আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

খুচরোর মায়া

Modi-and-mamataওমেনআই: এ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিকে ছুঁইতে পারিল না ২০১৫ সালের ৯ মে। মাও সে তুং-এর সহিত রিচার্ড নিক্সনের করমর্দনের তাৎপর্য নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কাঁধে কাঁধ’ মিলাইয়া চলিবার অঙ্গীকারের অধরাই থাকিল। স্বাভাবিক। সুবিস্তৃত কূটনৈতিক রণকৌশল আর খুচরো সুবিধাবাদের তুলনা চলে না। চিনের সহিত সিকি শতকের বৈরিতায় ইতি টানিবার মার্কিন প্রচেষ্টায় ভিয়েতনাম যুদ্ধের পরিসমাপ্তি সন্ধানের তাগিদ ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নের সহিত কূটনৈতিক সম্পর্কে নূতন মোড়ের প্রত্যাশা ছিল। মোদীর সহিত দেড় বৎসরের তিক্ততা ধামাচাপা দেওয়ার পিছনে, অনুমান করা চলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাগিদটির নাম সিবিআই। মোদীরও বিলক্ষণ স্বার্থ আছে। রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন। মাও-নিক্সন বৈঠকটি ছিল চিন-মার্কিন সম্পর্কের এক মাইলফলক। নজরুল মঞ্চ হইতে রাজভবন হইয়া বার্নপুর পর্যন্ত দুই দিনের সৌহার্দ্য বড় জোর সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের বিনিময় হিসাবে চিহ্নিত হইবে। অধিকতর গুরুত্ব তাহার প্রাপ্য নহে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদী, উভয়েই জিতিতে ভালবাসেন। অতএব, রাজ্যসভায় বিল পাশ করাইতে ব্যর্থ হওয়া, অথবা সিবিআই-এর হাতে দলের প্রথম সারির নেতাদের হেনস্থা, কোনওটিই তাঁহাদের সহ্য হইবার কথা নহে। রাজ্যসভায় যথেষ্ট শক্তি না থাকিলে বিল আটকাইয়া যাইতেই পারে, অথবা মদন মিত্ররা দুর্নীতির চোরাবালিতে পা রাখিলে তাঁহাদের তলাইয়া যাওয়াই স্বাভাবিক, এই কথাগুলি নরেন্দ্র মোদী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়াও বোঝেন না। তাঁহারা যে কোনও মূল্যে জয় কিনিতে চাহেন। সেই মূল্যটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থের অঙ্কে দিতে হইতেছে কি না, সেই বিবেচনার অবকাশও দৃশ্যত তাঁহাদের থাকে না। পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে রাজনৈতিক বৈর তৈরি হইয়াছিল, তাহা অকারণে নহে। এই বিরুদ্ধতা ব্যতীত তাঁহাদের স্ব স্ব দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হইবার নহে। এই রাজ্যে বিজেপি জমি খুঁজিতেছে। রাজনীতির জমি একমাত্র বিরোধের অস্ত্রেই অর্জন করা সম্ভব। সিপিআইএম বা কংগ্রেসের বিরোধিতা অর্থহীন। বিজেপিকে যদি জমি জোগাড় করিতে হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের জমিই কাড়িতে হইবে। অমিত শাহ হইতে সিদ্ধার্থনাথ সিংহ, প্রত্যেকেই সেই যুদ্ধেরই ডাক দিয়াছিলেন। রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন পাইবার প্রত্যাশায় নরেন্দ্র মোদী সুর বদলাইলে এই রাজ্যের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের নিকট বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছাইবে। তাহাতে দলের লড়াইটি কঠিনতর হইবে।

নরেন্দ্র মোদীর সান্নিধ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইটিকেও দুরূহতর করিবে। তিনি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের ভরসায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ঘুঁটি সাজাইতেছেন। সংখ্যালঘুরা এখনও তাঁহার পার্শ্বে, কারণ এত দিন তিনি সর্বশক্তিতে নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করিয়াছিলেন। নজরুল মঞ্চের ঘনিষ্ঠতা রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের নিকট প্রথম দফার বিপদসংকেত পাঠাইয়াছে। কাঁধে কাঁধ মিলাইবার প্রক্রিয়াটি চলিতে থাকিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশ্চিততম ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরিবার আশঙ্কা প্রবল। প্রশ্ন হইল, মদন মিত্রদের বাঁচানো কি সত্যই এত জরুরি যে, নেত্রী তাহার জন্য সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের প্রবল ভাঙনও মানিয়া লইতে প্রস্তুত? রাজ্যসভায় দুই একটি বিল পাশ করানোর কি আরও কোনও পথ নাই যে নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের অর্জিত জমি বিসর্জন দিতে উদ্যত? না কি, হাতের লড়াইটি জিতিবার উদগ্র তাড়নায় তাঁহারা বৃহত্তর রাজনৈতিক যুদ্ধের কথা ভুলিয়া গিয়াছেন? খুচরোর মায়ার ইহাই বিপদ। বড় ছবিটির দিকে নজর দেওয়ার আর অবকাশ থাকে না।

-আনন্দবাজার সম্পাদকীয়

ঢাকা, ১৪ মে (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close