আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাক্ষাৎকার / ব্যক্তিত্ব

সমকালীন ঔপন্যাসিকদের অন্যতম সেলিনা হোসেন

Selinaওমেনঅাই: বাংলাদেশের সমকালীন ঔপন্যাসিকদের অন্যতম সেলিনা হোসেন। এ সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সঙ্কটের সচেতন বর্ণনা পাওয়া যায় লেখায়। পাশাপাশি আবহমান বাঙালী ধারণার মূলধারার ভাব নির্যাস তার লেখালেখির মূল শক্তি। তার গল্প-উপন্যাস ইংরেজি, রুশ, মেলে ও কানাড়ী ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিখ্যাত এ লেখিকা ১৯৪৭ সালের এই দিনে (১৪ জুন) রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
সেলিনা হোসেনের পৈতৃক বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার হাজীরপাড়া গ্রাম। তার বাবার নাম এ কে মোশাররফ হোসেন ও মা মরিয়মন্নেসা বকুল। বাবার আদিবাড়ি লক্ষ্মীপুর হলেও চাকরিসূত্রে বগুড়া ও পরে রাজশাহী থেকেছেন দীর্ঘকাল।
১৯৫৪ সালে বগুড়ার লতিফপুর প্রাইমারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন সেলিনা। ১৯৫৯ সালে রাজশাহীর নাথ গালর্স স্কুলে ক্লাস এইটে ভর্তি হন। এ স্কুল থেকেই ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী উইমেন্স কলেজে ভর্তি হন। কলেজজীবন শেষ করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ সময় তার জীবনে যুক্ত হল নিবিড় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধ্যায়। এখান থেকে ১৯৬৭ সালে বিএ অনার্স ও ১৯৬৮ সালে এমএ পাস করেন।
সেলিনা হোসেনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে। ১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে চাকরি পাওয়ার আগে পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত উপ-সম্পাদকীয় লিখতেন। ১৯৭০ সালে দুটি চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য চিঠি পান। একটি বাংলা একাডেমিতে, অন্যটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে সরকারি কলেজের জন্য। বাংলা একাডেমির চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন বাংলা একাডেমির তৎকালীন পরিচালক কবীর চৌধুরী, ড. মুহম্মদ এনামুল হক, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন প্রমুখ। পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বোর্ডে শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে পান। কর্মরত অবস্থায় তিনি বাংলা একাডেমির অভিধান প্রকল্প, বিজ্ঞান বিশ্বকোষ প্রকল্প, বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলী প্রকাশ, লেখক অভিধান, চরিতাভিধান ও একশত এক সিরিজের গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ২০ বছরেরও বেশি সময় ‘ধান শালিকের দেশ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন চাকরি থেকে অবসর নেন। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘জলোচ্ছ্বাস’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
উপন্যাস, গল্প, ভ্রমণ ও প্রবন্ধ ধরনের বিষয়ে তার অর্ধশত বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— জলোচ্ছ্বাস (১৯৭৩), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬), মগ্ন চৈতন্যে শিস (১৯৭৯), যাপিত জীবন (১৯৮১), নীল ময়ূরের যৌবন (১৯৮২), চাঁদবেনে (১৯৮৪), পোকা মাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬), কালকেতু ও ফুল্লরা (১৯৯২), গায়ত্রী সন্ধ্যা (১ম খণ্ড-১৯৯৪, ২য় খণ্ড-১৯৯৫ ও শেষ খণ্ড-১৯৯৬) ও দিনকালের কাঠখড় (২০১৫)।
লেখালেখির জন্য সেলিনা হোসেন অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য হল— ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮০), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪) ও একুশে পদক (২০০৯)।
সূত্র : উইকিপিডিয়া।

ঢাকা, ১৪ জুন (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close