আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাক্ষাৎকার / ব্যক্তিত্ব

বাংলা সাহিত্যের দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

robindronathওমেনআই: শ্রাবণের নীলাকাশে ভাসে মেঘ, রাগে মেঘ আর বৃষ্টিরা তার কথা হয়ে ঝড়ে যায়। মেঘেরা কবিতা হয়। নীলাকাশ উপন্যাসের অথই সাগর হয়। তারই মাঝে জীবনের চরিত্রগুলো মেঘ হয়ে আকাশে ভেসে বেরায়। মেঘগুলো ভেসে ভেসে লিখে যায় কবিতা। ছোটগল্পের মেঘগুলো ভাসিয়ে তোলে কোনো মুখময় ছবি তার। যেন শ্রাবণকে তার সেই অনবদ্য সৃষ্টিশৈলী এখনো লিখে ভরিয়ে তুলছে পৃথিবীময় সব গল্প, উপন্যাস, গীত আর কবিতা…। স্মৃতিময় সেই পাশ ফেরা ছবিখানার কথা মনে হতেই মনে পড়ে যায় বিশ্বকবির মুখখানি। আজ সেই দিবস, বিশ্বকবির ৭৪তম প্রয়াণ।

বাংলা সাহিত্যের দিকপাল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৪ বছর আগে বাংলা ১৩৪৮ সনের এ দিনে (৬ আগস্ট ১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির শ্যামল প্রাঙ্গণে পরলোকগমন করেছিলেন। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির শ্যামল আঙ্গিনায় ১২৬৮ সনের ২৫বৈশাখ (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৮মে) জন্মেছিলেন এই বিশ্বকবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, নাট্যকার, কথাশিল্পী, চিত্রশিল্গী, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, ছোট গল্পকার, ভাষাবিদ প্রভৃতি। তিনি বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোন দিক নেই যা তার লেখার মধ্যে বাদ দিয়েছিলেন।

বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে যার অফুরন্ত অবদান সেই কবি প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে যেদিন ইহধাম ত্যাগ করেছিলেন সেদিন শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন, দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারে কোলে/ বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/ শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।

জন্মদিন নিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ওই মহামানব আসে/ দিকে দিকে রোমাঞ্চ/ মর্তধুলির ঘাসে ঘাসে. . .। সেই তিনিই আবার তার জীবন সায়াহ্নে লিখলেন, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক।

মানুষের শেষ আশির্বাদ নিয়েই এই মহান মানবতাবাদী দার্শনিক কবি অনিঃশেষ অনির্বাণ শিখার মতই জ্বলছেন আজও বাংলা সাহিত্যের সব অঙ্গনেই। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনেক কিছুরই প্রথম তিনি। ছোটগল্পের জনক, এমনকি বাংলা গদ্যের আধুনিকায়নের পথিকৃৎও তিনি। নোবেল জয় করে একটি প্রাদেশিক (তৎকালীন) ভাষাকে বিশ্ব সাহিত্যে স্থান করে দিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত চিঠিও যে কী অসাধারণ সাহিত্য আর দার্শনিকতার দৃষ্টান্ত হতে পারে, তার ছিন্নপত্র সৃষ্টির আগে তার আর কোনো নজির ছিল না। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, অসাধারণ সব দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিসংলগ্ন গভীর জীবনবাদী চিন্তাজাগানিয়া অজগ্র নিবন্ধে, এমনকি চিত্রকলায়ও- সবত্রই রবীন্দ্রনাথ চির নতুন।

রবীন্দ্রনাথই আবার গভীর জীবন তৃষ্ণায় লিখেছেন, মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে/ জীবন হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য জন্ম-মৃত্যুর মাঝে তফাত দেখেছেন খুব সামান্যই। সৃষ্টিই যে এই নশ্বর জীবনকে অবিনশ্বরতা দেয়, সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বলেই তিনি অমন দৃঢ়তায় বলতে পেরেছেন- মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের/মূল্য দিতে হয়/ সে প্রাণ অমৃতলোকে/ মৃত্যুকে করে জয়। তাইতো জীবন-মৃত্যুকে জয় করে আজও কবি শ্রাবণের নীলকাশ মেঘ হয়ে আমাদের মধ্যে বেঁচে আছেন।

ঢাকা, ০৬ আগস্ট(্ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close