আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

denguওমেনআই: বর্ষার শেষে ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ছয় দিনে শুধুমাত্র রাজধানীতেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১৫৬ রোগীর খবর পাওয়া গেছে, যা গত বছরের পুরো আগস্ট মাসের চেয়ে ৩৬ জন বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এ সময় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় এবং মানুষের সচেতনতার অভাবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে ১৫ জন এবং জুলাই মাসে ১৫৬ জন আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরজনিত কারণে কেউ মারা যায়নি।
আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীতে ২০১১ সালে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হন। ওই বছরে মোট আক্রান্ত ১২৮৬ জনের মধ্যে জুনে ৬১ জন, জুলাইয়ে ২৫৫ জন, আগস্টে ৬৯১ জন, সেপ্টেম্বরে ১৯৩ জন এবং অক্টোবরে আক্রান্ত হন ৮৬ জন। গত বছর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭৫ জন।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর তথ্যানুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২০ জনের মতো, যা গত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু চলতি বছরের আগস্টের প্রথম ছয় দিনেই এ সংখ্যা ১৩৬-এ দাঁড়িয়েছে।’
‘ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহিত এডিস মশা জন্ম নেয়। এবার ক্রমাগত বৃষ্টিপাত এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতির কারণেই ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বাড়ছে।’
‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত দুই মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ রোগী ভর্তি হয়েছেন’ উল্লেখ করে মেডিসিন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ গোলাম মোগনী মাওলা দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এখন মানুষ যার যার সুবিধামতো কাছের হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া বেশি জরুরী না হলে এ ধরনের হাসপাতালে রোগীরা আসেন কম।’
ডেঙ্গুর লক্ষণ সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ চিকিৎসক বলেন, ‘কাঁপুনি দিয়ে হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর, কখনো কখনো তা ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখের পেছনের দিকে বেশ ব্যথা এবং শরীরে লালচে দাগ বা র‌্যাশ ওঠা। এ ছাড়া দাঁতের মাড়ি ও নাক দিয়ে রক্ত পড়া, চোখ লাল এবং পায়খানা ও প্রশ্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে।’
তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এ সব লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক।
ভীত না হয়ে এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া উচিত নয়। যেহেতু এটি একটি মশাবাহিত রোগ, সেহেতু মশার বংশবৃদ্ধি রোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরবাড়ি ও এর চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা বা এ জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে, যেন পানি জমতে না পারে। গোসলখানায় বালতি, ড্রাম, পানির ট্যাংক কিংবা মাটির গর্তে কোনো অবস্থাতেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা, বাথরুম, ফ্রিজ ও এসির নিচে জমানো পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে। এ ছাড়া সব সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো উচিত।’

ঢাকা, ০৮ আগস্ট(্ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close