আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামত

যা প্রয়োজন মানবপাচার বন্ধে

sagor  wmnশহিদুল হক: বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং ভাগ্যন্বেষণে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যেতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিচ্ছে শ্রমিকরা। বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ এ ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেঁছে নিচ্ছে। এতে অপহরণ ও অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে দেশের এই জনশক্তি, যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তের বন্দিশিবিরে পাচার বা অপহরণের শিকার হওয়া পাঁচ শতাধিক অভিবাসীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশের সাদাও এলাকার গভীর জঙ্গলে সন্ধানকৃত গণকবর থেকে সম্প্রতি ২৬ জন বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েক জন রোহিঙ্গা অভিবাসীর দেহাবশেষও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই জঙ্গলে দ্বিতীয় অভিবাসী ক্যাম্পে ৫০টির বেশি কবর পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সীমান্তসংলগ্ন অন্যান্য ক্যাম্পগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কিছু কবর রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাকি কবরগুলোর খনন কাজ চলছে। এছাড়া পবর্তঘেঁষা এলাকাতেও অনেক অবৈধ অভিবাসী ক্যাম্প রয়েছে। সমুদ্রোপকূলের এসব এলাকায় এখনো অনেক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বন্দী আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য মানব পাচারকারীরা থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী ওই এলাকা ব্যবহার করে থাকে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য এসব অভিবাসীদের সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় তারা।

এত কিছুর পরও থামছেনা কক্সবাজার উপকূল দিয়ে মানব পাচার। নানা বিধিবিধান ও নজরদারি সত্ত্বেও মানবতাবিরোধী এই অপরাধ যেন কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাাপ্ত টহল না থাকায় বরাবরই সক্রিয় থাকছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দালাল চক্র। তবে মাঝে মধ্যে যাত্রীসহট্রলার আটক হলেও ফের দেখা যায় সেই পুরনো চিত্র। এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি না হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। ফলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারীরা।

এদিকে এ ঘটানয় থাইল্যান্ডের বর্তমান সামরিক সরকারের ওপর চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মানব পাচার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অঙ্গীকার করেছে থাই সরকার ।

আর এক্ষেত্রে আমাদেরও সক্রিয় ভুমিকা নিতে হবে। মানবপাচার বন্ধে নিতে হবে নানান উদ্যোগ। বাড়াতে হবে জনসচেতনতা। উপকূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। মানবপাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সক্রিয় করতে হবে মাঠ পর্যায়ের কর্যতক্রম। আর অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন কোন রকম ছাড়া দেওয়া যাবে না। কঠোর হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। মোদ্দাকথা অবৈধভাবে শ্রমিক পাঠানোর এই পথ বন্ধে নিতে হবে যুগান্তকারী ভুমিকা।

লেখক: শিক্ষক
সূত্র: ওয়েব সাই্ট

ঢাকা, ৬ মে (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close