আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

Khaleda-Zia-07-09-2012ওমেনঅাই:জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাংলামেইলকে এ খবর নিশ্চিত করেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা ম্যাডামের নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। সরকার যদি নিরাপত্তা দিতো তবে ম্যাডাম অবশ্যই আদালতে যেতেন। কিন্তু সরকার নিরাপত্তার বদলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ম্যাডামের কার্যালয় ঘিরে রেখেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খাবার প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কিভাবে আদালতে যাবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে দলীয় সঙ্গীদের নিয়ে অবস্থান করছেন বেগম খালেদা জিয়া। কয়েকদিন ধরে সর্বস্তরে আলোচনা হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হচ্ছেন কি না?

বুধবার খালেদা জিয়ার মামলার হাজিরার দিন নিয়ে এরমধ্যে ছড়িয়েছে জল্পনার নানা ডালপালা। এই পরিস্থিতিতে খালেদা কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তার দিকেই দৃষ্টি ছিলো সবার। এর মধ্যেই অনেকটা আকস্মিকভাবেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ৯ জন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রদূত খালেদার সঙ্গে তার কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আলাপ করেছেন। এসময় তারা হরতাল অবরোধের মতো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্তকারী কর্মসূচি থেকে সরে আসা এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

খালেদা জিয়া হাজিরা দিতে আদালতে যাবেন কি না এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদিও এখনো আমরা ওয়ারেন্টের কপি হাতে পাইনি, যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কার্যালয়ে ফিরে আসার আশ্বাস পাই তাহলে তিনি (ম্যাডাম) আদালতে যেতে ইচ্ছুক।’

দলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবারও তিনি যাবেন না। তাছাড়া যেহেতু খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করা হয়েছে, সেহেতু আদালতে হাজিরার প্রশ্নই আসে না।’

সূত্র মতে, খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নাকচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আর হাজির না হলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজার আদেশ হতে পারে। এতে করে আগামী নির্বাচনে তিনি অযোগ্য হতে পারেন।

তবে আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার প্রতি সরকার নমনীয়তা দেখাতে পারে। তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে হয়তো তাকে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত দেয়া হতে পারে। যদি খালেদার পক্ষ থেকে এমন সাড়া পাওয়া যায় তাহলে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সরকার তার জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। এবং তিনি আদালত থেকে যথাস্থানে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারবেন।

এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রসহ নয় রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হরতাল-অবরোধের নামে সহিংস কর্মসূচি থেকে বিএনপিকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে মূলত আগের ধারবাহিক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তিই ছিল। তবে চলমান সঙ্কট নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় খালেদার সঙ্গে এ বৈঠকে কূটনীতিকরা এমন দাবি করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠকটি হয়েছিল ১ মার্চ, আর ৩ মার্চ সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করতে আসার বিষয়টি অন্যরকম বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এবং ৪ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আদালতের আদেশ সাধারণত ডাক যোগে থানায় পৌঁছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বাহকের মাধ্যমে পৌঁছানোরও সুযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার কথা পুলিশ নিশ্চিত না করলেও খালেদা জিয়ার কার্যালয় তল্লাশির অনুমতি পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিএনপির আইনজীবীরা এই পরোয়ানা স্থগিতের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা তখনই বলেছিলেন এবং মঙ্গলবার তারা একটি আবেদনও করেন কিন্তু আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আদালত যেহেতু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সেহেতু খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। এরপর তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারে।

সুতরাং বুধবার খালেদা জিয়াকে আদালতে যেতেই হবে। আর তিনি যাওয়া মানে পরোয়ানা তামিল করে আত্মসমর্পণ করা। তখন আদালত তাকে কারাগারে পাঠাবেন নাকি সময় দেবেন এটা যতোটা না আদালতের উপর নির্ভর করছে তার চেয়ে বেশি সরকারের সিদ্ধান্তই এখানে প্রধান নিয়ামক বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ মামলাটি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক বলে অভিযোগ বিএনপির।

ঢাকা, ৪ মার্চ (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close