারণ নেই। দিল্লিতে কে জিতলো বা হারলো তাতে আমাদের খুশি বা বেজার হওয়ার কোন কারণ নাই।

তবু ৯মাসের মাথায় বিজেপি’র এমন পরাজয় লক্ষ্যনীয়। এটাকে মোদীর পরাজয় বলা যায়? দিল্লির পূরবর্তী বিধানসভায় বিজেপি’র ৩২টি আসন ছিলো, এখন কমে মাত্র ৩টি। কংগ্রেস ১৫বছর ক্ষমতাসীন ছিলো, এবার আসন শুন্য। কেন এমন হলো যে, কেজরী ঝড়ে সবাই কুপোকাত! কে এই কেজরীওয়াল? ৪৬ বছরের কেজরীকে ভারতের ‘করাপশন বাস্টার’ বলা হয় এবং শপথ নিয়েই তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লী দুর্নীতি মুক্ত করবেন।’ অবশ্য দুর্নীতি বিজেপি’র পরাজয়ের একটি বড় কারণ। একজন বিজেপি কর্মী যেমন বলেছেন, দিল্লীর প্রায় কোন বিজেপি নেতাই দুর্নীতি মুক্ত নন। তাদের মতে কিরণ বেদীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রজেক্ট করা ছিলো আর একটি কারণ। বেদী নিজেও জেতেননি বা অন্যকে জেতাতেও সাহায্য করেননি, এমনকি দিল্লীতে কোন একটি বড় সমাবেশও ঘটাননি। দিল্লীর এক টিভি ব্যক্তিত্বের মতে, দিল্লী বিজয়ে বিজেপি’র কোন উদ্যোগ ছিলোনা, এমনকি আরএসএস বা ভিএইচপি কোনরকম প্রচারণা চালায়নি। তারমতে, নির্বাচনের বেশ আগেই বিজেপি দিল্লীতে হার মেনে নিয়েছিলো।

প্রায় একই কথা বলেছেন, তিন সপ্তাহ আগে ১৯শে জানুয়ারী ২০১৫ ‘গালফ নিউজ’-এর ববি নাগভি। তিনি লিখেছেন, বিজেপি’র একবারে উচ্চমহল আগেই দিল্লীর আশা ছেড়ে দিয়েছিলো এবং কেজরীর বিজয় কেন্দ্রের পক্ষে ‘বেটার’ বলে মেনে নিয়েছিলো। কারণ হিসাবে ববি যা বলতে চেয়েছেন তা হলো, কেজরির দিকে সবার দৃষ্টি থাকলে কিছুকাল মোদী পর্দার অন্তরালে থাকতে পারবেন। দ্বিতীয়ত: দিল্লীর মানুষের যে গগনচুম্বী আশা-আকাঙ্খা তা এ সময়ে পূরণ অসম্ভব। তদুপুরি, ভোটাররা চটজলদি সব সমস্যার সমাধান চান, সেটাও মেটানো অসম্ভব। বিজেপি’র ধারণা ভোটাররা কেজরীকে শান্তিতে থাকতে দেবেননা, তিনি মধুচন্দ্রিমা যাপনের সময়ও পাবেননা। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার তাকে হার্ড-টাইম দেবে। এসব বিবেচনা করে এবং জয়ের আশা নেই জেনে বিজেপি দিল্লীতে সময় নস্ট করেনি বরং আসামে মনোনিবেশ করেছে এবং ভালই করেছে। তাছাড়া কেজরীওয়াল মন্দের ভালো, অন্তত: কংগ্রেস নয়! কেজরিওয়াল উচচ শিক্ষিত। তিনি সরকারী চাকুরী করতেন এবং ২০১৩-তে হটাত বিখ্যাত হয়ে যান দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন করে। গত লোকসভা নির্বাচনে কেজরীওয়াল সরাসরি মোদীর বিরোধিতা করেন এবং লোকসভায় ৪০০ আসনে প্রার্থী দেন এবং বলেন, তার দল অন্তত: ১০০টি সীট জিতবে। মোদী ঝড়ে তিনি হেরে যান এবং মাত্র ৪সীট জিতেন। তিনি নিজেও বারানসিতে মোদির কাছে হারেন প্রায় ৩লক্ষ্ ভোটে। ওই সময়টা কেজরীওয়ালের জন্যে বেশ খারাপ যাচ্ছিলো, কেননা তিনি মাত্র ক’দিন আগে দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন দুর্নীতিবিরোধী একটি বিল নিয়ে মতনৈক্যের কারণে। ঐসময় তিনি কংগ্রেসের সাথে কোয়ালিশন করে সরকার গঠন করেছিলেন এবং মাত্র ৪৯দিন ক্ষমতায় ছিলেন। তার এই পদত্যাগ ভোটাররা ভালোভাবে নেননি এবং লোকসভা নির্বাচনে তিনি তার প্রতিদান পান। কিন্তু মাত্র ৯ মাসের মাথায় কেজরী আবার ঘুরে দাড়ান। ভোটারের মন পেতে তিনি এবার দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনে বারবার ক্ষমা চেয়েছেন আগেরবার পদত্যাগের জন্যে এবং অঙ্গীকার করেছেন, এবার ক্ষমতায় গেলে তিনি ৫ বছরই থাকবেন। ভোটাররা তার কথা শুনেছে এবং তাকে বিপুলভাবে জিতিয়েছে, কারণ তার ইমেজ একেবারে ক্লীন- আমাদের দেশের রাজনীতিক ‘মাহমুদুর রহমানের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র’ শ্লোগানের মত নয়। তাছাড়া আমাদের দেশের রাজনীতিকরা বা দল তাদের অবস্থানে থাকেন না, কারণে-অকারণে আপোষ করেন। বাংলাদেশে কি কোন কেজরিওয়াল জন্ম নেয়ার সম্ভবনা আছে?

যাহোক, ঢাকার সম্পর্ক দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে, সেখানে কেজরী বা মমতা প্রাধান্য পাওয়ার কথা নয়। কেজরিওয়াল তো নয়ই; বরং মমতার কিছুটা গুরুত্ব আছে। পত্রিকায় দেখলাম, মমতা আসছেন, সাথে আসছেন ইমরান। যেই ইমরানের বিরুদ্ভে বাংলাদেশ সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। শোনা যায়, ঢাকা মমতাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, কিন্তু ইমরানকে নয় এবং বিষয়টি দিল্লী পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরআগেও তিস্তা প্রশ্নে মমতার বিরোধিতার কারণে তিনি নিজেই বাংলাদেশ সফরে আসেননি, এবার কি ইমরান প্রশ্নে তার সফর বাতিল হয়ে যাবে? ধারণা করা যায়, তিস্তা চুক্তি সহজতর করতে মমতার এ সফর। শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল হলে তিস্তা চুক্তি হবে না? তিস্তা চুক্তি হবেই, দু’দিন আগে আর পরে; কিন্তু ইমরানকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়াটা ঠিক হবেনা। এদিকে ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মমতার সফরের প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা থাকলেও অবরোধ প্রসঙ্গ এসেছে। জাতিসংঘ মধ্যস্থতার কথা বলছে। নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় লিখেছে। তারানকো আবার মুখ খুলেছেন। ঢাকার বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা তত্পর হচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে চাচ্ছেন। রাষ্ট্রদূতরা কেউ কেউ দেখা করেছেন। সব মিলিয়ে বিষয়টি আর খুব বেশিদিন অভ্যন্তরীণ থাকবে বলে মনে হয়না। বিরোধীদল নি:সন্দেহে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। পেট্রল বোমা, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা কোন মতেই মেনে নেয়া যায়না। তারপরও কথা থাকে, সরকার এর দাযিত্ব এড়াতে পারেন না। জনগনের জানমালের দাযিত্ব সরকারের, সেটা ডান্ডা মেরে বা সমঝোতার মাধ্যমে, যাই হোক না কেন, সরকারকে ভাবতে হবে, আর কতকাল অবরোধ চলবে!

শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক।

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close