আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
লাইফ স্টাইল

টিনএজারদের সাথে কথা বলুন খোলাখুলি

ওমেন আই:
টিনএজ- সময়টা অন্যরকম! স্বপ্ন দেখার বয়স, স্বপ্নে ওড়ার বয়স, ভুল করার বয়স, ঠেকে ঠেকে শেখার বয়স। কিন্তু এ সময়ের কিছু করা ভুল থেকে শেখার আগেই তা জীবনে নিয়ে আসতে পারে বড় ধরনের দুর্ভোগ। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা কম থাকে বলে এ সময়ের স্বপ্নগুলোও হয় বড় বেশি আনাড়ি! টিনএজের সময়টা যেদিকে পথ পায় ঢেউয়ের গতিতেই সেদিকে এগিয়ে চলে। তাই এ সময়ে প্রয়োজন বিশেষ দিক নির্দেশনার। এই দিক নির্দেশনা দেয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপরেই বর্তায়। বিশেষ করে বাবা-মা’র ওপরে। টিনএজের ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই প্রয়োজন ভালো-মন্দ বোঝানোর। আজ আমরা কথা বলবো এমন কিছু বিষয় নিয়ে যা একজন মায়ের শেখানো উচিত তাঁর টিনএজের কন্যাকে। অনেকেই ছোটবেলায় হারিয়ে ফেলে মাকে। সেক্ষেত্রে এ দায়িত্ব বর্তাবে বড় বোন, খালা, ফুপু বা দাদি-নানির ওপরে। একজন উঠতি বয়সী মেয়ে যেন নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে বড় হতে পারে, তা অনেকখানি নিশ্চিত করবে এ বিষয়গুলো। –
সবার জীবনে প্রেম আসে :

টিনএজ বয়সটাই হলো অল্পতেই ভালো লাগার বয়স! বিশেষ করে এ সময়টাতেই মেয়েদের আগ্রহ জন্মায় ছেলেদের প্রতি। এই আগ্রহ জন্ম দেয় বিশেষ একজনকে ভালো লাগার। কিন্তু ভালোলাগা আর ভালোবাসা যে এক নয়, তা বোঝার মতো বোধবুদ্ধি থাকে না এ সময়। তাই অনেক মেয়েই ভালোলাগাকে ভুল করে ভেবে বসে ভালোবাসা!

সবার জীবনেই প্রেম আসে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপনি যখন একজন টিনএজ কন্যার মা, তখন আপনাকে এটা মেনে নিতেই হবে যে, আপনার মেয়েরও কাউকে ভালো লাগতে পারে। মেয়েকে এটাই বোঝান যে, ভালোলাগা এবং ভালোবাসা এক নয়। আর যদি প্রেম হয়েও যায়, তাকে চাপ প্রয়োগ না করে এটাই বোঝান যে, প্রেম জীবনের সবকিছু নয়, বরং জীবনের একটা অংশ মাত্র! তাই এর পেছনে পড়াশোনা বাদ দিয়ে সময় ব্যয় করা মানে নিজেরই ক্ষতি করা। সাথে এটাও বুঝিয়ে বলুন যে, নির্দিষ্ট সময় এলে সে তার জন্য একজন ভালো সঙ্গী পাবেই।

শারীরিক সম্পর্কের নেতিবাচক দিক :

মায়েরা মেয়ের সাথে এ বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন। অথচ এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ সাধারণত টিনএজ বয়সের মেয়েরাই চিন্তাভাবনা না করে আবেগের বশে প্রেমিকের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে। মেয়েকে অসময়ে বা অপরিণত বয়সে শারীরিক সম্পর্কের কুফল সম্পর্কে জানান, তাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করুন। এর ফলে হওয়া শারীরিক সমস্যা, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, অকাল গর্ভপাত ইত্যাদির নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অবহিত করুন।

পরিবার সবার আগে :

টিনএজের মেয়েরা ঘরের চেয়ে বাইরের লোকেদের কথা অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আপনার মেয়েকে এটা অনুভব করান যে, একটা মানুষের জন্য পরিবার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত একজন নারীই থাকেন পরিবারের শেকড় হিসেবে। মেয়েকে বোঝান, তারও একসময় নিজের পরিবার হবে, সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের খেয়াল রাখা, তাদের গুরুত্ব দেয়া – এ সবকিছু মেয়েকে শিক্ষা দেয়া একজন মায়ের অন্যতম দায়িত্ব।

পুরুষদের প্রলোভনের ফাঁদ :

টিনএজ একটি কমনীয় বয়স, নমনীয় সময়। মেয়েরা এ সময় থাকে সরল, এ সময়েই মেয়েরা তাদের সৌন্দর্য সম্পর্কে সচেতন হয়। ফলে কেউ তাদের রূপের প্রশংসা করলে সহজেই অভিভূত হয়। অনেক পুরুষই এর ফায়দা লোটে। সরলতার সুযোগ নিয়ে করে অনৈতিক কাজ। আপনার মেয়েকে পুরুষদের প্রলোভনের ফাঁদ সম্পর্কে অবহিত করুন। তাকে সতর্ক করুন পুরুষদের কুটিল মানসিকতা সম্পর্কে।

কিছু ব্যাপার গোপন থাক :

মেয়েকে নিজের ব্যাপারে কিছু গোপনীয়তা রক্ষা করতে বলুন। বিশেষ অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত লোকদের কাছে। আজকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কল্যাণে খুব সহজেই মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। আপনার টিনএজ কন্যাটি যেন কোনো সাইবার ক্রাইমের শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাকে বলুন, নিজের ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা বা এমন কোনো তথ্য কাউকে না জানাতে যাতে সে বিপদে পড়ে। তার ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য যতটা সম্ভব কম লোকজনকে জানাতে বলুন।

অটুট থাকুক ভবিষ্যতের লক্ষ্য :

একজন মেয়ের জীবনে বিয়ে করা বা সংসার করাটাই যে একমাত্র লক্ষ্য নয় তা শেখান। একজন ভালো সন্তান, ভালো স্ত্রী, ভালো মা হবার পাশাপাশি একজন ভালো ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার প্রেরণা দিন তাকে। সে জীবনে কী করতে চায় বা কী হতে চায়, তার জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত এ ব্যাপারে তাকে দিক নির্দেশনা দিন। তাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করুন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close