আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে প্রথম কবিতা বেলুচিস্তানের কবির

 

বেলুচিস্তানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মীর গুল খান নাসির (১৯১৪-১৯৮৩)। তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজ জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার কারণে এই বালুচ কবি পাকিস্তানি শাসকদের হাতে নানাভাবে নির্যাতিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নৃশংস হত্যার শিকার হন, তখন মীর গুল খান নাসির ছিলেন হায়দরাবাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। কারাগারে বসে, বঙ্গবন্ধু হত্যার ১৪ দিন পর ২৯ আগস্ট তিনি একটি কবিতা লেখেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে এটাই সম্ভবত প্রথম কবিতা, যাতে মীর গুল খান নাসির যথার্থভাবেই জাতীয় জীবনে এই হত্যার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং সাম্রাজ্যবাদী চক্রের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। ইতিহাসের নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ড যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে, মীর গুল খান নাসিরের কবিতায় তারই আগাম প্রতিধ্বনি ছিল। বালুচ ভাষায় লেখা কবিতাটি ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। এখানে ইংরেজি থেকে বাংলা ভাষান্তর করেছেন:রিজওয়ান উল আলম

চিৎকার, ক্রন্দন আর শশব্যস্ত আহ্বানের মাঝে
উল্লাস করছে অন্ধ জনতা।
ওরা বলে, ‘এখন ভোর’, কিন্তু জীবনপানে তাকিয়ে
আমি দেখি রাত্রি, ঘোর অমানিশা।
বিদ্যুৎ চমকানো আর বজ্রপাতে মনে হয় দূরে বৃষ্টি হচ্ছে,
কিন্তু বাতাসে বৃষ্টির নাম-গন্ধ নেই
রক্তের ধারা বইছে প্রবল।
হে নির্বোধের দল, কোথায় উজ্জ্বল প্রভাত?
এখানে এখনো ক্রুদ্ধ রাত
এজিদরূপী সাম্রাজ্যবাদীরা এখনো চূর্ণ করছে
সাহসী দেশপ্রেমিকের হাড়,
জনবহুল, চিত্রময় বাংলাদেশে আবারও রক্তের ঝড়।
সাম্রাজ্যবাদের দালালেরা আবারও জ্বালিয়ে দিচ্ছে গ্রাম-নগর,
মহান দেশপ্রেমিক মুজিব নিজ রক্তের সাগরে শায়িত
সাম্রাজ্যবাদের অভিশপ্ত সেবাদাসেরা তাঁকে
রক্তের জামা পরিয়ে দিয়েছে এবং বিদ্ধ করেছে বুলেটে
এজিদের বিরুদ্ধে হোসেনের কাহিনির পুনরাবৃত্তি।
হে সাহসী কমরেডগণ, এজিদ থেকে সতর্ক হও,
তোমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হও, পরাস্ত হবে তারা
তাদের মুখ তাদেরই কিন্তু জবান সাম্রাজ্যবাদীদের।
সেবাদাসেরা ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের পকেট স্ফীতকায়
এবং সাহসী দেশপ্রেমিকদের খতম করে দিতে
সাম্রাজ্যবাদীদের কাছ থেকে জোগান আসতেই থাকবে
তারা পাঠাবে ভাড়াটে লোক ও অস্ত্র
এই কাপুরুষদের কোনো দয়া-মায়া নেই,
এদের কারণেই বিশ্বে এখন ঘোর অন্ধকার।
মুক্তির শিখা কোথাও জ্বলে উঠলে এরা তা নিভিয়ে দেয় দ্রুত
বঙ্গবন্ধু মুজিব সপরিবারে নিহত ওদের হাতে
আবারও, স্বাধীনতার পতাকা অর্ধনমিত।
সাম্রাজ্যবাদীরা আবারও ফিরে গেছে তাদের সেই পুরোনো
চক্রান্তে, বিশ্বাসঘাতকতায়
আবারও দ্বন্দ্বের ফয়সালা হচ্ছে বন্দুকের নলে
আবারও সোনার জমিনে জ্বলছে আগুন
হে বন্ধুরা, এভাবেই সময়ের মুখোমুখি আমরা
আমার মাতৃভূমি বেলুচিস্তানও জ্বলছে এখন
ভয় পেয়ো না হে সাহসী যোদ্ধারা, থেমে যেয়ো না,
কণ্টকিত দুর্গম পথ এখনো অনেক বাকি।
মুজিবের রক্ত কখনোই বৃথা যাবে না,
দেশপ্রেমিকের জন্য এ এক অগ্নিপরীক্ষা।
বেশিক্ষণ নয়; কুয়াশা ও আঁধার সত্ত্বেও
এই ভয়াল রাত্রি দ্রুত কেটে যাবে
হূদয় দিয়ে নাসির স্পষ্ট দেখতে পায়
বিজয়-পতাকা উড়ছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close