আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

রাজধানীর কুঠিবাড়ীতে রবীন্দ্র-উৎসব শুরু!

khuthibariওমেনঅাই:রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ীর বারান্দায় নানা রঙের আলোর প্রক্ষেপণ! লাল-সাদা পোশাকে সারিবদ্ধভাবে বসলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার শিল্পীরা। ঝলমলে মঞ্চ সামনে রেখে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সঙ্গীতপিপাসু দর্শক-স্রোতা। একসময় শেষ হয় অপেক্ষা। জাতীয় সঙ্গীতে সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। এরপরও শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীতের একেকটি ইন্দ্রজালে মুগ্ধ করেন সবাইকে।
পাঠকদের অবাক লাগতেই পারে— রাজধানী ঢাকায় কুঠিবাড়ী এলো কোথা থেকে?
শাহবাগের গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন মঙ্গলবার সেজেছিল কুঠিবাড়ী রূপেই! নান্দনিক এ মঞ্চটি না দেখলে শুধু ছবি দেখে সহজে কেউ বুঝবেন না যে এটি কুষ্টিয়ার শিলাইদহের বাড়িটি নয়!
রবীন্দ্রনাথের গান, তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও রবীন্দ্রমোদীদের অংশগ্রহণে এক রাবীন্দ্রিক আবহের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ৫ দিনের ‘ষড়বিংশ জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব’। ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহায়তায় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার এ আয়োজন সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন আয়োজক সংগঠনের অর্ধশতাধিক শিল্পী। এরপর সমবেত কণ্ঠে ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ’, ‘বাঁধ ভেঙে দাও’ পরিবেশন করা হয়। গত দিনে প্রয়াত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার শিল্পীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়েছে সঙ্গীতশিল্পী নাসরিন শামসকে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি আসাদ চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডিপুটি হাইকমিশন সন্দ্বীপ চক্রবর্তী সম্মাননা তুলে দেন শিল্পীর হাতে। আয়োজক সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পী সাজেদ আকবর। নাসরিন শামসকে দেওয়া সম্মাননা পত্রটি পাঠ করেন শিল্পী সালমা আকবর।
সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা পরবর্তী রবীন্দ্রসঙ্গীত সন্ধ্যায় মিলনায়তনপূর্ণ রবীন্দ্রানুরাগীদের উজ্জীবিত করে তোলেন শিল্পীরা। দর্শক শ্রোতারাও পিনপতন নীরবতায় মুগ্ধ হয়ে অবগাহন করেন বিশ্বকবির হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কথা আর নিরাভরণ সুরে।

একক পরিবেশনায় মামুন জাহিদ খান পরিবেশন করেন ‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’, শিমু দে পরিবেশন করেন ‘আজি তোমায় যে শুনিয়েছি বারেবারে’, কুশল রায় পরিবেশন করেন ‘সেই ভালো সেই ভালো আমারে না হয় না জানো’, তানজিনা তমা পরিবেশন করেন ‘লুকালে বলে খুঁজে বাহির করা’, অনিক ইসলাম ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণে প্রাণে এসো হে’, সেমন্তী মঞ্জুরী পরিবেশন করেন ‘আমি রূপে তোমায় ভোলাবো না’, আঁখি বৈদ্য পরিবেশন করেন ‘আমার মন না মানে’। একক পরিবেশনায় আরও অংশ নেন স্বাতী সরকার, জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি, প্রান্তিকা সরকার, অনিরুদ্ধ সেন গুপ্ত, আজিজুর রহমান তুহিন, অনাবিল এহসান প্রমুখ।
এই আয়োজনে আবৃত্তি পরিবেশন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি আসাদ চৌধুরী।
উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্ধ্যায় একই মিলনায়তনে বুধ ও বৃহস্পতিবারও পরিবেশিত হবে বিশ্বকবির গান-কবিতার নানা আয়োজন। চতুর্থ ও পঞ্চম সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে গান ও নৃত্যনাট্য।
আগামী ৯ মে শেষ হবে রবীন্দ্রনাথের ১৫৪তম জন্মজয়ন্তীর পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন।

ঢাকা, ৬ মে (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close