আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্দোলন সংগ্রামে নারী

ভারতের প্রথম বৃহন্নলা বিচারক বাংলারই বাসিন্দা

ওমেনআই ডেস্ক : জয়িতা মন্ডল। কলকাতায় জন্ম এই রূপান্তরকামী মানুষটি নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন।ভারতের প্রথম “বৃহন্নলা বিচারকের” মর্যাদা পেয়েছেন তিনি। বছর ২৯ এর জয়িতার জন্ম কলকাতায়। জন্মের সময় নাম ছিল জয়ন্ত। তা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার অনন্য এই কাহিনী হতে পারে ছোট থেকে বড় সকলের।
জয়িতা কোনদিনও ভাবেনি তিনি বিচারক হতে পারবেন। রাস্তায় একসময় ভিক্ষে করতে হয়েছে। তারপর সেখান থেকে জাতীয় লোক আদালত বেঞ্চ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে নির্বাচিত হন।
জয়িতা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে যে বৈষম্য তাকে সহ্য করতে হয়েছে তা আজও একই রকম রয়েছে। ট্রাডিশনাল হিন্দু পরিবারে জন্ম হয় তার। কিন্নর হওয়ায় ছোট থেকেই কটুক্তি গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছিল তাকে।
স্কুলে বাকি ছেলেদের গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে হয় জয়িতাকে। দশম শ্রেণীতে স্কুল ড্রপআউট হন তিনি। কারণ লিঙ্গ নিয়ে নিয়মবিধিতে তিনি আটকে যান। ২০০৯ সালে একরাশ অভিমান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে দেন জয়িতা।
সেই সময়ে মাকে জয়িতা বলেন তিনি কাজের সূত্রে দিনাজপুর যাচ্ছেন। যদি ভালো না লাগে তাহলে ফেরত চলে আসবেন। যদিও উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে চলে আসার পরে আর কোনদিনও কলকাতামুখো হয়নি জয়িতা।
প্রথমদিকে পথে ভিক্ষে করেছেন, বাসস্ট্যান্ডে রাত কাটিয়েছেন, হিজড়া’ হিসাবে অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। এসব করতে করতেই বৃহন্নলাদের অধিকার নিয়ে লড়াই শুরু করেন। পাশাপাশি দূর শিক্ষার মাধ্যমে নিজের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করে আইনের ডিগ্রিও হাসিল করেন জয়িতা।
২০১০ সালে উত্তর দিনাজপুরের প্রথম “বৃহন্নলা” মানুষ হিসাবে ভোটার আইডি হাতে পান জয়িতা। তারপর “দিনাজপুর নতুন আলো” সোসাইটি তৈরি করেন। এক মুহূর্তে সেই সোসাইটির সদস্য সংখ্যা ২২০০ জন।
ইসলামপুর লোক আদালতের বিচারক হিসেবে ২০১৭ এর জুলাই মাসে কাজে যোগ দিয়েছেন জয়িতা।”বৃহন্নলা” সম্প্রদায় থেকে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। আপাতত তার লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব মানুষদের কাজের জগতে প্রবেশ করানো। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারলেই এদের জীবন বদলে যাবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

সা/৮/১০/৯.৫২

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close