আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
বিনোদন

জন্মদিনে রানী মুখার্জি

raniওমেনআই: সেই কবে বলিউডের এক নায়ক গেয়েছিলেন ‘মেরে সপনো কি রানী কব আয়েগি তু…।’ বলিউডে রানী অবশ্য এলেন তার অনেক দিন পরেই। যেদিন ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’, সেদিনই যে বলিউড তার রানীকেও পেয়ে যাবে এ কথা বুঝি জানতো হিন্দি সিনেমার দুনিয়া।

বাংলা সিনেমা অবশ্য তার কিছুদিন আগেই দেখেছিল এক সদ্য কিশোরীর অভিনয়ে কেমন ‘বিয়ের ফুল’ ফোটে। অভিনয় সাম্রাজ্যে যে তিনি রানী হয়ে থাকবেন এ কথা হয়তো আগেভাগেই আঁচ করেছিল বাংলার ছবিঘর। বাংলা যা ভাবে তা নাকি ২ দিন পরে হলেও সারাদেশ ভাবে।

শুরুর দিকের ওঠাপড়া সরিয়ে তাই একদিন হিন্দি সিনেমাও ঠিকঠাকভাবে চিনে নিয়েছিল তাকে। তার ওই নিষ্পাপ অথচ গ্ল্যামারাস লুকে, হাস্কি অথচ প্রত্যয়ী কণ্ঠস্বরের মাদকতাতেই যে দর্শকমনে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ তা বুঝে নিতে শুরুতে একটু সময়ই নিয়েছিল বলিপাড়া।

তবে যখন বুঝলো তখন সিংহাসন ছেড়ে দিতে কুণ্ঠা করেনি। আর তাই দীপিকা-আলিয়াদের সময়ও বলিউডের রানী হয়ে থেকে গেছেন বাঙালিকন্য রানী মুখার্জি। আজ ২১ মার্চ ৩৬ পেরিয়ে পা রাখলেন বয়সের হিসেবে ৩৭ এর ঘরে।

রানী যখন হিন্দি সিনেমা করতে এলেন ততেদিনে বিশ্বায়ন পরবর্তী সময়ের ৭ বছর পেরিয়ে গেছে। ‘ডিডিএলজে’র মতো সিনেমা এসে হিন্দি সিনেমার প্রায় খোলনলচে পাল্টে দিয়েছে বলা যায়।

পারিবারিক সূত্রে বাঙালি কাজল তখন শুধু বলিউড কেন গোটা দেশের হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছেন। এমন সময় রানী এলেন। বলা যায় কাজলের ইন্দ্রজালে আছন্ন সিনে দুনিয়ায় তিনি এলেন প্রায় নিঃসাড়ে।

বলিউডের চিত্রনাট্যের মতো কোনো ভিনি-ভিডি-ভিসি হলো না। প্রথম ছবি ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ যে ব্লকবাস্টার হয়ে রাতারাতি ইতিহাস বদলে দিয়েছিল এমনটা নয়। তার ওপর কণ্ঠস্বরের টেক্সচারটাই অন্যরকম। একের পর এক ছবিতে পরিচালকরা তার কণ্ঠ অন্যকে দিয়ে ডাব করিয়েছেন।

‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’তে টুইঙ্কল খান্নার জন্য লেখা চরিত্র গেল তার কাছে, কিন্তু যখন টুইঙ্কল তো বটেই, বলিউডের প্রায় কোনো প্রথম সারির নায়িকাই সে চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হননি তখন। কিন্তু সে ছবির টিনা মালহোত্রাই বদলে দিয়েছিল রানী মুখার্জির জীবন।

চূড়ান্ত সফল শাহরুখ-কাজল জুটি ছবিতে থাকা সত্ত্বেও রানীর জন্য সিনেপ্রেমীরা বলে উঠলেন ‘ক্যায়া করু হায়ে কুছ কুছ হোতা হ্যায়…।’ সে ম্যাজিক রানী শেষ হতে দেননি। কখনো ‘বান্টি’র জন্য ‘বাবলি’ হয়েছেন, তো কখনো বীরের জন্য ‘জারা’, কিন্তু যারা রানীর অভিনয় দেখেছেন তারা মুগ্ধ হওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খুঁজে পাননি।

পরে ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে মূক-বধির চরিত্রের জন্য তাই প্রায় নির্বিকল্পভাবেই তাকে বেছে নিয়েছিলেন সঞ্জয় লীলা বনশালী। ততেদিনে বলিউড ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে রানী মুখার্জি স্রেফ বলিপাড়ার নায়িকা মাত্র নন, বরং একজন সম্পূর্ণ অভিনেত্রী।

‘এই ক্যায়া বলতি তু’র মতো হালকা চালের রোমান্সনির্ভর চরিত্র থেকে নিজেকে যিনি নিয়ে যেতে পেরেছেন ‘হাম তুম’ বা ‘কভি আলবিদা না কেহনা’র মতো সম্পর্কের গহিনে ডুব দেওয়া চরিত্রে।

পৌঁছতে পেরেছেন ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’র দুরন্ত সাংবাদিক থেকে ‘মর্দানি’র শিবানি শিবাজি রাওয়ের মতো দুঁদে, মানবিক মহিলা পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। আর এখানেই রানী নিজেকে আলাদা করে নিতে পেরেছেন বলিউডের অন্য নায়িকাদের থেকে।

কোনো এক ইমেজে তাকে বাঁধা যায় না, অভিনয়ের দুনিয়ায় তিনি সত্যিই ‘পহেলি’।
কিছুদিন আগেই বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন রানী। ক্যারিয়ারেও শুরু করেছেন দ্বিতীয় ইনিংস। ২ ক্ষেত্রেই তার সাফল্যের জন্য থাক শুভকামনা। কেননা রানীর প্রতিটি সাফল্য দর্শকের প্রাপ্তির ভাঁড়ারকেও যে ভরিয়েই দেয় প্রতিবার।

ঢাকা,২১ মার্চ (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close