আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

রায়ের কপি না পাওয়ায় ফাঁসি হলো না

kamru-Fasiওমেনআই: যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় গতকাল সোমবার রাতে কার্যকর হয়নি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী সোমবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘রায়ের কপি হাতে না পাওয়ায় কারণে দণ্ড কার্যকরের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

অবশ্য কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকরের আগে তার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ আছে। তিনি যদি ক্ষমা ভিক্ষা না চান বা রাষ্ট্রপতি যদি তাকে ক্ষমা না করেন তারপরই দণ্ড কার্যকর হবে এই যুদ্ধাপরাধীর।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ফরমান আলী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া-না চাওয়ার বিষয়টি আজকে না, কারণ রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর আসামির কাছে জানতে চাওয়া হবে আপনি ক্ষমা চাইবেন কি না। তাই এখন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

রাত ৮টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা। কারাগারের বাইরে অবস্থান নেয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল।

হাসান জানান, তার বাবা মানসিকভাবে শক্ত আছেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার যে রায় দিয়েছে তা ঐতিহাসিকভাবে ভিত্তিহীন। তার (কামারুজ্জামান) ওপর জুলুম করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ এরসঙ্গে যারা জড়িত আল্লাহ তাদের বিচার করবেন। এ ঘটনায় আমরা বিচলিত নই। হাসিমুখে আমরা তাকে বিদায় জানাতে এসেছিলাম। হাসিমুখে যাচ্ছি। তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন, দৃঢ় আছেন।’

বিদায় বেলায় কামারুজ্জামান তার পরিবারের সদস্য সৎ উপদেশ দিয়েছেন বলেও জানান হাসান ইকবাল। তিনি বলেন, ‘বাবা বলেছেন, তোমরা সৎপথে থাকবা, সৎ উপার্জন করবা।’

সোহাগপুরের যে ঘটনায় কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন হাসান ইকবাল।

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি (কামারুজ্জামান) ক্ষমা ভিক্ষা চাইবেন না। তবে এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

২০১৩ সালের ৯ মে যুদ্ধাপরাধের দুটি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কামারুজ্জামান। ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের রায়ে একটি অভিযোগের মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে রেহাই পান তিনি। তবে সোহাগপুরে ১২০ জনকে হত্যার ঘটনায় আপিল বিভাগের চার বিচারকও সর্বসম্মতভাবে কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা, শুনানি শেষে আজ সোমবার যা খারিজ হয়ে যায়।

ঢাকা, ৭ এপ্রিল (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close