আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

উচ্চ রক্তচাপে ঘরোয়া ওষুধ

piyag bnওমেনঅাই: উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চমাত্রার উত্তেজনায় ভোগা বেশ সাধারণ সমস্যা এবং এটি কোনো রোগও নয়। কিন্তু এটি এমন এক সমস্যা যা আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসে হৃদরোগসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগকে এবং আপনাকে নিয়ে যেতে পারে মৃত্যুর দুয়ারেও! যখন রক্তের প্রবাহ খুব বেশি থাকে এবং বিশুদ্ধ রক্তবাহী ধমনীতে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনীর দেয়ালে খুব জোর দিয়ে ধাক্কা দেয়, তখনই এই সমস্যাকে আমরা উচ্চ রক্তচাপ বলি। হৃৎপিণ্ডে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটা রক্ত প্রবেশ করছে ও বের হচ্ছে এবং ধমনী রক্তপ্রবাহে কতটা সহনশীল, এই দুইয়ের পরিমাপের মাধ্যমে রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। হৃৎপিণ্ডে যতো বেশি রক্ত প্রবেশ করবে ও বের হবে- অর্থাৎ হৃৎস্পন্দনের মাত্রা যতো বেশি হবে এবং ধমনী যতো সরু হবে, রক্তচাপ ততোই বাড়তে থাকবে। উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি ঘাতক, যা নিঃশব্দে আসে। হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণ এই উচ্চ রক্তচাপ। তাই সময়মতো সচেতন না হলে মৃত্যু অবধারিত। যদি আপনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন, তাহলে চিকিৎসক আপনার জন্য তার পরামর্শপত্রে বিভিন্ন ওষুধের নাম উল্লেখ করবেন। কিন্তু জানেন কি? আপনার রান্নাঘরেই এমন অনেক বস্তু রয়েছে যা দিয়ে অনায়াসে আপনি উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ফেলতে পারেন? লাল বনাম সাদা উচ্চ রক্তচাপের এক অনন্য চিকিৎসা হলো মাছ ও মুরগির মাংস। তবে সব ধরনের মাছ-মাংস নয়- লাল মাংস বা ‘রেড মিট’ জাতীয় মাংস পরিহার করে কেবল মুরগির মাংস ও বিভিন্ন ধরনের মাছ খান, সাথে প্রচুর সবজি। জাদুর মতো কার্যকরী এই উপায় অনুসরণ করলেই উচ্চ রক্তচাপ থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাবেন! রসুন বাঙালী খাদ্যের অন্যতম ‘না হলেই নয়’- এমন উপাদান হলো রসুন, যা আমাদের রোজকার খাবারেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারে মশলা হিসেবে ব্যবহৃত রসুনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রোজ এক কোয়া কাঁচা রসুন খান নিয়মিত। প্রাকৃতিক এই ঔষধ রক্তের দূষিত কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পেঁয়াজ ও মধু উচ্চ রক্তচাপ দ্রুত কমানোর একটি কার্যকরী ঔষধ হলো এক টেবিল চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে দুই টেবিল চামচ মধু। একটি কাপে এই মিশ্রণটি নিয়ে রোজ পান করুন। ফল পাবেন হাতে হাতেই! কারি পাতা বিভিন্ন সুপারস্টোরে আজকাল কারি পাতা বেশ সহজলভ্য। ভারতীয় রান্নায় ব্যাপকভাবে এই পাতার ব্যবহার এখন বাংলাদেশী সংস্কৃতিতেও প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে বিশেষ খাবার দাবার হলেও আজকাল বাংলাদেশেও খাবার-দাবারে কারি পাতা ব্যবহার করা হয়। তবে যদি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কথা হয়, তাহলে শুধু ওই উপলক্ষ্য উদযাপনের মধ্যেই এর ব্যবহার সীমিত রাখলে হবে না! উচ্চ রক্তচাপই কেবল নয়, অনেক ধরনের রোগের সাথে যুদ্ধ করে এই প্রাকৃতিক ঔষধটি। একটি পাত্রে খাবার পানীয়ের সাথে চার-পাঁচটি কারি পাতা নিয়ে চুলায় ফোটান এবং ঠাণ্ডা করে পান করুন, প্রতিদিন। গাজর একটি গাজর ও পালং শাক ধুয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে এক গ্লাস পরিমাণ শরবত বানান। দিনে দু’বার পান করুন এই পানীয়। বিট উচ্চ রক্তচাপ কমানোর অবিশ্বাস্য একটি উপায় হলো বিট নামের সুন্দর সবিজিটি। বিট রুটের শরবত তৈরি করে দৈনিক দু’বার পান করুন। সবশেষে- খাবার থেকে লবণের পরিমাণ ছেঁটে ফেলুন ঝটপট। দৈনিক দেড় হাজার মিলিগ্রামের বেশি লবণ কিছুতেই দেহে যাওয়া কাঙ্ক্ষিত নয়! উচ্চ রক্তচাপ কমানোর এই ঘরোয়া পথ্যগুলো ব্যবহারের আগে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শও নিয়ে নিতে পারেন। কারখানায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন কৃত্রিম ঔষধ যতোটা এড়িয়ে চলা যায়, ততোই উত্তম। কারণ এসব ঔষধের আছে নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাছাড়া কৃত্রিম এসব ঔষধ অধিক ব্যবহারের ফলে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, শরীর অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এসব ঔষধে। তাই প্রকৃতির সাহায্য নিয়েই নিয়ন্ত্রণে রাখুন রক্তচাপ, অনাকাঙ্ক্ষিত রোগে দেহকে বাসা বাঁধা থেকে বিরত রাখুন। সুস্থ থাকুন।

ঢাকা, ২৩ অাগস্ট (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close