আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক থেকে

ছেলের সাথে মায়ের বোরকা পরে ক্রিকেট খেলার বিষয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

ওমেনআই ডেস্ক : মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে থমকে আছে ক্রীড়াঙ্গন। এর মধ্যেই শুক্রবার রাজধানীর পল্টন ময়দানে মা ও ছেলের ক্রিকেট খেলার একটি দৃশ্য নজর কেড়েছে সবার।

মাদরাসা ছাত্র শেখ ইয়ামিন সিনান (১১) কবি নজরুল ক্রিকেট একাডেমিতে ক্লাস করতে আসে। আজও সিনানকে ক্রিকেট ক্লাসে নিয়ে এসেছিলেন মা ঝর্ণা আক্তার।

ছেলে ইয়ামিনকে নিয়ে প্রতিদিনই পল্টন মাঠে আসেন মা ঝর্ণা আক্তার, এক পাশে বসে বসে ছেলের অনুশীলন দেখেন। ওই দুপুরের দিকেও এসেছিলেন। তখনো ছেলের অনুশীলনের সঙ্গীরা কেউ মাঠে আসেনি। মা ঝর্ণাই তাই ছেলের সঙ্গে নেমে পড়লেন মাঠে। ইয়ামিন কিন্তু নিজের স্পিন বোলিং দিয়ে বেশ ভুগিয়েছে মাকে, এরপর আউটও করেছে। মায়ের উইকেট পেয়ে ছেলে উচ্ছ্বাসে লাফিয়েছে, তবে তার চেয়েও বেশি খুশি মনে হয়েছে মা ঝর্ণা আক্তারকে। আউট হওয়ার পর গিয়ে জড়িয়ে ধরেছেন ছেলেকে।

মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার এমন ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কেউবা বলছেন পক্ষে কেউবা বিপক্ষে।

এ বিষয়ে এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিনও। তিনি তার ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন। তার পোস্টটি ওমেনআই’র পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

“বোরখার বিরুদ্ধে সাতের দশক থেকে বলছি, ঘরে বাইরে আন্দোলন করছি। বোরখার সমালোচনা আটের দশক থেকে করছি। ২০১০ সালে বোরখা নিয়ে আমার একটি লেখার কারণে মুসলমান মৌলবাদিরা দাঙ্গা বাঁধিয়েছে কর্ণাটকে। আগুনে পুড়িয়েছে বাস ট্রাক দোকানপাট, ভাংচুর করেছে পত্রিকা অফিস, দু’জনের মৃত্যুও হয়েছে। বোরখার নিন্দে করলে কী ভয়ানক কাণ্ড ঘটে যেতে পারে, তা প্রত্যক্ষ করেছি। বোরখা সম্পর্কে আমার অগুনতি রচনা পড়ে কারও কারও চক্ষু খুলেছে। কিন্তু সে তো হাতে গোনা। অগুনতি মেয়ে আজকাল বোরখায় শরীর মুড়িয়েছে। আজ আমি বোরখা নিয়ে মন্তব্য করার বদলে প্রশ্ন করতে চাই বাংলাদেশের মেয়েরা কেন বোরখা পরছে, দোষ কার? বাংলাদেশে হাট মাঠ ঘাট দখল করে নিয়েছে ধর্ম ব্যবসায়ীরা, দোষ কার? বাংলাদেশের ইস্কুল কলেজ অফিস আদালত দখল করে নিয়েছে কূপমণ্ডূক ধার্মিকেরা, দোষ কার? বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, প্রচারমাধ্যম, সংগঠন সংস্থা দখল করে নিয়েছে মৌলবাদিরা, দোষ কার? দোষ কি ধর্মের? ধর্ম একটা আইডিওলজি। আইডিওলজির কোনও দোষ নেই, একে না মানলেই এ মরে যায়। সরকারের দোষ? সরকার পালের হাওয়া যেদিকে, সেদিকেই নাও ভাসায়। সরকারেরও দোষ ততটা নয়। দোষ তাহলে কার? দোষ বুদ্ধিজীবীদের। কারণ বুদ্ধিজীবীরা জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছে্ন বলেই হাট মাঠ ঘাট দখল করেছে সমাজের শত্রুরা। যেখানে বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী সাহিত্যিকদের নাটক থিয়েটার নৃত্য আবৃত্তি সঙ্গীত পালাগান করার কথা, মুক্তবুদ্ধি আর মানবাধিকার বিষয়ে যুবসমাজকে উদবুদ্ধ করার কথা, মানুষকে সভ্য শিক্ষিত সচেতন করার কথা, সেখানে আজ ধর্ম ব্যবসায়ীরা নারী-বিরোধী ওয়াজ করে মানুষের মগজ ধোলাই করে। বুদ্ধিজীবীদের যেখানে ইস্কুল কলেজ অফিস আদালতকে ধর্ম থেকে দূরে রাখার কথা, সেখানে ধর্ম ব্যবসায়ীরা মসজিদ মাদ্রাসা খুলে ছেলেমেয়েদের মগজ ধোলাই করে। কী করেছেন বুদ্ধিজীবীরা এতকাল? কী আর করেছেন? ক্ষমতাসীনদের পেছনে দৌড়েছেন, এই পুরস্কার ওই সুবিধে বাগিয়েছেন আর আখের গুছিয়েছেন। সমাজ উচ্ছন্নে গেলে তাঁদের কিচ্ছু যায় আসে না। এই যে দল সংগঠনগুলো নিরবধি ধর্ম জপছে, কেন? বুদ্ধিজীবীরা মুখ বুজে থেকে এই সর্বনাশটি হতে দিয়েছেন।

আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি, মৌলবাদিরা ধর্মের ব্যবসা করে আসছে , করবে। এটাই তাদের পেশা। রাজনীতিকরাও স্বার্থান্ধ। সরকার তো নিতান্তই চোর গুণ্ডার সমষ্টি। এরা নষ্টই, এরা নষ্ট হলে সমাজ নষ্ট হয় না। কিন্তু বুদ্ধিজীবীরা নষ্ট হলে সমাজ নষ্ট হয়। বাংলাদেশের সমাজ আজ নষ্ট সমাজ। সম্পূর্ণই বুদ্ধিজীবীদের কারণে।”

মা/১৩/৯/২২.২৬

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close