আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

জাহানারা ইমাম জাতির আলোকবর্তিকা

jononiওমেনঅাই:জাহানারা ইমাম জাতির আলোকবর্তিকা আর সুফিয়া কামাল ছিলেন বাতিঘর। এ দুই মহিয়সী নারীর কাছে জাতি চিরকৃতজ্ঞ। তাদের ঋণ শোধ করা যাবে না। এই দুই নারীর কাছ থেকেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রেরণা আমরা পেয়েছি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত শনিবার সকালে জননী সাহসিকা সুফিয়া কামাল ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্মরণসভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ।
তুরিন আফরোজ বলেন, ১৯৭১ থেকে ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে কিন্তু ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার পর সবকিছু বাতিল হয়ে যায়।

এর পর মুক্তিযুদ্ধের গোটা ইতিহাস বিকৃত করা হয়। ফিরিয়ে দেওয়া হয় গোলাম আযমের নাগরিকত্ব। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মতো চিহ্নিত রাজাকারকে রাষ্ট্রপতি বানানো হয়, মাওলানা মান্নানের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়। আরও অনেক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হল। জেল-জুলুমের ভয় উপেক্ষা করে জাহানারা ইমাম আপসহীনভাবে রাজপথে নামলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশের মানুষের প্রাণের দাবি। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণআদালত গঠন করলেন। গণআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হল। কিন্তু তা কার্যকর হল না বরং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা করা হয়। আমৃত্যু তাকে মামলার ভার সহ্য করতে হয়েছে। তিনি জাতিকে শিখিয়ে গেছেন, কীভাবে সত্যকে সত্য বলতে হয় এবং সত্য প্রতিষ্ঠা করতে কীভাবে আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়। আজ তিনি নেই, তবে সত্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। জাতি শিখেছে অপরাধ করলে তার বিচার হবেই হবে।

ডা. সারওয়ার আলী বলেন, অনেকে মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন না। জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে সকলকে এক মঞ্চে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ এক সময় শেষ হয়ে যায় কিন্তু তার চেতনাকে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের কোন সময়সীমা থাকে না। তিনি সকলকে ‍মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবেদ খান বলেন, সুফিয়া কামাল কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। পাকিস্তানী স্বৈরশাসক আইয়ুব খান যখন বাঙালী জাতিকে জানোয়ার বলেছেন তখন একমাত্র সুফিয়া কামালই প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, বাঙালী জানোয়ার হলে আইয়ুব খান জানোয়ারের প্রেসিডেন্ট। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামেই সুফিয়া কামাল সক্রিয় ছিলেন।

ঢাকা, ২৮ জুন (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close