আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

মরণব্যাধি লিভার সিরোসিসে থেকে বাচঁতে করণীয়

he_liverওমেনঅাই: দেহের সকল বর্জ্যপদার্থ বের করে দেহকে সুস্থ রাখাই লিভারের কাজ। আর আমাদের দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির মারাত্মক একটি রোগের নামই হচ্ছে লিভার সিরোসিস। এই রোগে লিভার পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে। অর্থাৎ লিভার হারায় তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা যার ফলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই মরনব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। কিন্তু আমরা খুব সহজেই এই মারাত্মক রোগটি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি। সামান্য একটু সতর্কতায় বেঁচে যেতে পারি। জানতে চান কীভাবে?

১) টিনজাত বা বোতলজাত খাবার ও প্রসেসড ফুড একেবারেই খাবেন না
সময়ের অভাব এবং সতর্কতার অভাবে দিনে দিনে এই সকল প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম ফ্লেভারে ভরপুর টিনজাত বা বোতলজাত খাবার ও প্রসেসড ফুড যা ক্ষতিকর খাবার হিসেবেই পরিচিত তা আমরা খেয়ে যাচ্ছি। এইসকল প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম ফ্লেভার আমাদের লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আমাদের যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কোন ধরনের আর্টিফিশিয়াল খাবার খাওয়া উচিত নয়, এতেই আমরা থাকবো ঝুঁকিমুক্ত।

২) সঠিক খাবার খাওয়ার অভ্যাস
যে খাবারগুলো সহজে হজম হবে এবং হজমশক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকর সেধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। সালফার সমৃদ্ধ খাবার খান ও ফ্যাট যুক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ব্রকলি, সবুজ শাক, বাঁধাকপি এবং ফুলকপি লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। এছাড়া কাঁচা পেঁয়াজ এবং রসুন লিভারের জন্য ক্ষতিকর টক্সিনকে দেহ থেকে দূর করতে সহায়তা করে এবং লিভারের সুস্থতা নিশ্চিত করে।

৩) ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন
সিগারেট এবং মদ লিভার সেল নষ্ট করে দেয়ার জন্য দায়ী অন্যতম প্রধান জিনিস। সামান্য পরিমান মদ্যপান এবং ধূমপান হতে পারে হেপাটাইটিস এবং লিভার সিরোসিসের মত মারাত্মক রোগের কারন। সুতরাং ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং এই মরনব্যাধি থেকে দূরে থাকুন।

৪) নিয়মিত সঠিক পরিমাণে পানি প্যানের অভ্যাস করুন
পানি আমাদের লিভারের জন্য ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। যারা পানি কম পান করেন তাদের লিভারের নানা সমস্যায় পড়তে দেখা যায় হুট করেই। তাই পানি কম খাবেন না। দিনে অন্তত ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন।

৫) প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ খাবেন না
অনেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঔষধ খান। কিন্তু এটি লিভারের জন্য অনেক ক্ষতিকর। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না। বিশেষ করে কোন ব্যথানাশক ঔষধ। ব্যথানাশক ঔষধে ব্যবহৃত এনজাইম লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে লিভার ড্যামেজ করে দিতে সক্ষম। সুতরাং সাবধান থাকুন।

৬) নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
শারীরিক পরিশ্রম দেহে মেদ জমার পাশাপাশি লিভারে মেদ জমতে বাধা প্রধান করে থাকে। এতে করে লিভার সংক্রান্ত রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। গবেষণায় দেখা যায় দিনে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যায়াম লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের মাধ্যমে লিভারের মারাত্মক সমস্যা থেকে দূরে থাকুন।

সূত্রঃ care2.com

ঢাকা, ১১ জুন (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close