আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

অন্যরকম ঈদ উদযাপন

sisuওমেনআই” গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার শিশুপল্লী প্লাসে শত শত শিশু এবং তাদের মা একত্রে ঈদুল ফিতর পালন করেছে।

সবার নির্মল আনন্দ, হাসি-খুশি আর ভালোলাগা একত্রিত হয়ে উৎসবমুখর হয়ে উঠে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের শিশুপল্লী প্লাস। ১৪৮ জন মা এবং তিন শতাধিক শিশু গায়ে নতুন জামা আর পায়ে নতুন সেন্ডেল পরে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামে শিশুপল্লী প্লাসে ঈদুল ফিতর পালন করে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে শিরিন সুলতানা (৩০) বলেন, ‘শত শত শিশু আর তাদের মায়ের একত্রে ঈদ পালনে প্রকৃত আনন্দ পাওয়া যায়। এর প্রমাণ আমি নিজে। সবার হাসি মুখ, সবার গায়ে নতুন জামা। এ দৃশ্য দেখতে যেমন ভালো লাগে তেমনি উপভোগেও আনন্দ। ঈদে এরকম আনন্দ হয় এর আগে আমি তা জানতাম না।’

তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বাহাদুরসাগর গ্রামে। আট বছর আগে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কোলজুড়ে তিন জন পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু অভাব অনটনের সংসারে স্বামী অত্যাচার করতো। যৌতুকের দাবিতে মারধর করতো এবং তিন বেলা নিয়মিত খাবার দিতে পারতো না। অবশেষে স্বামী তালাক দেয়। গত দুই মাস আগে এলাকার এক লোকের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিন পুত্র সন্তান নিয়ে চলে আসেন শিশুপল্লীতে। তিন বেলা খাবার, শিশুদের যত্ন, চিকিৎসা, জামা-কাপড় এবং মাসে ১৫শ টাকা করে ভাতাও দেয়। এখন অন্য মায়েদের সঙ্গে আমিও বেশ সুখে আছি।

করিমন বেগমের (৩০) বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরপাত্রখাতা গ্রামে। পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় পাঁচ বছর আগে। তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন ও জুয়া খেলত। টাকার জন্য স্বামী তাকে শারীরিক নির্যাতন করত। এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়ার পরও অত্যাচার থামেনি। স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে বিয়ের তিন বছর পর সন্তানসহ চলে যান শিশুপল্লীতে।

তিনি জানান, এখানের রয়েছি দুই বছর ধরে। এখানে এসে যতোবার ঈদ করেছি সত্যিকার উৎসবের মতো মনে হয়েছে। এর আগে স্বামীর বাড়িতে থেকে এরকম আনন্দ উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি।

তাদের মতো আরেক মা তাসকিন (৫০) বলেন, ‘ঈদের দিন সবার মতো আমিও একটি নতুন শাড়ি পেয়েছি। সকালে মিষ্টি জাতীয় নাস্তা খেতে পেরেছি। আমার দুই শিশু সন্তান এখানে থাকে। তারা নতুন জামা পেয়েছে। ঈদের দিন দুপুরে পোলাও মাংস খেয়েছি। গত আড়াই বছর ধরে স্বস্তির সঙ্গে ঈদের আনন্দ পুরোপুরি পেয়েছি।’

পরিবার বিচ্ছিন্ন আরেক মা সুমি আক্তার (৩০) বলেন, ‘তিন দিন ধরে উন্নত খাবার খাচ্ছি। টানা তিন দিন মা, শিশুদের নিয়ে নানারকম বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হয়েছে। শিশুপল্লীর সেবকরাও এতে অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা বেশ আনন্দ করেছি।’

শিশুপল্লী প্লাসের কমিউনিকেশন কো অর্ডিনেটর প্রদীপ পিটার রায় বলেন, ‘১৪৮ জন মা এবং তিন শতাধিক শিশু গায়ে নতুন জামা আর পায়ে, নতুন সেন্ডেল পরে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন পর্যন্ত ঈদের নানা রকম অনুষ্ঠানে তারা অংশগ্রহণ করেন।’

শিশুপল্লী প্লাসের ওভারসিজ ডাইরেক্টর পেট্রিসিয়া কার বলেন, ‘সমাজের স্বামী হারা, পরিবার বিচ্ছিন্ন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারের মায়েদের শিশুপল্লীতে অবস্থানের সুযোগ দেয়া হয়। তিন বছর তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। তিন বছর পর তিন মাসের জন্য মায়েদের আলাদা বাসস্থানে থাকতে হয়। পরবর্তী তিন মাস লোকাল কমিউনিটিতে ভাড়া থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়। সর্বশেষ নিজ এলাকায় অবস্থানের তাগিদ দেয়া হয়। এমনি করে স্বাবলম্বী হয়ে প্রতিষ্ঠার জন্য নিজ গ্রামে পাঠানো হয়। এসব ধাপ অতিক্রমের সময় শিশুপল্লী থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সর্বোপরি সমাজে একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একজন মা’কে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে শিশুপল্লী প্লাস।’

এছাড়াও ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অনাথ এবং ওইসব মায়ের শিশুদের প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত সেবা প্রদান করা হয়।

ঢাকা, ২১জুলাই (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close