আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

চলছে হরতাল, আগামীকাল নির্বাচন

ওমেন আই :
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অবরুদ্ধ করে রাখা’র প্রতিবাদে ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের দাবিতে চলমান অবরোধের পাশাপাশি সারা দেশে শনিবার সকাল ৬টা থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে হরতাল পালনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীতেও দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত বড় কোন সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় গুলশানে তাঁর নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক জোটের পক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পযর্ন্ত হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এসময় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বর্জন করে ভোটারদের ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিরোধী দলের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ৫ জানুয়ারি জঘন্য কলঙ্কময় এক কালো তারিখ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এই দিন আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভয়ঙ্করভাবে অপব্যবহার করে গণতন্ত্র নাশের কদর্য অধ্যায় রচনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

রবিবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। তারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে বিরোধী জোট দেশব্যাপী ষষ্ঠ দফায় অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে পাঁচ দফা অবরোধের বিভিন্ন নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকলেও এবারের কর্মসূচি লাগাতার চলবে বলে ঘোষণা দেয় তারা। অবরোধের পাশাপাশি নির্বাচন প্রতিহত করতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট।

এর আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের সর্বশেষ ৮৩ ঘণ্টার অবরোধ ২১ ডিসেম্বর সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে ২৪ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে। এটি ছিল এই জোটের ডাকা পঞ্চম দফা অবরোধ।

প্রথম দফায় ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৭১ ঘণ্টা, এরপর ৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩১ ঘণ্টা, তৃতীয় দফায় ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ঘণ্টা এবং চতুর্থ দফায় ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ ডাকে বিরোধী জোট।

গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ। যে নির্বাচনে ইতিমধ্যেই ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রথম দফা অবরোধের ডাক দেয় ১৮-দলীয় জোট।

অবরোধের শুরু থেকেই সারা দেশে নাশকতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে থাকে। ককটেল বিস্ফোরণ, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, গাড়িতে আগুন দেয়া, ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ানো, রাস্তাঘাট কেটে ফেলা, গাছ কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে এ সময়ে।

এর মধ্যে সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো, মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রলবোমা ছুড়ে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো। এসব ঘটনায় যাত্রীসহ অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসের চালক আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

অবরোধে সহিংসতায় সারা দেশে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন হাজারের অধিক মানুষ।

এ সব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close