আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিক্ষা

জাবিতে আরো ১০ শিক্ষকের পদত্যাগ!

ju-copy2ওমেনঅাই:জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভবন বরাদ্দের জটিলতা নিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ শিক্ষকের পদত্যাগের পর এবার ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের আরো ১০ শিক্ষক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ বিভাগীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষকরা। ফলে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২৫ জন শিক্ষক পদত্যাগ করলেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরী সিন্ডিকেট সভায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ভবনের ৩য় তলার ২৮ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ভবনের ৩য় তলা বরাদ্দের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ৮টা থেকে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে এ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ যাত্রা শুরু করে ১৯৮৫ সালে। বর্তমানে বিভাগটিতে চাহিদা অনুযায়ী ১২টি ল্যাবের পরিবর্তে রয়েছে মাত্র ২টি ল্যাব। এছাড়া ৬টি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষ আছে মাত্র ৩টি। বর্তমানে মিউজিয়াম ও গবেষণাগারকে শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে ১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেরও একই দশা। বিভাগটিতে স্নাতকে ৩৫৫ জন, মাস্টার্সে ১০০ জন, পিএইচডিতে ৪০ জন এবং ইএমসিএসের (মাস্টার্স) ৩৩৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণী কক্ষ রয়েছে মাত্র ৩টি। আর চাহিদা অনুযায়ী ৬টি ল্যাবের স্থলে আছে মাত্র ১টি ল্যাব। বিশ্বের নামকরা অনেক বহুজাতিক কোম্পানি এ দু’টি বিভাগে গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাবনা করলেও স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় প্রস্তাবিত গবেষণাগার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা।

এদিকে সঙ্কট নিরসনে দীর্ঘ দিন ধরেই দুই বিভাগের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ভবনের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে বিভাগকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিভাগ দু’টির সঙ্কটের কথা কোনো প্রকার বিবেচনা না করে এবং ওই দুই বিভগের শিক্ষকদের না জানিয়ে গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তড়িৎ গতিতে একটি অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের ৩য় তলা হস্তান্তরের আদেশ প্রদান করে। যার ফলে ক্যাম্পাসে এক সঙ্কটময় অবস্থার তৈরি হয়। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে।

পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগকে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ভবনের ৩য় তলার ২৮ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়। এদিকে সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তে সমস্যা আরো জটিল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পদত্যাগকারী শিক্ষক ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ হানিফ আলী বলেন ‘ভবন বরাদ্দ নিয়ে আগেই জটিলতা ছিল। এখন বিষয়টি আরো জটিলতর হলো।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মাজেদা ইসলাম বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জরুরী বিভাগীয় সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা পদত্যাগ এবং সব শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার বরাবর পদত্যাগ পত্র পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আজ অফিস টাইম শেষ হওয়ার কারণে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের পদত্যাগ প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি। ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও অনশন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।’

গণ পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা একটি পুরাতন বিভাগ। আমাদের বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী কোনো আধুনিক ল্যাব ও ক্লামরুম নেই। বারবার আমাদের সমস্যার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানালেও তারা সমস্যা সমাধানের কোনো পদক্ষেপ নেননি বরং তারা আজ সমস্যা প্রকট করে তুলেছেন।’

আগামী সোমবার তিন বিভাগের জায়গা বরাদ্দের বিষয়ে প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে এক প্রশাসনিক সভা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আজ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি বরাবর একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন-সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ হানিফ আলী, বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, অধ্যাপক ড. যুগল কৃষ্ণ দাস, অধ্যাপক মো. এমদাদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির, সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক লিটন জুড রোজারিও, সহযোগী অধ্যাপক মো. গোলাম মোয়াজ্জাম, সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক সনজিৎ কুমার সাহা, স্বর্ণালী বসাক, তানজিলা রহমান ও তাহমিনা হাশেম।

এদিকে ভূতাত্ত্বিক বিভাগের পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন-অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. এ টি এম শাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. জুল্লে জালালুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন খান, সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুল হক, সহযোগী অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাজেদা ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান ইমাম, প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন ও মাহমুদা খাতুন।

ঢাকা, ৩ মে (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close