আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামত

বেবী আপার সাংবাদিকতা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রার কিছু বিশেষ ঘটনা

Baby_সুখদেব সানা:২৫ জুলাই ২০১৪ সাল; অর্থাৎ গত বছরের এই দিনে পরলোকগমন করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক বেবী মওদুদ। যিনি সাংবাদিক মহলে ‘বেবী আপা’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। এদেশের নারী সাংবাদিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম তিনি। গত শনিবার ছিল তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। শ্রদ্ধার সঙ্গে বরেণ্য এই সাংবাদিককে স্মরণ করতে; তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এই বিশেষ স্মৃতিচারণমূলক লেখা।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের স্থানান্তরিত সাপ্তাহিক বিচিত্রা অফিস। সান্তুর রেস্তোরাঁর উপরতলায়। একদিন সকাল প্রায় ১১টা। বেবী আপা তাঁর কক্ষে ডেকে নিলেন আমাকে। একটি নিউজপ্রিন্ট কাগজে নিজের হাতে লেখা শব্দমালা দেখালেন। পনের-ষোলটি বিষয়সংক্ষেপ।………শিরোনাম উচ্চারণ করে বললেন‘বিচিত্রার কভার স্টোরি হবে। একই ধরনের আরও শব্দসম্ভার তোমাকে লিখতে হবে সানা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু! চিন্তাভাবনা করে লিখতে হবে। এই শব্দসম্ভার দিয়েই হবে মূল স্টোরির প্রচ্ছদ। যাও, নিজের টেবিলে বসে এ শব্দগুলো লিখে আনো। আমি একটার সময় বের হবো’এরমধ্যেই লিখে দেখাও।’

এমনিতেই বেবী আপার বিশেষ কোনো অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে আড়ষ্টতায় ভুগতাম; এরপর ডেইলি পত্রিকার মতো মাঝে-মধ্যে সময় বেঁধে দিতেন, যাতে কিছুটা ভীত হয়ে পড়তাম। তবে বেবী আপা যখন হাসিখুশি থাকতেন, সহকর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে মিশতেন, তখন মনেই হতো না যে, আপাকে ভয় পাবার তেমন কোনো ব্যাপার আদতে আছে।
বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে দুই শতাধিক শব্দের সেই শব্দসম্ভার এনে দেখালাম আপাকে। তিনটি শব্দ কেটে দিলেন; সঙ্গে নতুন করে যোগ করলেন আরও চার-পাঁচটি শব্দ। বললেন‘আজ তোমার অফিসের ডিউটি শেষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের সাক্ষাৎকার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর তাদের নিজস্ব কোনো গবেষণা বা পর্যবেক্ষণ থাকলে সেগুলো সংগ্রহ করে আনো। আগামী পরশুর মধ্যে পুরো ম্যাটার রেডি করবে।’ বিষয়টি সম্পর্কে একটা ব্রিফ দিলেন। জানালেন,মূল কাহিনীটি লিখছে,হরিপদ দত্ত।
আমি যথাসময়ের মধ্যে ইব্রাহিম খালেদ ও আবুল বারাকাতের গবেষণার অংশ এবং সাক্ষাৎকার সম্বলিত ম্যাটার রেডি করে বেবী আপার টেবিলে একটি প্রিন্টকপি নিয়ে দেখালাম। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও কয়েকজন পেশাজীবী এবং গৃহিণীর সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার করতে বললেন আপা। সব প্রস্তুত করে দিলাম। এর সপ্তাহদেড়েক পরে (১লা জুন ২০০৭) সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কভার স্টোরি প্রকাশিত হলো-‘মধ্যবিত্তের ডুবন্ত জাহাজ।’ যেখানে ওই শব্দসম্ভারগুলো ইনসাট আকারে সাজিয়ে প্রচ্ছদ ডিজাইন করা। অর্থাৎ প্রচ্ছদেই পাঠককে বোঝানোর প্রয়াস, মূলত কী কারণে বাঙালি মধ্যবিত্ত ডুবছে। অসাধারণ এক গবেষণামূলক প্রতিবেদন।

বিচিত্রার বয়োবৃদ্ধ দশার (প্রচার কমে যাওয়া) কারণে বেশি প্রভাব হয়তো এসব প্রতিবেদনে সৃষ্টি হয়নি, তবে সাপ্তাহিক পত্রিকার সাবজেক্ট-ম্যাটার হিসেবে এমন কাজগুলো যে স্মরণীয় হয়ে থাকার যোগ্য সেই কৃতিত্ব বেবী মওদুদদের মতো সাংবাদিকরাই কেবল পেতে পারেন। সাংবাদিক হিসেবে ততদিনেও আমরা তো শ্রমিকই ছিলাম। মেধা-মননশীলতা বা চিন্তার বিষয়টি প্রায়ই আসতো বেবী আপার থেকেই। আপার অনন্য সাধারণ কিছু গুণের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল নবীন সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশেষত সামাজিক বিষয়ক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দান। শেখ রেহানার মালিকানাধীন বিচিত্রায় রাজনৈতিক সাংবাদিকতা বলতে বোঝাতো বিএনপি-জামায়াত তথা আওয়ামী বিরোধী পক্ষের কঠোর সমালোচনা। এই কাজটিও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে আমাকে দিয়ে সম্পন্ন করে নিতে পারতেন বেবী আপা। আবার বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ক প্রতিবেদনেও আমাকে তিনি দারুণ সাবলীলভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন। আমি সৌখিন সঙ্গীতশিল্পী হওয়ায় গান-চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি নিয়ে আমার কাজকর্মও পছন্দ ছিল আপার। আপাও ছিলেন সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের বিশেষ গুণমুগ্ধ এবং তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। শিশু অধিকার নিয়ে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহকেও আপা খুব পছন্দ করতেন। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখালেখিতে আপার আগ্রহও ছিল প্রবল। সবমিলে বেবী আপার কাছে আমার এক ধরনের সমাদর নিশ্চিত অনুভব করতাম। যদিও ততদিন বিয়ে-থা হয়নি বলে আপাকে অনুরোধ সত্ত্বেও আমাকে বিচিত্রায় প্রমোশন দেননি। বলেছিলেন ‘বিচিত্রার অর্থ সঙ্কট বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে। আমার ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই সানা। তুমি এখনো ব্যাচেলর, তোমাকে যা দিচ্ছি, এছাড়াও তো তুমি টুকটাক এনজিও’র কাজ করেও কিছু আয় করো।’ চাপা কণ্ঠস্বরে মৃদু হাসিমুখে এসব বলার পর মাঝেমধ্যে আপা আমাকে কলম কিংবা প্যাড উপহার দিতেন। আপার বিভিন্ন ধরনের কলম খুব পছন্দ ছিল। এসব গল্প আমাদের শোনাতেন। দেশ-বিদেশে আপার পরিচিতজনদের অনেকেই কলম-ডায়েরি ব্যাগসহ এই ধরনের টুকিটাকি উপহার আপার জন্যে আনতেন বা পাঠাতেন। আমিও মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া নানা রকমের কলম আপাকে উপহার দিয়েছি। কলম উপহারের মধ্যে আপার অসাধারণ সন্তুষ্টি লক্ষ্য করতাম। আমার গ্রামের বাড়ি খুলনার পাইকগাছায়। বাগদা চিংড়ি (বিশ্ববাজারের যা পরিচিতি পেয়েছে ‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে) চাষের সবচেয়ে উর্বর অঞ্চল। একদিন দুপুরে চাঁদপুর থেকে কে বা কাদের পাঠানো বিশাল বড় ইলিশের ভুনা বিচিত্রা অফিসে খেতে খেতে বেবী আপা হাসতে হাসতে বললেন এবার সানা তুমি তোমার এলাকা থেকে বড় বাগদা চিংড়ি আনার ব্যবস্থা করো। অত্যন্ত খুশি মনে গ্রহণ করলাম আপার প্রস্তাব এবং যথারীতি একদিন বাগদার ভুনা রান্না করে বিচিত্রা অফিসের সবাইকে খাওয়ালাম। আর বেবী আপার বাসার জন্য বরফ দেয়া কিছু বাগদা চিংড়ি এবং আড়াই কেজি ওজনের একটি ভেটকি (কোরাল) মাছ পাঠিয়ে দিলাম। এর অনেক আগেই অবশ্য বিচিত্রার প্রমোশনটা আমার করেই দিয়েছিলেন আপা। তাই মাছ খাওয়ানোর পর আপার কাছে নতুন করে চাইবার কিছু ছিল না আমার। ভাবতাম একদিন না চাইতে যিনি আমাকে ফিক্সড কন্ট্রিবিউটরি স্যালারির আওতায় নিয়েছিলেন; মাত্র এক ঘণ্টার আলাপেই বিচিত্রার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী এবং স্পর্শকাতর সাপ্তাহিক পত্রিকায় অতি উৎসাহের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন সেই মহান সাংবাদিকের প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা বরাবরই। যদিও শেষ জীবনে আমার ওপর আপার আচরণটায় অপরিসীম দুঃখ ও আত্মকষ্ট থেকে গেল আমার। তবে আপার ওপর বিন্দুমাত্র ক্ষোভ নেই; বরং আছে অসীম শ্রদ্ধা; নিরন্তর ভালবাসা। কারণ, বেবী আপা আমাকে সবচেয়ে বড় জিনিসটি দিয়ে গেছেন একটি ক্যারিয়ারের সমৃদ্ধ সূচনা; এরপর সাংবাদিকতার প্রকৃত ন্যায়নিষ্ঠা। সেই ক্যারিয়ার আজকের বাংলাদেশের বিত্তশালী ও পেশি শক্তিবহুল লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকতার আমলে হয়তো সমূলেও অকেজো হয়ে যেতে পারে, তাই বলে তো কোনো সৎ নীতি-আদর্শের অপমৃত্যু কাম্য হতে পারে না। মনে হয়েছে, বেবী আপার সঙ্গে শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত যে সম্পর্ক ছিল, সেখানে যথাযথ নীতি-আদর্শের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি অনৈতিকভাবে আপার কাছে কিছু দাবি করতে পারিনি; আপাও আমাকে নিয়ে তেমন কিছু ভাবতে পারেননি। এক্ষেত্রে আমার সাংবাদিকতা জীবন ক্রমে সংকুচিত হতে হতে হোমিও ডাক্তারির পথে অগ্রসরমান হয়েছে। আর অনেকটা অকালেই না ফেরার দেশে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক বেবী আপা। জ্ঞানীজনেরা বলেন মানুষের মৃত্যু হয়, মানবের নয়। আমার মতে, বেবী মওদুদ মরে গেলেও সাংবাদিক বেবী আপা আমাদের মতো অনেকের কাছে চিরকাল জীবিত; চিরভাস্বর। তাঁর সজ্জনতার প্রমাণ আর কেউ না পেলেও, আমি পেয়েছি।

প্রায়ই শুধু যে সাদা কাপড় এবং সাদা ব্লাউজ পরতেন তাই-ই নয়, বাস্তবেও খুব সাদামাঠা জীবনের অধিকারী বেবী আপা অনেক বছর ধরে একাধিক রোগ বহন করে চললেও তাঁর কর্ম বা পারিবারিক জীবনে তেমন নেতিবাচক প্রভাব ছিল বলে বুঝতে পারিনি। অসম্ভব আত্মপ্রত্যয়ী এবং পরিশ্রমী একজন নারী সাংবাদিক ছিলেন তিনি। একবার তাঁর বাসায় বিচিত্রার সকল স্টাফকে দাওয়াত করলেন। নিজ হাতে নানা পদের রান্না করে নিজের হাতেই সবাইকে মধ্যহ্নভোজ খাওয়ালেন। কী যে চমৎকার আতিথ্য! মজাদার রান্না! অত্যন্ত স্নেহময়ী এই সাদাসিধে মানুষটি যে ভেতরে ভেতরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন কবে, সেই ভয়ঙ্কর বার্তাটি হয়তো তিনি সময়মতো জানতেও পারেননি, ঘনিষ্ঠ কাউকে জানাতেও পারেননি। অবশেষে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়েও হার মানলেন। ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই শুক্রবার বিকেলে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহপাঠী বান্ধবীদের অন্যতম প্রধান ছিলেন বেবী মওদুদ। বেবী আপার মৃত্যুর পর হাসপাতালে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রিয় বান্ধবীর মৃতদেহ দেখতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিও ফুটেজটা পর্যবেক্ষণ করলেই অনুভব করা যাবে যে, বান্ধবী বেবীর প্রতি বান্ধবী হাসিনার কতটুকু আত্মার সম্পর্ক ছিল! পরমাত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে মানুষ যেমন অনেকটা দিশাহীনভাবে স্বজনের মৃতদেহের দিকে বিলাপ করতে করতে ছুটে চলে এলোমেলো পদে, প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের ইউনাইটেড হাসপাতালে প্রবেশের দৃশ্যটি ছিল তদ্রুপ। মৃত্যুর দিনে যে বান্ধবীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই আবেগ-স্নেহ-ভালবাসা-শ্রদ্ধার্ঘ; জীবদ্দশায় যে তাঁদের সঙ্গে খুব ব্যাপক স্নেহ-ভালবাসার সম্পর্ক ছিল তা বলাই বাহুল্য। অথচ বিস্ময়কর হলো বেবী আপা কখনো শেখ হাসিনার বান্ধবী হিসেবে সেই প্রভাব কারো সঙ্গে দেখিয়ে যাননি। চলনে বলনেও সেই রকম কোনো অহংবোধ ছিল না। শেখ হাসিনা কিংবা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে একজন বেবী মওদুদের এতোটা গভীর সম্পর্কের ব্যাপারটা মিডিয়ার হাতেগোনা কিছু লোক ছাড়া জানতেনও না, বোঝাও যেত না। ব্যাপকতর প্রভাব-প্রতিপত্তি ও জোর প্রদর্শনের এই যুগে বেবী আপার এমন ‘সাধারণত্ব’ তাঁর মানসিকতা এবং চরিত্রকে নিঃসন্দেহে ‘অনন্য’ এবং ‘অসাধারণ’ মহিমায় অনন্তকাল ভূষিত করে রাখবে বলে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি।

এ প্রসঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত কিছু জানানো দরকার। কর্ম এবং পারিবারিক জীবনে আমার দুঃসময় চলার পর ২০১১ সালের এক সন্ধ্যায় আপার ধানমন্ডির ঝিলিমিলি ফ্ল্যাটে গিয়ে জানালাম ‘আপা এমন অসহায়ত্ব আমার জীবনে আর আসেনি। একটি দৈনিক পত্রিকায় চাকরি করছি, বেতন পাচ্ছি-খাচ্ছি দাচ্ছি চলছি বটে। কিন্তু সাংবাদিকতা হচ্ছে না। বরং ননপ্রফেশনাল হাউজে যত দিন যাচ্ছে, ততই ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে। আমাকে দয়া করে উদ্ধার করেন আপা। একটু কিছু কী করা যায় না আমার জন্য?’ আপার রান্নাঘর পর্যন্ত প্রায় চোখের জল ফেলতে ফেলতে আকুতি করেছি। আপার ছোট ছেলে দীপ্ত (পুটু) ছিল বাসায়। সেও বলল ‘মা, সানা মামাকে কোথাও একটা ভালো চাকরি দেওয়া যায় কিনা দেখেন তো। মামা তো কোনদিন কিছু চায়নি।’ পরে আপা নিজের হাতে করা এক কাপ দুধ চা খাওয়ালেন। চা খেতে খেতে বললেন ‘সানা, আমার কথা কেউ শোনে না; তুমি যেখানে কাজ করছো করতে থাকো, জীবন তো চলছে, এই নিয়ে খুশি থাকার চেষ্টা করো; আমি দেখবো কিছু করা যায় কিনা তোমার জন্য।’ এরপরের ঘটনাগুলো আর কোনদিন কখনো হয়তো লেখা সম্ভব হবে না। কারণ, যে সাংবাদিক আমার পেশাগত জীবনের আইডল কিংবা যিনি আমার মানবিক শিক্ষার উত্তম গুরু, আমাকে নিয়ে তাঁর কোনো বিশেষ অনাগ্রহ অনুধাবন করলেও তা প্রমাণ করব কিভাবে? শুধু এটুকুই বলব বেবী আপার অতি স্নেহের হওয়া সত্ত্বেও আমার আকুতি বেবী আপাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি প্রধানমন্ত্রীর বান্ধবী হয়েও আপা আমাদের জন্য কিছু করতে পারেননি কিংবা করতে চাননি। হয়তো আমি খুশি হতে পারিনি; কিন্তু তাঁর সততাকে উপলব্ধি এবং সম্মান করতে বাধ্য হয়েছি। তাহলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলীয়করণের যে অভিযোগ নানাভাবে করা হয়, তার ভিত্তি কোথায়? নিজের কষ্ট নিবারণে অতি কষ্ট অনুভব করলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে খুশি এই জন্য যে, আমরা যারা কিছুটা নিয়ম মেনে চলায় বিশ্বাসী তাদের জন্য এমন নিরপেক্ষ সরকারই উত্তম। উত্তম এমন ন্যায়নিষ্ঠ সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতা।

বিচিত্রার শ’দুয়েক কপি আমার কাছে আছে। সেখান থেকে অর্ধশতাধিক কপির প্রচ্ছদ কাহিনী আমারই লেখা। কী ছিল সেইসব কাহিনীর ভেতরে? আজকের প্রধানমন্ত্রী গুচ্ছ আকারে সেগুলো দেখলেও হয়তো আমাকে একটি কাজ না হোক, কিছু উপহার দেবেন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সরকারের মধ্যকার অনেক বিশিষ্টজন এমন পরামর্শও দিয়েছেন আমাকে। শেখ রেহানার সম্পাদনায় প্রকাশিত বিচিত্রার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন বেবী মওদুদ। সেই বিচিত্রায় রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বনামে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রচ্ছদ প্রতিবেদনগুলোর অধিকাংশ আমারই করা। ছদ্মনামেও বহু প্রতিবেদন এবং কলাম লিখেছি। যা বেবী আপা, আলম ভাই, শেখর ইমতিয়াজ এবং দুলাল আচার্য্যরাই শুধু জানতেন।

২০০৮ সালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সঙ্কটময় সময়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে হাতে লিখিত একটি চিঠি আসমা আপাকে (বিচিত্রার প্রশাসন কাম হিসাব কর্মকর্তা) দিয়ে স্টাফদের পড়িয়ে শুনানোর মধ্য দিয়ে বিচিত্রার প্রকাশনা স্থগিত করেছিলেন বেবী আপা। বন্ধ করা হয়নি বিচিত্রা। ছিল সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা। এরপর বিচিত্রা-কর্মীদের অনেকেই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ পেয়ে গেছেন। একাংশ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। কারো কারো জীবন দুর্বিষহ। বিশেষত, যে নীতি-আদর্শে বিচিত্রার মতো একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় তুলনায় অনেক কম বেতনে এক পরিবারের মতো হয়ে সবাই কাজ করতেন, সেই নীতি-আদর্শের পরিপন্থী বা বিপরীত আদর্শে কাজ করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এই বিষয়টি বেবী আপাকে অন্তত আমি শেষবারের মতো বুঝাতেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি। জানি না, আপার মনের মধ্যে আমাদের মতো ছাপোষা সাংবাদিকদের নিয়ে কেউ কোনো বিষবাষ্প ঢুকানোর অপচেষ্টা করেছিলেন কি-না। তবে বেবী আপা আমাকে সব সময় আস্বস্ত করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, তুমি একাধিক আন্তর্জাতিক মানের পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক; তোমার যদি চাকরি না হয়, তাহলে হবে কাদের? আপার এই প্রশ্নের উত্তর মিলাতে পারলাম না আমি!

বেবী আপার মহৎ গুণ ছিল তিনি আমার ফোন প্রায় সব সময়ই রিসিভ করতেন। তাঁকে পাঠানো চিঠি পড়ে আমার দুঃখবোধকে সংক্ষেপে সান্ত¡না দেবার চেষ্টা করতেন। আর ওই একটি কথাই বলতেন‘আমার কথা কেউ শোনে না সানা।’ বাস্তবতাও মনে হয়েছে তাই। বেবী আপা তাঁর তিন জুনিয়র সাংবাদিক কাম সম্পাদকের কাছে আমাকে যেতে বলেছিলেন সিভি নিয়ে। গিয়েছিলাম। পাত্তা দেননি মিডিয়া মোঘলেরা। ফিউশন ভেবেছি আমি যদি কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতাম, এবং আমার যদি বেবী মওদুদের মতো একজন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক বন্ধু থাকতো, তাহলে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার বানাতাম বেবী মওদুদকে। আর সাংবাদিকতার নৈতিকতা ঠিক করতাম বেবী আপার মতো একজন ক্ষমতার বলয়ে বিচরণকারী বান্ধবী অথচ অতি সাধারণ সাংবাদিকের নীতির মতোই। যেখানে সাংবাদিকের মূল্যায়ন এবং চাকরি হবে শুধু কাজ আর সাংবাদিকতার নীতি-আদর্শ বা বৈশিষ্ট্যের মাপকাঠিতে। মুখ চিনে কিংবা অদৃশ্য আদেশ-নির্দেশ-অনুরোধ কিংবা পেশিশক্তি বা সিন্ডিকেটের প্রভাবে নয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেবী আপার সহায়তায় বিচিত্রার অনেকেই নাকি বিভিন্ন কাজকর্ম বা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। আমি পাইনি। অবশ্য চোখের সামনে দেখছি বিচিত্রার অধিকাংশই সরকারের কোন না কোন দপ্তরে কাজ পেয়েছেন; কিন্তু আমি সুখদেব সানা এবং দুলাল কৃষ্ণ আচার্য্য এই দু’জনের জন্য বেবী আপা কিছু করতে পারেননি। যদিও এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সঙ্কটকালে আকস্মিকভাবে স্থগিত করে দেয়া বিচিত্রাকর্মীদের জন্য বেবী আপার যে কিছু করণীয় বা দায়বদ্ধতা ছিল, তা বলাই বাহুল্য। হয়তো এই কারণে বিচিত্রার একাংশের জন্য তিনি কিছুটা সহায়ক ভূমিকা পালন করতেও পারেন স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু শুধু বেবী আপাই কেন? বিচিত্রার অভিভাবক তো শুধু বেবী আপাই নন, সম্পাদক শেখ রেহানা আপা কিংবা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপও এক্ষেত্রে আমরা আশা করেছিলাম। এখনো আশা করি বিচিত্রা নতুন কলেবরে প্রকাশিত হোক। আমাদের স্বপ্ন-সাধের, নীতি-আদর্শের পুনঃপ্রত্যাবর্তন ঘটুক বিচিত্রার নবযাত্রার মধ্য দিয়ে।

বেবী আপা এতদিন সুস্থ থাকলে কিংবা সুস্থ হলে হয়তো আমাদের জন্য অবশ্যই কিছু করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। এই বিশ্বাস কারো না থাকলে, আমার ছিল। কেননা, টানা পাঁচ বছর আপার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অসংখ্যবার আকুতি করেছি আপা, আপনি যে সাংবাদিকতার প্যাটার্নে আমাদের দীক্ষিত করেছেন, সেটা হয়তো এদেশের বিশাল বিশাল মিডিয়ামোঘলরা, মিডিয়ামোড়লরা বুঝতে পারছেন না, কিংবা বুঝতে চাইছেন না; যে কারণে মূলধারার প্রায় কোনও সংবাদমাধ্যমে বিচিত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের চাকরি হলো না! বাস্তবতা হলো গত প্রায় ছয় বছর ধরে দেশের অন্তত এক ডজন সংবাদমাধ্যমের দুই ডজন গ্রেট সাংবাদিকের কাছে বায়োডাটা পাঠিয়েছি। কোথাও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে; কোথাও আগে থেকে পরিচয় দিয়ে; কোথাও বা বিশেষ আবেদনপত্রসহ। মনে হয়েছে, কেউ বায়োডাটাটি পড়েনওনি! সামান্য ক্ষেত্রে পড়লেও যাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না, তাকে পাত্তা দেন না। কিংবা হতে পারে, শেখ রেহানা বেবী মওদুদের বিচিত্রার সাংবাদিক? এরা কী আসলে কোনো সাংবাদিক?

একটি বিশেষ কষ্টকর অনুভব প্রকাশ করার জন্য শুরুতে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বেবী মওদুদকে ওপর থেকে তার পরিচিত প্রায় সব সাংবাদিক শ্রদ্ধার চোখে দেখলেও, অধিকাংশক্ষেত্রেই বাস্তবতা তার বিপরীতই মনে হয়েছে। হয়তো আমার অভিজ্ঞতায় ঘাটতি কিংবা বিচক্ষণতায় অগভীরতা থাকতে পারে। তবে বিস্তর অভিজ্ঞতা থেকে সামান্য একটু তুলে ধরলেও প্রসঙ্গটার সত্যাসত্যের বর্ণনা কিছুটা বর্ণময় হতে পারে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) সাংবাদিক নিয়োগের একটি ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ বোর্ডে চারজন। প্রথমজন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাম বাসস কর্তা, দ্বিতীয়জন বেবী আপার অত্যন্ত স্নেহভাজন এক দোর্দন্ড প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক। অন্য দু’জন বাসস প্রতিনিধি। দ্বিতীয়জনের ডান হাতে কলম; সামনে বায়োডাটা এবং চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা সম্বলিত খাতা। প্রথমজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাড়ি কোথায়? খুলনায়। কোথায় কাজ করেছেন? পাঁচ বছর সাপ্তাহিক বিচিত্রায়। দেড় বছর রোববার ও ইত্তেফাকে। এছাড়া স্থানীয় পত্রিকাসহ অন্যান্য অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে বললাম। দ্বিতীয়জন জানতে চাইলেন, ‘সানা’ (উচ্চারণ করলেন ছানা) মানে কি? জি পদবী। এ আবার কেমন পদবী? আমার জবাব, আমাদের এমপি সোহরাব আলী সানা, ইন্ডিয়ান আইডল অমিত সানা….আমি তেমনই সানা। তিনি আরও জানতে চাইলেন, কাজ করেছেন দৈনিক বাংলার বিচিত্রায় না রেহানা-বেবী আপার বিচিত্রায়? রেহানা-বেবী আপার বিচিত্রায়। এবার প্রথমজনের মন্তব্য ‘সমকাল-টালের মতো পত্রিকায় রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলে বাসসে কাজ করবেন কিভাবে?’ দ্বিতীয়জন চোখের সামনে খাতা থেকে আমার নামের পেছনে একটি বড় ক্রস চিহ্ন বসিয়ে দিলেন। আমার মনে হয়েছিল, সেদিন তিনি খাতায় লিপিবদ্ধ ওই তালিকা থেকে আমার নামটিই শুধু কেটে দেননি; কেটেছিলেন বেবী আপার গলাটাও। যখনই বেবী আপার নামটা আমি গর্বভরে উচ্চারণ করলাম, তখনই কলমের আচড়টা আমার নামের পেছনে ঠুকিয়ে ক্রস মেরে দেয়া হলো। অথচ বেবী আপার কুলখানিতে সেই সম্পাদক যেভাবে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, তা অন্তত আমাদের মতো সাংবাদিকের কাছে হলিউডের বিস্ময় সৃষ্টিকারী কাল্পনিক সিনেমার মতোই মনে হচ্ছিল। কিংবা মনে হচ্ছিল আল্ট্রা মর্ডানের নামে নির্মিত কলকাতার সাম্প্রতিক কালের বস্তাপচা অসামাজিক সিরিয়ালের জঘন্য চরিত্রের অভিনেতা অভিনেত্রীদের কল্পেভরা অভিনয় নৈপুণ্যের এক সার্থক প্যারালাল ক্যারেক্টর।
বেবী আপাকে নিয়ে প্রায় সকল সাংবাদিক ইতিবাচক গল্প ঝাড়লেও তাঁর শিষ্য সাগরেদদের প্রতি এহেন আচারণ প্রকারান্তরে বেবী আপাকে এক ধরনের অবজ্ঞা বা ঘৃণা প্রদর্শনেরই নামান্তর ছাড়া আর কী?

বেবী আপা আর দেশের এসব মিডিয়ামোঘল ধরনের সাংবাদিকের মধ্যে আমি এই যে মনোব্যবধান বা নীতি আদর্শগত পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করেছি এটাই হলো একজন ‘প্রকৃত’ সাংবাদিকের সঙ্গে বহুজন ‘লেজুরবেত্তা’ সাংবাদিকের পার্থক্যের সমতুল্য। মনে হয়েছে, আমাদের দেশের সাম্প্রতিক সাংবাদিকতায় ন্যূনতম মানবিকতা কিংবা সামাজিকতাটুকু দিন দিন পরাহত হচ্ছে। সুতরাং এমন সময়েই বেবী আপাদের মতো সাংবাদিকের শূন্যতা অন্তত আমাদের মতো একাগ্রচিত্ত ন্যায়নিষ্ঠ কাজপাগল সাংবাদিকদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

আপার কাছে ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা থাকবে অন্তত একটি ব্যাপারে। তা হলো ২০০৭ সালে দুর্নীতি বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) থেকে প্রিন্ট মিডিয়ায় জাতীয় পর্যায়ে একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে আমার সেরা পুরস্কার অর্জনের ঘটনা। ডায়াবেটিস ছাড়াও আপার টুকিটাকি শারীরিক জটিলতা ছিল বলে এক সময় ধানমন্ডির শঙ্কর এলাকায় ডা. ফজলুল-এর কাছে আমাকে পাঠিয়েছিলেন তার একটা সাক্ষাৎকার আনার জন্য। এখান থেকেই রিপোর্টটির প্রথম ধারণা। আপা বছরে কয়েকবার শরীর চেকআপ করাতেন। এর ফলে ঢাকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ে তাঁর মনে যথেষ্ট সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। আমাকে বললেন সানা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে একটা ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে হবে। তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। বললেন-নিজের কিছু প্রয়োজনীয় টেস্ট করে নিলে তোমারও এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা হবে। বেবী আপার কথামতো শুরু করলাম নিজের শরীর চেকআপের মাধ্যমে অনুসন্ধান। এ বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা আমারও বেশ। ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ এবং ভারতে আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়-স্বজন মিলে অন্তত ডজনখানেক রোগীকে ওই প্রতিবেদন তৈরির আগে সরাসরি চিকিৎসা করিয়েছি আমি। আমার আপন ন’ভাই প্রায় বিশ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসা করাতে গিয়েও বিস্তর অভিজ্ঞতা হয়েছে। নিজেও বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছি। এছাড়া জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের একজন স্টাফ প্রায় ৬ বছর ধরে আমার বাবর রোডের বাসার রুমমেট ছিল। তার সুবাদে ঢাকার অনেক চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে এক ধরনের যোগসূত্র তৈরি হয় আমার। এ ব্যাপারে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ নেতিবাচক এবং আমিও এ বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য বেবী আপাকে বলব বলব করেও বলা হয়নি। কারণ, এর কয়েক মাস আগে বিচিত্রায় ‘চিকিৎসা এখন সেবা নয় বাণিজ্য’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছিলাম। সবমিলে বেবী আপার এবারের অ্যাসাইনমেন্টটি আমার জন্য ছিল ‘সৎপাত্রে কন্যাদানের’ই মতো। খুব মনোযোগ দিয়ে প্রতিবেদনটি করলাম। প্রায় মাসখানেক সময় লেগে গেল। বিচিত্রার অধিকাংশ কাজ আমার বাসার কম্পিউটারে রাত-দিন খেটে প্রায় ছাপারযোগ্য করে দিতাম। একইভাবে এ প্রতিবেদনটিও দিলাম। সমস্যা হলো আলম ভাই (আবু আলম মোহাম্মদ শহিদ খান) প্রথম প্রশ্নটা তুলেছিলেন। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাত্র…বছরে …টাকার মালিক বনে গেছে। এই ধরনের তথ্যের সত্যতা এবং তার স্বপেক্ষে এভিডেন্স কোথায়? দ্বিতীয় প্রশ্ন তুলেছিলেন তখনকার বিচিত্রার সহকারী সম্পাদক শেখর ইমতিয়াজ। এতো এতো তথ্য, অথচ এসব নিয়ে মামলা হলে প্রমাণ দেওয়া যাবে তো? বেবী আপা বললেন, সানা তোমার ওপর আমার আস্থা আছে; কিন্তু রিপোর্টের স্বপক্ষে তোমার কাছে কিছু আছে তো? আপাকে বললাম, যেকোনো আইনি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই রিপোর্ট ছেড়েছি। ছাপার দায়িত্ব আপনার; এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তও আপনার। ‘ডায়াগনস্টিক সেবার নামে প্রতারণা’ শিরোনামে অনন্য সাধারণ এক প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশিত হলো বিচিত্রার ৭ এপ্রিল ২০০৬ সংখ্যায়। মাসুক হেলাল (বর্তমানে প্রথম আলোর সিনিয়র আর্টিস্ট)-এর করা কভারটি দেখলেই ভেতরে যেতে মন চাইবে কৌতূহলী পাঠকের; আর ভেতরে গেলেই বোঝা যাবে কি ছিল রিপোর্টে। সেই রিপোর্টের জন্যই আমার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুরস্কার অর্জন। সুতরাং সাংবাদিক হিসেবে বেবী আপা আমার মাথার মুকুট। আপা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিলেন। দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যথেষ্ট সময়ও দিয়েছিলেন। আবার হুঁশিয়ারও করেছিলেন ‘রিপোর্ট যেন ভালো হয় সানা।’ আমি বেবী আপার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলাম। ‘ডায়াগনস্টিক সেবার নামে প্রতারণা’ শিরোনামের বিচিত্রায় প্রকাশিত সেই রিপোর্টের জন্য ২০০৭ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রিন্ট মিডিয়ার একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেছিলাম। বেবী আপার নেতৃত্বে করা এই রিপোর্ট সম্পাদনার কৃতজ্ঞতা দিতে হবে আরো তিনজনকে। আলম ভাই, শেখর ইমতিয়াজ এবং দুলাল আচার্য্য।

২০০৮ সালের মে মাসে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবল নজরদারির কারণে বেবী আপার মৌখিক এক আদেশে বিচিত্রা স্থগিত হওয়ার আগ পর্যন্ত টানা প্রায় পাঁচ বছর আপার সঙ্গেই কাজ করেছি। এরপর ২০০৮-এর ১৪ জুলাই সাপ্তাহিক রোববার-এর সিনিয়র রিপোর্টারের (ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সম্পাদক) দায়িত্ব এবং একইসঙ্গে এক পর্যায়ে দৈনিক ইত্তেফাকের ‘এইনগরী’ ফিচার পাতার বিভাগীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার পর এই হাউজের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে চাকরিহারা হয়ে যাই। এরপর থেকে বর্তমান পর্যন্ত যেভাবে আমার সাংবাদিকতা জীবন অতিবাহিত হচ্ছে তা নিছক ‘রেসের ঘোড়া দিয়ে গাড়ি টানা’র মতোই। গত প্রায় ছয় বছর ধরে সাংবাদিকতার একটি চাকরি করছি মাত্র। এখানে একজন সাংবাদিকের ন্যূনতম যে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের দায় থাকে, তা পালন হচ্ছে না। তার তেমন সুযোগও এখানে নেই। এ কারণে মানসিকভাবে উৎপীড়িত। তারপরও শুধুমাত্র একটি বিষয়ই আমাকে আজও সাংবাদিকতায় পরম সুখানুভবে মোহাবিষ্ট করে রেখেছে। সাপ্তাহিক বিচিত্রার দুটি প্রতিবেদনের জন্য যথাক্রমে টিআইবি এবং ইউনিসেফ পুরস্কার অর্জন। আগেরটি ছাড়াও ২৫ জানুয়ারি ২০০৮-এ প্রকাশিত প্রচ্ছদ কাহিনী ‘শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতন বিবর্ণ মানবিকতা’ প্রতিবেদনের জন্য ইউনিসেফ-এর মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। এরপর সাপ্তাহিক রোববার ও একটি বিশেষ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত শিশু অধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্যও ইউনিসেফ প্রদত্ত মীনা মিডিয়া পুরস্কার পেয়েছি। অর্থাৎ ২০০৭ সালে টিআইবি এবং ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে টানা ইউনিসেফ পুরস্কার অর্জনই আমাকে আজও সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত রেখেছে। তা না হলে হয়তো, আমার সাংবাদিকতা জীবন বলে কিছুই থাকতো না। আর এই অর্জনের পেছনে বেবী আপার উৎসাহ এবং সামাজিক সমস্যা-সঙ্কুলতা নিয়ে তাঁর চমৎকার চিন্তা-ভাবনাই আমাকে এই ধরনের কাজে অগ্রসর করেছে। সুতরাং অকপটে স্বীকার করব বেবী আপা আমার সাংবাদিকতা জীবনের সত্যিকারের প্রধান শিক্ষক। আর প্রথম শিক্ষক আমার আপন সেজ ভাই জগদীশ সানা। যার হাতে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। বেবী আপা বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট দিতেন এবং আমি আমার দাদা জগদীশ সানার সঙ্গে অনেক বিষয় শেয়ার করে তার থেকেও বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও সতর্কতার ব্যাপারে অবহিত হতাম। এভাবেই আমার সাংবাদিকতার থিওরিক্যাল গুরু দাদা এবং প্রাকটিক্যাল গুরু বেবী আপা। উল্লেখ্য, জগদীশ সানা ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স করে ম্যাস্লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি)-এ চাকরি জীবন শুরু করেন দেশের জাতীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্য দিয়ে। এ বিষয়ে তার লেখা কয়েকটি গ্রন্থও রয়েছে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার শুরু হয়েছিল এই সংস্থার মাধ্যমে ওই হাউসের স্টাফদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে।

বেবী আপার অ্যাসাইনমেন্টে করা আরেকটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ না করলে আপার সাংবাদিকতার ব্যাপ্তি (ডাইমেনশন] সম্পর্কে কৌতূহলী পাঠকের অপূর্ণতা থেকে যাবে। ৯ম বর্ষ ৩৩ সংখ্যা ২২ জুন ২০০৭-এ ‘সাদা কালোয় দেখা সিআরপি’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি আমার সাংবাদিকতা জীবনে এখন পর্যন্ত সেরা কাজ বলে মনে করি। যদিও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য টিআইবি পুরস্কার পেয়েছিলাম ‘ডায়াগনস্টিক সেবার নামে প্রতারণা’ প্রতিবেদনের জন্য। কিন্তু সেরা কাজ ‘সাদা কালোয় দেখা সিআরপি’। কারণ, বিচিত্রায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের আগে সিআরপির তৎকালীন সঙ্কট এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ভেলরী টেইলরকে নিয়ে প্রথম আলোসহ দেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিক এবং প্রথম শ্রেণীর সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোতে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিল, সেখানে শুরু থেকে দীর্ঘ বছর ধরে সংঘটিত সিআরপির অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির বিষয়গুলোর প্রকৃত এবং গভীর অনুসন্ধানে না গিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যক্তি ভেলরী টেইলরের ওপর এদেশের কিছু কর্মকর্তা বিশেষত সিএম শফি সামি, অ্যালবার্ট মোল্লাদের দায়ী করে একটি গণআবেগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর ফলে সিআরপিতে সংঘটিত প্রকৃত সঙ্কট কী এই তথ্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছিল। বেবী আপা আমাকে সিআরপির প্রকৃত সমস্যা কী এ বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট দিলেন। একদিন গেলাম। সঙ্গে আমার আরেক সাংবাদিক বন্ধু রুশো তাহের। তিনি বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি তখন বিচিত্রার কন্ট্রিবিউটর। প্রথমদিন গিয়ে খোঁজ নিলাম। পরেরদিন অফিসে এসে বেবী আপাকে বললাম, সিআরপির সঙ্কটটি জটিল। এই সঙ্কটের প্রকৃত রহস্য তুলে আনতে হলে অন্তত পনের দিন লাগবে। আপা সায় দিলেন। বললেন, ‘প্রকৃত রহস্যই চাই।’ সেই মোতাবেক রুশোকে সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধানে নামলাম। সিআরপি নিয়ে বিচিত্রায় প্রকাশিত ‘সাদা কালোয় দেখা সিআরপি’ রিপোর্টটি দেখলে এবং পড়লে যেকোনো পাঠক এবং সাংবাদিক বুঝতে পারবেন, তাতে কী আছে। আশ্চর্যজনক হলো স্বল্পপ্রচারসংখ্যার বিচিত্রায় প্রকাশিত ওই রিপোর্টের কয়েক দিনের মধ্যে দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে সিআরপি নিয়ে আর তেমন রিপোর্ট বা কলাম প্রকাশিত হতে দেখা যায়নি। এবং হঠাৎ এক সময় খবর এলো, সিআরপির সবচেয়ে বড় দাতাসংস্থা ব্রিটেনের এফসিআরপি অনুদান আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। সঠিক তদন্তের পর অনুদানের সিদ্ধান্ত জানাবে। সিআরপি নিয়ে বিচিত্রায় প্রকাশিত এই রিপোর্টটিতে দেশি বিদেশি সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬ জনের সাক্ষাৎকার এবং অনেকের বর্ণনা, মতামত, মন্তব্য ছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই রিপোর্টটির পুরো অংশই আমি পূর্ণ স্বাধীনতায় করতে পেরেছিলাম। সম্পাদনা ছিল একেবারেই নামমাত্র। বলা বাহুল্য, এই রিপোর্টের কারণে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল এবং সাংবাদিক বন্ধুদের অনেকের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কও তৈরি হয়েছে রিপোর্টটির কারণে। সব মহলের অভিব্যক্তিতে একটিই বার্তা অনুমান করেছি, বস্তুনিষ্ঠতায় অসাধারণ ছিল রিপোর্টটি। আমাকে এ ধরনের স্বস্তিদায়ক সামাজিক দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতাটুকুও দিয়েছিলেন বেবী আপা।

যেভাবে খুলেছিল ভাগ্যের দুয়ার : ২০০৩ সালের অক্টোবরের এক বিকেলে প্রথম পরিচয় বেবী আপার সঙ্গে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর এর পাশের এক তলা বাড়ির বিচিত্রা অফিসে। কলকাতার নায়ক রঞ্জিত মল্লিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে হাজির হই বেবী আপার সামনে। মল্লিকদার টালিগঞ্জের উদয়শঙ্কর সরণীর বাড়িতে বসেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকারটি এনেছিলাম আমরা দুই ভাই। বেবী আপা সাক্ষাৎকারটি দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। সেই পরিচয় থেকেই শেখ রেহানা সম্পাদিত (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বেবী মওদুদ) বিচিত্রায় প্রদায়ক হিসেবে কাজ শুরু আমার।
২০০৮ সালের মে মাস। বিচিত্রা স্থগিত হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত ছিলাম বিচিত্রার স্টাফ রিপোর্টার। অনেক সুখস্মৃতি। অনেক দুঃখস্মৃতি। তবে বেবী আপার অসাধারণ স্নেহের কাছে তাঁর সামান্য কিছু কৃপণতা বা অপারগতা একেবারেই তুচ্ছ। বেবী আপা শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না। আমাদের মতো অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন একজন স্নেহময়ী মা, বড় বোনের প্রতীক। সীমিত আয় দিয়েও যে স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন করা যায়, বিষয়টি আমরা বিচিত্রার অনেকেই আপার ব্যক্তি জীবন দেখে শিখেছিলাম। সাদামাটা জীবন যে কতটা আনন্দের হতে পারে বেবী আপাকে কাছে থেকে দেখে তা উপলব্ধি করেছি। জীবনে যত বেশি চাহিদা থাকবে জীবন তত জটিল হবে। সুতরাং চাহিদা কমিয়ে জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার বাস্তব শিক্ষা বেবী আপার কাছ থেকে আমি এবং আমার মতো অনেকেই পেয়েছি।

বিচিত্রার শেষের পাতায় প্রতি সপ্তাহে বেবী আপার একটি নিয়মিত কলাম প্রকাশিত হতো। ‘অন্তরে বাহিরে’ নামে এই লেখাগুলো সঙ্কলিত হয়ে পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। যাতে তাঁর ব্যক্তি জীবনের ছায়া ছিল। আপার মৃত্যুর পর বিচিত্রার সহকর্মী দুলাল আচার্য্য এক কলামে লিখেছিলেন, “সাংবাদিক মহলে বেবী আপাকে নিয়ে উপলব্ধি ভাল-মন্দ মিলিয়েই। ভাল উপলব্ধির সাংবাদিকের সংখ্যা যে খুব একটা বেশি তাও নয়। তবে আমি কাছ থেকে যে বেবী আপাকে দেখেছি সেই আপা একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও স্নেহময়ী আদর্শ। একজন সংগ্রামী ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক। বেবী আপা আমাদের যা শিখিয়েছেন তা আমরা ভুলব না। অন্যায়কে অন্যায়, অসত্যকে অসত্য বলার দৃঢ় সাহস আমরা আপার কাছেই শিখেছি।” আমি দুলালদার এই মন্তব্যে সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করি। একইসাথে অনুরোধ করব কৌতূহলী পাঠকদের। বেবী আপার ‘অন্তরে বাহিরে’ সংকলন গ্রন্থটি সংগ্রহ করে পড়ার জন্য। তাহলে তাঁর সাংবাদিকতা এবং মানসিকতা সম্পর্কে আরো ধারণা লাভ করা যাবে।
আজ ২৫ জুলাই। গত বছর এই দিনে গত হয়েছেন বেবী আপা। দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত দুঃখের হয়ে থাকবে। সাংবাদিকতা জীবনে যে অর্জনের জন্য চিরকাল গর্ব করব সেই অর্জনের পেছনের কারিগর মূলত বেবী আপা। তাঁর আত্মার অপার শান্তি কামনা করি; পরিবার-পরিজন-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা।

লেখক : সাপ্তাহিক বিচিত্রার সাবেক স্টাফ রিপোর্টার। যুগ্মবার্তা সম্পাদক, দৈনিক আজকের প্রত্যাশা।

ঢাকা, ২৬ জুলাই (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close