আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অর্থনীতি

নাশকতার মধ্যেও মার্চে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ

ashulia_0ওমেনআই:হরতাল-অবরোধের মধ্যেও রপ্তানিতে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদিও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির তৃতীয় মাসে এ প্রবৃদ্ধির হারকে উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও অর্জিত প্রবৃদ্ধি প্রমান করে বাধার পরও আমাদের উদ্যোক্তা ও উৎপাদেন সাথে যুক্ত শ্রম শক্তি অদম্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ দুই হাজার ২৯০ কোটি ৩০ লাখ (২২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। যা ২০১৪ সালের মার্চ মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের মার্চ মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছিল। এবারের মার্চে আয় হয়েছে ২৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় রপ্তানি আয় বেশি হয়েছে ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এ ব্যাপারে উদ্যোক্তা ও ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মো. সুবর খান বলেন, ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে যেতে পারে এটা তারই প্রমাণ। উদ্যোক্তাদের কোন বাধাই দমিয়ে রাখতে পারে না, যদি উৎপাদনের সাথে শ্রম শক্তিকে সঠিকভাবে সংগঠিত করে কাজে লাগানো যায়, তবে সহিংসতা যে গতি থামিয়ে দিতে পারে এটা স্বাীকার্য। যা এবার করেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না থাকলে ২০-২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব ছিল।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেলে পুরো রপ্তানিতে প্রভাব পড়ে। তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন, কার্যাদেশ ও রপ্তানি ধরে রাখা সম্ভব হলে রপ্তানির গতি ঠিক রাখা সম্ভব। এবার তাই হয়েছে। সরকার ও বিজিএমইএ সর্বাত্মক চেষ্টা করে পোশাক খাতকে সচল রাখতে সম্ভব হয়েছে। যদিও কার্যাদেশ কিছুটা কমেছে।

বিজিএমইএ সুত্র জানায়, তিন মাস ধরে সহিংস-আতঙ্কের রাজনীতি চলেছে সেটা না থাকলে রপ্তানি আয় আরও বাড়তো। দেশে অস্থিরতা না থাকলে ওভেন খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সেটা এবার অর্জিত হতো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ৩/৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্তোষ থাকবে হবে। তবে এতো বাধা-বিপত্তির মধ্যে এই ৩/৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও খারাপ নয়, মনে করে বিজিএমইএ সূত্র।

তবে রাজনৈতিক অনশ্চিয়তার মধ্যেও বিজিএমইএ মনে করছে,বাংলাদেশের নিট পোশাকের প্রধান বাজার ইউরো জোনের ইউরোর মান বাড়তে শুরু করা ও দেশের শান্তি ফিরে আসা সুখবর। সব মিলে আগামীতে রপ্তানি আরও বাড়বে বলে মনে করছে পোশাক রপ্তানিকারকরা। এখন আমেরিকা-ইউরোপ ছাড়াও অনেক নতুন মার্কেটে বাংলাদেশর পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যে দাম ও মানের পোশাক রপ্তানি করা হয় তা অন্য কোনো দেশ করতে পারবে না। এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী জুলাই-মার্চে মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এর মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৯৫৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ৩ দশমিক ৬৪ বেশি। নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এই সময়ে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশ। জুলাই-মার্চ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ রপ্তানি আয় কম এসেছে বলে জানায় ইপিবির সূত্র। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। ফুটওয়্যার (পাদুকা) রপ্তানি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

ঘন ঘন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রপ্তানি বাণিজ্যের ছন্দ পতন হয়। এতে সমস্যা হচ্ছে, এখন যে অস্থিরতা-সংঘাত চলছে তার প্রভাব পড়বে ছয় মাস-এক বছর পর। যেমন ২০১৩ সালের শেষের দিকের সহিংসতার প্রভাবে যে সব রপ্তানির কার্যাদেশ বাতিল হয়েছিল তার প্রভাব এখন আমরা দেখছি। সে কারণেই গত অর্থবছরে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি হলেও এখন সেটা ৭ শতাংশ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর সালেহ উদ্দিন আহমেদ এই প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন কিছুটা দূর হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পুরো গতি ফিরে পেতে হলে স্থায়ী রাজনৈতিক স্থীতিশীলতা আসতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি বার বার দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে থাকছে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে অর্থনীতির বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

ঢাকা, ৯ এপ্রিল (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close