আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্দোলন সংগ্রামে নারীস্পট লাইট

১৫ বছরের কিশোরী পিএইচডি অর্জনের পথে !

ind42ওমেনআই:১৫ বছরের ভারতীয় কিশোরী সুষমা ভার্মা আগেই দেশটির সর্বকনিষ্ঠ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী হওয়ার মর্যাদা অর্জন করেছিল, আর এখন সে সর্বোচ্চ ডিগ্রি হিসেবে পিএইচডি-ও অর্জন করতে যাচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এক স্যানিটেশন কর্মীর মেয়ে সুষমা গত জুন মাসে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর অর্জন করেছে লখনৌর বাবাসাহেব ভিমরাও আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি থেকে। মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে শুধু এমএসসি সম্পন্নই নয়, সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথমও হয়েছিল সে। এবার একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি’র গবেষণার জন্য ‘এনভায়রোমেন্টাল মাইক্রোবায়োলজি’ বিষয়টিকে বেছে নিয়েছে সুষমা। বিষয়টির ওপর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৭তম অবস্থান অর্জন করেছে সে। বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান নবীণ কুমার জানান, পিএইচডি’র জন্য চারটি আসন শূন্য ছিল। এর মধ্যে সাধারণ শ্রেণি হিসেবে তিনটি আসন এবং সংরক্ষিত শ্রেণিতে একটি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় এত অল্প বয়সে বিশেষ সাফল্যের অধিকারী হিসেবে সুষমার জন্য সংরক্ষিত আসনটি নিশ্চিত করতে বিশেষ বিধান প্রণীত হবে বলে ধারণা করছেন কুমার। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক আর সি সবতি জানান, সংরক্ষিত আসনে অবশ্যই সুষমাকে ভর্তি করা হবে। তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়সে যখন খেলাধুলা করার সময়, তখন উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে এ ধরনের উচ্চতায় এসে পৌঁছেছে সুষমা। অবশ্যই তার মেধাকে আরো উৎসাহিত করব আমরা। তাকে সংরক্ষিত আসনে ভর্তি করা হবে। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা এবং শিক্ষাবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।’ এ বিষয়ে সুষমা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেলে সে দারুণ আনন্দিত হবে। চতুর্থ সেমিস্টারে পড়াকালীন যখন শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হতো, তখনই বিষয়টিতে দারুণ আগ্রহবোধ করেছিল সে। মটর জাতীয় এক বিশেষ ধরনের গাছের শিকড়ে থাকা বিচ্ছিন্ন গোত্রীয় রিজোবিয়াম ব্যাক্টেরিয়ার মতো বিষয় নিয়ে গবেষণাগারে হাতে-কলমে কাজ শুরু করার পর তার এই উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। সুষমার বাবা তেজ বাহাদুর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটেশনের সহযোগী সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তার মা ছায়া দেবি গৃহিণী। ২০০৫ সালে মাত্র পাঁচ বছরের সুষমা উত্তর প্রদেশে শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন সেন্ট মিরা’র আন্তঃমহাবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। সাত বছর তিন মাস ২৮ দিন বয়সে দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাশ করে একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া ‘সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী’ হিসেবে ২০০৭ সালে ‘লিমকা বুক অব রেকর্ডস’-এ যোগ হয় তার নাম। ১৩ বছর বয়সে লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করে সে। তার ভাই শৈলেন্দ্রও ছিল আরেক শিশু বিস্ময়। ১৪ বছর বয়সে বিসিএ ডিগ্রি অর্জনের পর এখন বেঙ্গালুরুতে এমসিএ পড়ার পাশাপাশি কাজও করছে সে। এই ভাই-বোনদ্বয়ের পর পরিবারের সবচেয়ে ছোট্ট সদস্য তিন বছরের অনন্যা এখনই অনর্গল রামায়ণ পড়ে যেতে পারে, পারে হিন্দি আর ইংরেজি ভাষায় নানারকম ছড়া-কবিতা আবৃত্তি করতেও।

ঢাকা, ২৬ জুলাই (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close