আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিকসারাদেশ

যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন বিচারপতি

ওমেন আই ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের সদ্য পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি বলছেন যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একতরফাভাবে তাকে সরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছিল।
এক শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পরে সোমবার ইস্তফা দেন তিনি।
বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, যেভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগের পরে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছিল আর প্রতিদিনই দপ্তরের সামনে অশ্লীল স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ চলছিল, তারপরে সম্মান নিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতও তার ব্যাপারে যে ভূমিকা নিয়েছে, তা পক্ষপাতমূলক।
পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পরের দিন গাঙ্গুলি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সরকার একতরফাভাবে উদ্যোগ নিয়েছিল আমাকে পদ থেকে অপসারন করতে। তারা রাষ্ট্রপতির কাছেও বিষয়টা নিয়ে গিয়েছিল প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্সের মাধ্যমে যাতে সুপ্রীম কোর্টকে দিয়ে তদন্ত করানো যায়। সুপ্রীম কোর্ট অবশ্য আগেই প্রাথমিক তদন্তের সময়ে যে ভূমিকা দেখিয়েছে, তা পক্ষপাতহীন নয়।‌ সবগুলো বিষয়ই আমি ভারতের প্রধান বিচারপতিকে লিখিত আকারে জানিয়েছি, কিন্তু কোনও উত্তর আসে নি ।
“মমতা ব্যানার্জী চাইতেন না যে আমি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান থাকি। সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রথম নির্দেশ দেওয়ার পরের দিনই প্রকাশ্যে আমার সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। “মমতা ব্যানার্জী চাইতেন না যে আমি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান থাকি। সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রথম নির্দেশ দেওয়ার পরের দিনই প্রকাশ্যে আমার সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।‌

যে অভিযোগ কোথাও নথিভুক্ত করা হয় নি, তার ভিত্তিতেই একজনকে পদ ছাড়তে একরকম বাধ্য করা হল বলেও মন্তব্য করেন সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি।
তবে ওই মহিলা শিক্ষানবীশ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন না বা এই নিয়ে অন্য কোনও আইনী পদক্ষেপও তিনি নেবেন না বলে জানিয়েছেন গাঙ্গুলি।
দুমাস আগে এক মহিলা শিক্ষানবীশ আইনজীবী একটি ব্লগে অভিযোগ করেন যে ২০১২ সালের শেষে আইনী কাজে সাহায্যের জন্য হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে বিচারপতি গাঙ্গুলি তাকে মদ্যপান করান ও তারপরে আপত্তি করা স্বত্ত্বেও গায়ে হাত দেন।
পুলিশ বার বার অনুরোধ করা স্বত্ত্বেও ওই শিক্ষানবীশ আইনজীবী এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন নি।
অভিযোগ ওঠার পরে সুপ্রীম কোর্ট একটি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পায়। কিন্তু ওই তদন্তের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন গাঙ্গুলি।
যদিও বড় বড় দুর্নীতির মামলায় দেওয়া রায়ের কারনেই তিনি কোনও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন কী না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে তিনি এটা প্রমান করতে পারবেন না – কিন্তু সম্ভাবনা উড়িয়েও দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close