আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

জরায়ুমুখ ক্যান্সার: সচেতনতা জরুরি

ডা. নওশিন শারমিন পূরবী:
তলপেটের যে অংশে একজন নারী সন্তান ধারণ করেন তার নাম ইউটেরাস বা জরায়ু। জরায়ুর নিচের দিকে এক ইঞ্চি দীর্ঘ একটি সরু মুখ থাকে যার নাম সারভিক্স বা জরায়ুমুখ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীরা যেসব ক্যানসারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত ৩৫-৫৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায় শহর গ্রাম নির্বিশেষে নারীরা জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে আক্রান্তের হার অপেক্ষাকৃত বেশি। প্রজননতন্ত্রের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অজ্ঞতা, অল্প বয়সে বিয়ে কিংবা অল্প বয়সে দৈহিক মেলামেশা, ঘন ঘন অধিক সন্তান ধারণ এসব পরিস্থিতিতে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক রাখলে কিংবা কোনো নারী একাধিক পুরুষের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টাইপ ১৬, ১৮, ৩১, ৪৫ এবং হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ টু শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে জরায়ুর মুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এইচপিভি টাইপ ১৬ নিজেই এক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ দায়ী। অধিকাংশ মহিলা তাদের জীবদ্দশায় একাধিকবার এইচপিভি দ্বারা আক্রান্ত হন। সংক্রমণের পর ক্যান্সারে রূপ নিতে ২ থেকে ২০ বছর সময় লাগে।
জরায়ুর মুখের ক্যান্সার বোঝার উপায় কী
তলপেটের যে অংশে একজন নারী সন্তান ধারণ করেন তার নাম ইউটেরাস বা জরায়ু। জরায়ুর নিচের দিকে এক ইঞ্চি দীর্ঘ একটি সরু মুখ থাকে যার নাম সারভিক্স বা জরায়ুমুখ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীরা যেসব ক্যানসারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত ৩৫-৫৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়
শহর গ্রাম নির্বিশেষে নারীরা জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে আক্রান্তের হার অপেক্ষাকৃত বেশি। প্রজননতন্ত্রের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অজ্ঞতা, অল্প বয়সে বিয়ে কিংবা অল্প বয়সে দৈহিক মেলামেশা, ঘন ঘন অধিক সন্তান ধারণ এসব পরিস্থিতিতে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক রাখলে কিংবা কোনো নারী একাধিক পুরুষের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টাইপ ১৬, ১৮, ৩১, ৪৫ এবং হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ টু শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে জরায়ুর মুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এইচপিভি টাইপ ১৬ নিজেই এক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ দায়ী। অধিকাংশ মহিলা তাদের জীবদ্দশায় একাধিকবার এইচপিভি দ্বারা আক্রান্ত হন। সংক্রমণের পর ক্যান্সারে রূপ নিতে ২ থেকে ২০ বছর সময় লাগে।
জরায়ুর মুখের ক্যান্সার বোঝার উপায় কী
প্রাথমিক অবস্থায় জরায়ুর মুখের ক্যান্সার তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ নাও করতে পারে। রক্তমিশ্রিত গন্ধযুক্ত সাদা স াব, মাসিক অনিয়মিত হওয়া, দুই মাসিকের বা পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তস াব হওয়া, মাসিক বয়সকালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে রক্তক্ষরণ হওয়া, সহবাসের পর রক্তক্ষরণ হওয়া এবং সেই সঙ্গে কোমর, তলপেট, উরু ও পায়ে ব্যথা এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্তকরণ এখন সহজ
প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ে দুটি সহজ পদ্ধতির নাম ভায়া (ভিআইএ), পে স্মেয়ার। ভায়া পদ্ধতিতে জরায়ুর মুখটি ভালোভাবে উজ্জ্বল আলোর সাহায্যে, ওষুধের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়। পর্যবেক্ষণে যদি জরায়ুর মুখের রং বদলে সাদা বর্ণ ধারণ করে তবে ভায়া পজেটিভ বলা হয়। এই সাদা বর্ণ অল্প সময় স্থায়ী হয়। ওষুধ ব্যবহারে জরায়ুর মুখের রংয়ের পরিবর্তন না হলে তাকে ভায়া নেগেটিভ বলে। ভায়া পজেটিভ হলে কলপোসকপি ও বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়। আর ভায়া নেগেটিভ হলে রোগীকে আশ্বস্ত করা হয় এবং তিন বছর পর আবার পরীক্ষাটি করতে বলা হয়। অতি অল্প সময়ে, খুব সহজে এই ভায়া পরীক্ষা করা যায়। এতে কোনো প্রকার কাটা-ছেঁড়া বা ব্যথা লাগে না। প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার শনাক্তের আরেকটি পরীক্ষার নাম পেপ স্মেয়ার. এতে জরায়ুর মুখ থেকে কিছুটা রস নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয় তাতে কোনো ক্যান্সার কোষ আছে কি না। প্রথম পরীক্ষার ফল নেগেটিভ পাওয়া গেলে এক বছর পর আবার পরীক্ষা করতে বলা হয়। দ্বিতীয় পরীক্ষার ফল যদি আবারও নেগেটিভ হয় তবে এক থেকে তিন বছরের ব্যবধানে এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি পেপ স্মেয়ারের ফলে ক্যান্সার ধরা পড়ে বা ফল নিয়ে কোনোরূপ অনিশ্চয়তা বা সংশয় থাকে তবে দক্ষ ব্যক্তির হাতে কলপোস্কেপি এবং বায়োপসি করাতে হবে।
জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের আরেক পদ্ধতি কলপোস্কেপি। এ পদ্ধতিতে বিশেষভাবে তৈরি অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে যোনিপথ, এর বাইরের অংশ, জরায়ুর মুখের কোষ পর্যবেক্ষণ করে দেখা হয়। যাদের পেপ স্মেয়ারের রিপোর্টে ক্যান্সার আছে বলা হয় অথবা পেপ স্মেয়ার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও যদি জরায়ুর মুখে ক্যান্সার আছে বলে সন্দেহ করা হয় তাদের জন্য এ পরীক্ষাটি উপযোগী।
কোথায় গেলে এই পরীক্ষাগুলো করতে পারবেন
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন জেলা ও সদর হসপিটাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি বিভিন্ন হসপিটাল, ঢাকা মহাখালীস্থ ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে গেলে এসব সেবা পেতে পারেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি জনসচেতনতার অভাবে আমাদের দেশের নারীরা অসুখটির লক্ষণ সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। তাছাড়া প্রাথমিক অবস্থা তেমন কোনো লক্ষণও প্রকাশ পায় না। কিন্তু কার্যকর স্ক্রিনিং বা বাছাই পদ্ধতির অভাবে যখন লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন ভয়ে কিংবা লজ্জায় কাউকে বলা হয়ে ওঠে না। এক সময় নিরুপায় হয়ে যখন ডাক্তারের কাছে আসেন, তখন দেখা যায় রোগ অনেকদূর বিস্তার লাভ করেছে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পর্যায়সমূহ
জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কয়েকটি পর্যায় আছে। রোগের বিস্তারের ওপর নির্ভর করে এই পর্যায়গুলো নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সাধারণভাবে রোগের বিস্তারের গভীরতা অনুযায়ী জিরো বা শূন্য থেকে শুরু করে স্টেজ ফোর বা চতুর্থ পর্যায় পর্যন্ত এটি ভাগ করা হয়ে থাকে। জরায়ু মুখের ক্যান্সার কোন পর্যায়ে রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয় চিকিত্সা পরিকল্পনা। যেমন স্টেজ জিরো বা শূন্য পর্যায় হচ্ছে ক্যান্সারের প্রাথমিক অবস্থা, এতে জরায়ু আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক দেখায়। রোগের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে নিয়মিত স্ক্রিনিং বা বাছাই এবং বায়োপসি পরীক্ষায় এটা ধরা পড়ে। এ অবস্থায় চিকিত্সা করলে রোগী সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। অন্যদিকে স্টেজ ফোর মানে হচ্ছে, ক্যান্সার প্রস াবের থলি, মলদ্বারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময় চিকিত্সার তেমন কোনো সুযোগ থাকে না।
চিকিত্সা কেমন হবে
পর্যায় অনুযায়ী শল্য চিকিত্সা বা সার্জারি, রেডিয়েশন বা বিকিরণ এবং কেমোথেরাপি বা ওষুধের মাধ্যমে এই ক্যান্সারের চিকিত্সা করা হয়।
ক্ষেত্রবিশেষে টিকাও আছে
জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস জিআই টাইপ ১৬, ১৮ প্রতিরোধে ৭০-৮০ ভাগ কার্যকর টিকা রয়েছে। আমাদের দেশেও পাওয়া যায়।
প্রতিকারই উত্তম
ক্যান্সার নামক মারণব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার জন্য সতর্কতা হিসেবে ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে না করা, ২১ বছর বয়সের আগে সন্তান ধারণ না করা, বহু বিবাহ পরিহার করা, একাধিক লোকের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলা যেতে পারে। সমবেত প্রচেষ্টায় জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা কঠিন কিছু নয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close