আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিমু

dmcওমেনআই: মেহেদি পাতা ছেঁড়ায় ছাদ থেকে ফেলে দেয়া সেই শিমু মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তার দুটি পা ভাঙা। পায়ের পাতা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত প্লাস্টার করা। নাকে লাগানো নল। তা দিয়ে চলছে খাবার। মুখে ও পেটে জমাট বেঁধে আছে রক্ত।

সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, একটু পর পর পানি পানি বলে কাতরাচ্ছে শিমু। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে শিমু বলেন, ভাষানটেকের ২৮৯/২, শহীদ বদিউজ্জামান সড়কে তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায় কাজ করেন। কয়েকটি মেহেদি পাতা ছেঁড়ায় শনিবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় ভাষানটেক থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে আয়েশা বেগম পলাতক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শিমুর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জের কয়রনা গ্রামে। ছোটবেলায় মা মারা গেছে তার। বাবা ইজ্জত আলী দ্বিতীবার বিয়ে করেন।

এরপর তাদের প্রতিবেশী মিজানুর রহমান তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ছোটবেলা থেকে তার বাড়িতেই কাজ করছেন শিমু। দু’বছর আগে মিজানুর রহমান ভাষানটেকে ওই সেনা কর্মকর্তার বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন।

শিমু জানান, ভাবী (মিজানের স্ত্রী) আমাকে মোটামুটি আদর করে। কিন্তু বাড়িওয়ালি কারণে-অকারণে তাকে বকাবকি করত। শনিবার রাতে বাড়ির ছাদে গিয়ে মেহেদি পাতা ছেঁড়ায় আয়েশা বেগম তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

মিজানুর রহমান জানান, কয়েক দিন আগে আমার স্ত্রী বাড়িতে গেছেন। আমি অফিস করে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন ঘটনা ঘটে, তখন আমার মা বাসায় ছিল। হঠাৎ করে বাড়িওয়ালি শিমুকে বকাঝকা ও মার ধরে করে। এর মধ্যে দারোয়ানের চিৎকার শুনে দেখি শিমু নিচে পড়ে গেছে। তাকে কচুক্ষেতের হাইটেক হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা ঢাকা মেডিকেলে নিতে বলেন।

২০৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসক আশরাফউদ্দিন খান জানান, উপর থেকে পড়ায় তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। পেটের ভেতর রক্ত জমে গেছে। এজন্য তার অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। এছাড়া মেরুদণ্ডের একটি হাড় সরে গেছে।

ঢাকা, ১১ মে (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close