আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
বিনোদন

‘এক বিকেলের সুখ-দু:খ’ নিয়ে অপি

pppওমেনআই: টেনিস ক্লাব। পড়ন্ত বিকেল। ঝকমকে নীল আকাশ। পেজা তুলার মতো টুকরো টুকরো মেঘ পাখা মেলে উড়ছে। সদর দরজা মাড়িয়ে ভেতরে ঢুকতেই আরেকটা দরজা। দু’পাশের দেয়ালে জমাট বাধা শ্যাওলা। বর্ষার ফেলে যাওয়া শেষ স্মৃতি। দরজার কোল ঘেষে দাড়িয়ে আছে এক তরুণ। গায়ে সাদা চেক শার্ট। হলদেটে প্যান্ট। হাতে ঘড়ি। হাত ভর্তি ফুলের তোড়া আর একটা গিফট বক্স। চারপাশে কিছু উৎসুক মানুষের চোখ। ক্লাবের ছাদেও আছে দুজন। ঘাড়টা বাঁকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছেন কান্ডকারখানা!

পাশ থেকে ফিসফিস করে একজন বললেন, এই লোকটা নাটক করে না!’ পাশ থেকে আরেকজনের মাথা ঝাঁকিয়ে জানান দিলেন, আরে ওকে চিনেন না! এতো সজল!’ নাটক করে ভালো কথা। তারকা মানুষ। টেনিস ক্লাবে কি করে করে? প্রশ্নটা সবার মুখে মুখে ফেরে। একটা সময় জনতার স্রোতে হারিয়ে যায় প্রশ্নটা। একটু পরেই টেনিস কোর্ট থেকে নাজিল হলেন এক তরুণী। অপি করিম। গায়ে সাদা কোর্ট। কাঁধে টেনিস ব্যাট, ব্যাগ। পড়নে কালো ট্রাউজার। গেটটা খুলে আনমনে হেঁটে চলেছেন। গেটটা পাশ কাটাতেই তার পিছু নেয় সজল। ফুল আর গিফট দিতে চায়। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনা।

মেয়েটা অপি, পেছনে ফেরে তাকায় না। সজলের ভালোবাসা মিলিয়ে যায় আকাশে। সজলের আফসোস! কাট! বললেন, ডিরেক্টর রিপন। সজলকে বুঝিয়ে দিলেন, মেয়েটা চলে যাওয়ার পর, ‘আপনাকে আরেকটু বিষন্ন হতে হবে’। ক্যামেরা রেডি হতেই আবার শর্ট দিলেন সজল। শর্ট ওকে।

কস্টিউম চেঞ্জ করে আবার ক্যামেরার সামনে এলেন সজল। হাতে সেই ফুল ও গিফট। যথারীতি টেনিস কোর্ট থেকে বেরিয়ে এলেন অপি। কিন্তু গেটটা খুলতেই বিপত্তি বাধল। গেটের তালাটা লাগল অপির মাথায়। ব্যথায় কাতরাতে থাকলেন। ভাবছেন এটা কি স্ক্রিপ্টের মধ্যেই ছিল? নাহ! এটা স্ক্রিপ্টের বাইরে। সত্যি সত্যিই বেশ ব্যথা পেয়েছেন তিনি। প্রোডাকশন বয়রা তড়িতড়ি করে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিলেন কপালে। কিছু পর স্বস্তি পেতেই শুর হলো শুটিং। আবার সেই গেট থেকে। চৌকাঠ মাড়িয়ে এবেরিয়ে আসতেই চুলটা কটু ঠিক করে নিলেন সজল। একটু ভাব-সাবের ব্যাপার বলে কথা। আবারও যথারীতি সজলকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন অপি। আবারো বেদনাবিমুর্ত চেহারা সজলের। শর্ট শেষ।

আবার কস্টিউম চেঞ্জ করে হাজির হলেন দুজনে। এবার কমপ্লেক্সের ভেতরটায় ট্রলি বসানো হল। এবার মুখোমুখি অপি করিম-সজল। সজলের চোখে ভীতি, জড়তা। হাত পা কাঁপছে। চারপাশের দর্শকদের মাঝেও চাপা উত্তেজনা। বাংলা সিনেমার নায়িকার মতো নায়ককে চড় মেরে বসবেন না তো! আশংকাটা উড়ে গেল। অপি বললেন, ‘এই সাহস নিয়ে আপনি দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকেন!’ কাঁপা কাঁপা গলায় সজল বললেন, ‘আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান। আপনার সব খেলা দেখি। শুধু প্রাকটিসের সময় ঢুকতে পারিনা। আপনাকে দেখার জন্যই এখানে ওয়েট করি।’ বলেই হাতের উপহারগুলো অপির হাতে তুলে দিলেন সজল। ডিরেক্টর বললেন, ‘কাট’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পাখিগুলো নীড়ে ফেরা শুরু করেছে। শুটিং আপাতত শেষ। গতকাল ১৬ আগষ্ট নাটকটির কিছু দৃশ্য ধারণ হয় টেনিস ফেডারেশনের কোর্টে। আসন্ন ঈদের জন্য নির্মিত হচ্ছে নাটকটি।

নাটকটির নাম ‘এক বিকেলের সুখ-দু:খ। রচনা করেছেন আনিস চৌধুরী। পরিচালনায় রিপন রতন।

ঢাকা, ১৮ আগস্ট(্ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close