আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

শিশুর ডায়রিয়া হলে করণীয়

full_837201986_1428919168ওমেনআই:ডায়রিয়া বা উদারাময় এক সময় মারত্মক রোগ হিসেবে গণ্য হতো, বিশেষ করে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে। কিন্তু খাবার স্যালাইনের ধারণা আবিস্কারের পর এখন এর চিকিৎসা সহজ হয়েছে। উদারাময় বা ডায়রিয়া পৌষ্টিক তন্ত্রের একটি রোগ, যাতে মলের সঙ্গে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়।

বিভিন্ন কারণে ডায়রিয়া হতে পারে। এগুলোর কিছু সংক্রামক এবং কিছু সংক্রামক নয়। অসংক্রমিত ডায়ারিয়া হতে পারে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, তেজস্ক্রিয়তা, ঔষধ ঘটিত, অল্যার্জিক অথবা বংশগতির বিভিন্ন সমস্যার জন্য। অনেক সময় কোনো এলাকায় বা ব্যক্তির ডায়ারিয়ার কারণ জানা যায় না। এমনি একটি ঘটনার উদাহরণ ব্রেইণার্ড ডায়রিয়া।

ডায়রিয়া রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। স্যালাইন শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করে। কলেরা জীবাণু দ্বারা ডায়রিয়া হলে প্রতিদিন শরীর থেকে ২০-৩০ লিটার পানি বের হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। UNICEF এর মতে মলত্যাগ করার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ডায়রিয়ার আশঙ্কা ৪০% হ্রাস করে। বাজারে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি কর্তৃক সরবরাহকৃত স্যালাইন পাওয়া যায়। আবার ঘরে চিনি বা গুড় ও তিন আঙ্গুলের এক চিমটা লবন এক মগ পানিতে মিশিয়ে স্যালাইন তৈরি করা যায় সহজেই।

খাবার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন (ORS- Oral Rehydration Solution) উদ্ভাবন করেছে ঢাকাস্থ ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ, সংক্ষেপে আই সি ডি ডি আর, বি (ICDDR,B) । বাংলায় “আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ”। এই দ্রবণ লবণ এবং গুড়ের সংমিশ্রণে প্রস্তুত করা হয়। উদরাময়ে আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে বের হয়ে যাওয়া দেহরসের পুনঃযোগান দেয়ার মাধ্যমে এটি রোগীকে সুস্থ করে তোলে।

ডায়ারিয়া প্রতিরোধের জন্য ভ্যাক্সিন বা টিকা আবিস্কার হয়েছে। এরমধ্যে সবথেকে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কলেরা ভ্যাক্সিন। রোটাভাইরাসের বিরুদ্ধেও ভ্যাক্সিন আবিস্কার হয়েছে।

বর্তমানে ডায়রিয়া বা উদারাময় কোনো ভয়াবহ রোগ নয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ডায়রিয়া মারাত্মক হতে পারে। তাই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। আসলে, শিশুদের যে-কোনো অসুখ-বিসুখেই আমাদের অতিরিক্ত সাবধান হওয়া উচিত। সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে বিশেষজ্ঞরা শিশুদের ডায়রিয়ার ৫টি পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন জেনে নিই সেসব পরামর্শগুলো।

# শিশুর মল ও প্রস্রাব ত্যাগের হিসেব রাখুন
শিশুর ডায়রিয়া হলে তাকে খাবার স্যালাইন দিতে হবে। পাশাপাশি সে কতবার মল ও প্রস্রাব ত্যাগ করছে সে হিসাব রাখতে হবে। কারণ, এ থেকে বোঝা যাবে যে শিশুর শরীর থেকে কতো পানি চলে যাচ্ছে। প্রয়োজনে দ্রুত শিশুর স্টুল পরীক্ষা করাতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, স্টুল সংগ্রহ করার এক ঘন্টার মধ্যে তার পরীক্ষা শেষ করা জরুরি। বেশি দেরি হলে পরীক্ষার যথাযথ ফল না পাওয়া যেতে পারে।

# পেটে গরম জলের শেক
ডায়রিয়া হলে শিশুর শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। এ সময় তাদের খাওয়ার আগ্রহও কমে যায়। ফলে, তাদের শরীর তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা হতে পারে। এ সময় গরম পানির বোতল বা ব্যাগ দিয়ে শিশুর পেটে শেক দেয়া যেতে পারে। তবে, খেয়াল রাখতে হবে যেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে বাচ্চার ত্বকের কোনো ক্ষতি না হয়।

# বাচ্চার ডায়াপার ঘন ঘন পরিবর্তন
ডায়রিয়া আক্রান্ত বাচ্চার ডায়াপার ঘন ঘন পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে স্বাভাবিকভাবেই। তাই বিষয়টার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ডায়াপার ভিজে গেলেই তার পরিবর্তন করে দিতে হবে। পাশাপাশি হালকা গরম পানি দিয়ে বাচ্চার নিতম্ব ধুয়ে ক্রিম মাখিয়ে দেয়া ভালো।

# জ্বর হয় কি না খেয়াল রাখতে হবে
অনেক বাচ্চার ডায়রিয়া হলে জ্বর হয়। সুতরাং, বাবা-মার উচিত বিষয়টার দিকে খেয়াল রাখা। জ্বর হলে বাচ্চাকে হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

# সময়মতো সুস্থ না হলে হাসপাতালে নিয়ে যান
পরিমিত খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর পরও, সময় মতো অবস্থার উন্নতি না-হলে, শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এ কাজে দেরি না করাই ভালো।

আসলে শিশুর যথাযথ যত্ন নেয়া হলে, তাদের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হবার আশঙ্কা এমনিতেই কম। আর আমরা তো একটা কথা জানি যে, অসুখ হবার পর চিকিৎসা করার চেয়ে, অসুখ হতে না দেয়া উত্তম। সকল পিতামাতাকেই জানতে হবে, কেন শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

# বেশি করে পানি পান করান
পর্যাপ্ত পানি সবসময়, সব বয়সের মানুষের জন্যই অপরিহার্য। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশেষ করে শিশু যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, তবে তাকে খাবার স্যালাইন ও সাধারণ পানি পান করান। এসময় তার শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাই পানির অভাব পূরণ করা জরুরি।

# ডায়রিয়ায় শিশুকে ভাতের স্যুপ তৈরি করে খাওয়ান
আসলে বাংলাদেশে এটা রাইস স্যালাইন নামে পরিচিত। বাজারে এই স্যালাইন পাওয়া যায়। স্বাভাবিক অবস্থাতেও শিশুকে এই স্যুপ বা স্যালাইন খাওয়ানো যেতে পারে। এতে শিশুর শরীর ভালো থাকবে। আর ডায়রিয়া হলে তো খাওয়াতে হবেই। ঘরেও এই স্যালাইন বা স্যুপ তৈরি করা যেতে পারে। ৫০০ মিলিলিটার পানিতে ২০ গ্রাম চিনি ও ১.৭৫ গ্রাম লবণ এবং অল্প ভাত মিশিয়ে এই স্যালাইন বা স্যুপ তৈরি করতে হবে।

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close