আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে পাঠানো চিঠিতে পাওয়া গেল প্রাণঘাতী বিষ!

ওমেনআই ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা এবং সমালোচনা। কিন্তু তার আগেই প্রকাশ্যে এল একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। কে বা কারা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তার ঠিকানায় বিষাক্ত রিচিনের প্যাকেট পাঠিয়েছিল। তবে সেটি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর আগেই সনাক্ত করেছে নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা।

হোয়াইট হাউজের ঠিকানায় পাঠানো যে কোনো চিঠি সেখানে পৌঁছে দেয়ার আগেই পরীক্ষা নিরীক্ষার একটি আলাদা কার্যালয় রয়েছে। আর সেখানেই বিষয়টি ধরা পড়ে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

খামের ভেতরে চিঠিতে যে রাইসিন বিষ পাওয়া গেছে তা ক্যাস্টর অয়েল তৈরি হয় যে বীজ থেকে, সেই একই বীজ থেকে তৈরি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, এই বিষ এতটাই মারাত্মক যে মাত্র কয়েক ফোটা লবণ দানার পরিমাণ একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে।

রাইসিন কোনোভাবে খেয়ে ফেললে, নিশ্বাসের সাথে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঘোরা, বমি শুরু হয়। এরপর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে। কতটুকু পরিমাণ রাইসিন শরীরে প্রবেশ করেছে তার উপর নির্ভর করে ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে।

রাইসিনের বিষক্রিয়া প্রতিরোধে কোনো প্রতিষেধক নেই। ল্যাব পরীক্ষাতেও রাইসিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্যাকেটটি হোয়াইট হাউজে ঢোকার পরপর দু’বার পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দু’বারই বিষাক্ত রিচিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। ট্রাম্পের নামে এই প্যাকেটটি এসেছে কানাডা থেকে। তবে কে বা কারা পাঠিয়েছে এবং নিরাপত্তা ভেদ করে কীভাবেই বা হোয়াইট হাউজে তা ঢুকল এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস।

তাদের পাশাপাশি কানাডাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র ম্যারি-লিজ পাওয়ার জানিয়েছেন, এই ঘটনা উদঘাটনে তারা মার্কিন সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তবে তদন্তের আগে এ বিষয়ে তারা আর কোন কথা বলতে রাজি নয়।

এই ঘটনার পর হোয়াইট হাউজের ঠিকানায় পাঠানো সকল পার্সেলের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে কোন পার্সেল একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া হোয়াইট হাউজে ঢুকবে না। পাশাপাশি একই ধরনের অন্যান্য প্যাকেটগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে রাইসিনের গুড়ো মেশানো চিঠি পাঠানোর দায়ে ২০১৪ সালে মিসিসিপির এক ব্যক্তিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এর চার বছর পর ২০১৮ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ও হোয়াইট হাউজে একই ধরনের চিঠি পাঠানোর জন্য একজন সাবেক সেনা সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়।

মা/২০/৯/১২.৪৮

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close