আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

রাজিয়া এখন সংসারের জন্য আশীর্বাদ

alam1988_1284985624_1-chash_himaito-bije-blackওমেনআই:পটুয়াখালীর রাজিয়া বেগম। বয়স ৪৫ বছর। পটুয়াখালী জেলার বাউফল সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে কালাইয়া নবরত্ন গ্রামে তার বাড়ি। সারা জীবন দুঃখ ভোগ করেছেন, ঘরে-বাইরে অনুভব করেছেন অভাব, না খেতে পাওয়ার যন্ত্রণা, ভালো কাপড় পরিধান করতে না পারার বেদনা। হতদরিদ্র হিসেবে আরও কত বঞ্চনার কাহিনী যে রয়েছে তার জীবনজুড়ে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ঘরে ভাত আছে তো তরকারি ছিল না, অসুখ হলে ডাক্তার কিংবা ওষুধ মেলেনি কখনও, পেটের ক্ষুধা মেটাতে নিজ গ্রামে কতবার ভোজনে দাওয়াত ছাড়া উপস্থিত হয়েছেন বিভিন্ন বাড়িতে কিন্তু গরিবী বেশ-ভুষা থাকায় তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদেছেন রাজিয়া। জীবনের ভরা মৌসুম কেটেছে দুঃখ-কষ্টের তীব্রতায়। এখন ভাসছেন সুখের সাগরে। টাকা হয়েছে, সম্পদ হয়েছে, হয়েছে ঘরবাড়ি। নিজেকে এক সময় সংসারে বোঝা মনে করলেও এখন স্বাবলম্বী নারী। রাজিয়া এখন ওই সংসারের জন্য আশীর্বাদ। শুধু তাই নয়, এলাকায় অন্য সবার প্রেরণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। তাকে অনুকরণ করছেন অনেকেই। তার দৃঢ় মানসিকতা দিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন নারীর ক্ষমতায়নে হতদরিদ্ররা ও এগিয়ে যেতে পারে। জীবনের আধাবেলা অভাবে পেরিয়ে গেলেও তার বর্তমান সাফল্যের জোগান দিয়েছে এনজি ও আশা। বাউফলের কালাইয়া ইউপির নবরত্ন গ্রামের বাসিন্দা রাজিয়া আশার ভূমিহীন বিলাস গ্রুপের কাতারে শামিল হন ২০১১-এর ২ এপ্রিল। ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় পান ৫ হাজার টাকা। অভাবের ঘানি টানা রাজিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে টাকা পাওয়া মাত্র ৬ বাচ্চাসহ দুধ দেয়া দুটি ছাগল ক্রয় করেন। দুধ বিক্রি করে পরিশোধ করতে থাকেন কিস্তির টাকা। ৩/৪ মাস ব্যবধানে বড় হয়ে যায় বাচ্চাগুলো। ৩টি বাচ্চা বিক্রি করে কিস্তি দিলেও ৩ বাচ্চা আর পুরনো দুটিতে সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। আবার বছর ঘুরতেই প্রথম ক্রয়ের ছাগল দুটি ৮টি বাচ্চা দেয়। এভাবে ৩ বছরের ব্যবধানে রাজিয়া নিজেকে যোগ্য নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন ওই এলাকায়। বর্তমানে তার ফার্মে ৩৪টি ছাগল রয়েছে। গত বছর ১৭টি ছাগল বিক্রি করেছেন। রাজিয়া বলেন, “এ্যাহন আমার মোতো এত সুখী মানুষ এই কান্দায় নাই। অসুস্থ স্বামীরে ডাক্তার-কবিরাজ দ্যাহাইতে পারি, খাওন পরনে অভাব নাই, ঘরে পানি পড়ে না, পরনের কাপুরের লইগ্যা মাইনস্যের ধারে আত পাততে অয় না। ছাগলে এত লাভ এইয়া দেইক্যা কত মাইনশ্যে এহন ছাগল পালা ধরছে। মইনশ্যে ভাত দেয় নাই, ছাগলে ভাত দেয়, টাহা-পয়সা, ঘর-দুয়ার সব দেছে।”

ঢাকা, ২৬ জুলাই (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close