আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অপরাধ

ভয় তাড়া করছে আফগান তরুণীকে!

afganওমেনঅাই:ঘন নীল রঙের ওড়নায় মুখ আড়াল করে রেখেছেন আফগান তরুণী। তার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল দু’টি চোখ।

মুমতাজ। চার বছর আগে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল এক জঙ্গি। একজন সন্ত্রাসবাদীকে বিয়ে করতে রাজি হননি তরুণী। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যুবকটিকে। মেয়ে হয়ে এত জেদ! রক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল ছেলের। ছয় বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে অ্যাসিড ছুড়ে মেরেছিল তরুণীর মুখে। হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল তাকে প্রত্যাখ্যানের জবাবটা, ‘দেখি এ বার কে তোকে বিয়ে করে…!’

আর তার পর থেকেই কঠিন হয়ে উঠেছে জীবন। বহু বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। প্লাস্টিক সার্জারির যন্ত্রণা তো রয়েইছে, সেই সঙ্গে তাড়া করে বেরাচ্ছে ভয়। মুমতাজের দেওয়া সাক্ষ্যে অপরাধীদের ১২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। তার পর থেকেই আতঙ্ক— এই বুঝি ওরা ফিরে এল। এ বার খুনের হুমকি দিয়েছে অপরাধীরা। শুধু ওই তরুণী নন, জানিয়ে দিয়েছে, তাঁর গোটা পরিবারকেই নিকেশ করবে জঙ্গিরা।

আর তাই ঘরছাড়া সেই মেয়ে। পরিবারকে নিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন কুন্দুজ প্রদেশের কোনও এক ঠিকানায়। বন্ধু বলতে পাশে রয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। চিকিৎসা থেকে মামলা-মোকদ্দমার সব খরচ বহন করেছে তারাই।

কী ঘটেছিল চার বছর আগে?

কিশোরী মুমতাজের প্রতি বরাবরই নজর ছিল পড়শি যুবকটির। নাসিরের ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোই বন্ধ করে দেয় গমচাষির মেয়েটি। এ দিকে, যে ছেলের জঙ্গি যোগসাজশ রয়েছে, পাড়ার লোকও তাকে এড়িয়ে যেতেন। মুমতাজদের বাড়ির বাইরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত সে। তা নিয়ে মুমতাজের বাবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়েছিল এক দিন। কিন্তু সে সব পাত্তা দিত না নাসির।

শেষে মেয়ের বিয়ে ঠিক করলেন গৃহকর্তা। ‘অপমানিত’ নাসির ছয় সঙ্গীকে নিয়ে এক দিন রাতে ঢুকে পড়ল মুমতাজদের বাড়িতে। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন তরুণী, ‘আমার চুলের মুঠিটা শক্ত করে ধরে অ্যাসিড ছুড়ে দিল মুখে। আমি তখন প্রাণপণ চিৎকার করছি। আমার ছটফটানিতে অ্যাসিড গিয়ে পড়েছিল মা-বোনের গায়েও।’

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

ঢাকা, ২৩ জুন (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close