আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আপন ভুবন

কোভিড ১৯: আইসোলেশনের দিনলিপি

আঙ্গুর নাহার মন্টি: ২৮ জুলাই ভোরে ফজরের আজানটা হতেই ঘুম ভেঙে গেছিল। চোখ না খুলেই শুয়েছিলাম। শরীরে মৃদু ধাক্কায় চোখ খুলে দেখি তোড়া দাঁড়িয়ে কাঁপছে। কি হয়েছে বাবা? বলা মাত্র মেয়ের চোখ ছলছল, ‘আমি তোমাদের ছাড়া থাকতে পারছি না। আমার খুব শরীর খারাপ লাগছে।’ আমি কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে মেয়েকে ধরে চমকে উঠি। জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে গা। তমি ঘুম ভেঙে মেয়ের অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে উঠে। আমি এক হাতে ওর হাত চেপে চোখ ইশারা করতেই চুপ করে মেয়ের দিকে তাকায়। আমি একটু সরতেই মেয়ে বিছানায় এলিয়ে পরে। আস্তে করে বলি, আমাদের সাথেই থাকুক। মেয়ে ভয় পাবে বলে কি যে কষ্ট করে বেচারা অসহায়ত্বটুকু হজম করলো! গত কয়েক মাসের সব নিয়ম ও দূরত্ব, গত চারদিনের আইসোলেশন ভুলে অস্বস্তি, আতংক ও উৎকণ্ঠা নিয়ে তিনজনে কাছাকাছি দূরত্বে থাকলাম।

নিয়মিত অফিস করি বলে গত ১১ মার্চ থেকে বিচ্ছিন্ন আমরা। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে ঘরেও সামাজিক দূরত্ব মানছিলাম। বাপ-মেয়ে পুরো ঘরবন্দী। হাতে গোনা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ কোথাও যাই না। ২৫ জুলাই থেকে তমির হালকা জ্বর। সাথে গলায় অস্বস্তি, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা। বলছে, খাবারে স্বাদ নেই, সবকিছুই গন্ধহীন লাগছে। সাথে সাথে কথা বলি ওর ডক্টর Mohammad Abdur Rashid ভাই, Mamun Al Mahtab স্বপ্নীল ভাই আর Tahmina Jahangirরিতা আপুর সাথে। প্রয়োজনীয় ওষুধের সাথে চতুর্থ দিনে টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন তারা। ২৬ জুলাই থেকে নিজেরও কিছু উপসর্গ খেয়াল করি। ডান চোখ রক্তবর্ণ তোড়াই প্রথম নোটিশ করে। ভয়ে Nuzhat Choudhury শম্পা আপাকে কল করি। আসলে এটাও করোনা উপসর্গ। মেয়েটাকে একেবারে আলাদা করে রেখেছিলাম। তবুও জ্বর, ঠান্ডায় আক্রান্ত হলোই।

দেশে কোভিড ১৯ শনাক্ত হওয়ার পর আতংকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা নিয়ে বেশিই বাড়াবাড়ি করেছি। অফিস করছিলাম বলে সতর্কতাও বেশি। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে একার সচেতনতায় লাভ নেই বলে ঘরে-বাইরে, আশেপাশে নিয়মের সামান্য হেরফের হলেই ভীষণ রাগও করেছি। নিজেকে অন্যের জন্য ঝু্ঁকিপূর্ণ মনে হওয়া মাত্রই আইসোলেশনে চলে এসেছি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমার আতংক এক বিন্দুও কমেনি। নিজের সুগার লেভেল হাই এর চেয়ে বেশি চিন্তা ঘরে তিনবারের হার্ট অ্যাটাকের রোগী তমি আর আমাদের মেয়েটা। এতো সতর্কতায়ও মনে হচ্ছে শেষরক্ষা হলো না। গতকাল রাতে স্যাম্পল দিলাম। এখন রিপোর্ট আসার অপেক্ষায়। সবার দোয়া চাইছি।
সবার প্রতি একটাই অনুরোধ যেন বৈশ্বিক মহামারিকে হালকা না নেই। স্বাস্থ্যবিধি সবাই সম্মিলিতভাবে ও কঠোরভাবে না মানলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভবই না। প্লিজ নিজে নিরাপদে থাকুন, অন্যকেও নিরাপদে রাখুন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close