আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নতুন প্রামান্যচিত্র ‘বিজয়ের মহানায়ক’

high commissioner  wmnওমেনঅাই: জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তৈরী হয়েছে নতুন প্রামান্যচিত্র ‘বিজয়ের মহানায়ক’। ‘বিজয়ের মহানায়ক’ এর আনুষ্ঠানিক প্রদর্শণী লঞ্চে এসে সুধীজনরা বলেছেন, এই প্রামান্যচিত্রটি সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠা এক বাঙালির গল্প হিসেবেই গ্রহণ করবেন দর্শকরা। লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট চিত্রনির্মাতা মঈনুল হোসেন মুকুলের পরিচালনায় ও সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা’র গবেষণা, স্ক্রিপ্ট ও সমন্বয়ে ‘জয়বাংলা’ অনলাইন টিভি নিবেদিত ‘বিজয়ের মহানায়ক’ এর প্রদর্শণী লঞ্চ ও বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যধন্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রবিবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনে। ‘বাঙালির ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় সৈয়দ আনাস পাশা’র লন্ডনের বাড়ীর খোলা বাগানে।
প্রামান্যচিত্রটিতে স্মৃতিচারণকারী বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যধন্য ১০ ব্যক্তিকে ‘বিজয়ের মহানায়ক’ এর একটি করে ডিভিডি কপি, ফুল ও থ্যাঙ্কস কার্ড প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানে। এতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন হাইকমিশনের মিনিষ্টার প্রেস সাংবাদিক ও শহীদ সন্তান নাদিম কাদির। সম্মাননা প্রদান, ফিল্ম প্রদর্শণী ও বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান পরিবেশন, তিন পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন, সংস্পর্শ পেয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের অংশ ছিলেন এমন ৭জন ব্যক্তি। ডকুমেন্টারীর পরিচালক মঈনুল হোসেন মুকুল, স্ক্রীপ্ট রাইটার ও সমন্বয়ক সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা ও জয়বাংলা অনলাইন টিভি’র কর্ণধার, প্রযোজক সালিমা শারমিন হোসেইন একে একে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যধন্য এই ৭ সৌভাগ্যবান ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের প্রবীন সংগঠক সুলতান শরীফ, আলহাজ্ব জিল্লুর হক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, রাজনীতিক এম এ গণি, বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী সোহরাব হোসেনের সন্তান বিশিষ্ট শল্য চিকিৎসক ডা: রাকিবুল আনোয়ার অরুণ, প্রবীন সমাজকর্মী ও চিকিৎসক বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ডাক্তার হালিমা আলম ও শহীদ কর্ণেল আব্দুল কাদিরের সন্তান হাইকমিশনের মিনিষ্টার প্রেস সাংবাদিক নাদিম কাদিরের হাতে ডিভিডি কপি, থ্যাঙ্কস কার্ড ও একটি করে ফুল তুলে দেন। প্রামান্যচিত্রে স্মৃতিচারণকারী প্রবীন কমিউনিটি নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর পক্ষে সম্মাননা গ্রহন করেন যথাক্রমে রাজনীতিক হরমুজ আলী, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আনসার আহমেদ উল্লা ও গাফ্ফার চৌধুরীর স্নেহধন্য যুবনেতা জামাল খান।
সম্মাননা গ্রহন শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যধন্যরা নিজেদের জীবনের সবচেয়ে উজ্জল স্মৃতিগুলো শেয়ার করার সুযোগ করে দেয়ায় ‘বিজয়ের মহানায়ক’ নির্মাতাদের ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি মিনিষ্টার প্রেস নাদিম কাদির বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন এক ব্যক্তি, যাকে কোন প্যারামিটার দিয়ে মাপা যায়না। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থেই তাঁকে নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত, যা আমরা করতে পারিনি।‘বিজয়ের মহানায়ক’কে সেই কাজের যাত্রা শুরু হিসেবেই আমি দেখছি। নির্মাতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মিনিষ্টার প্রেস বলেন, এমন একটি ডকুমেন্টারী আমি বিদেশীদের কাছেও উপস্থাপনের স্বপ্ন দেখি, এতে প্রয়োজন ইংরেজি সাব টাইটেল।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রদর্শিত হয় প্রামান্যচিত্রটি। উপস্থিত সুধীজন দীর্ঘ ৫৩ মিনিটের প্রামান্যচিত্রটি গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখার পর মন্তব্য করেন ‘এটি একজন সাধারণ বাঙালির অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প’। বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফাষ্ট সেক্রেটারী কবির হোসেনের মন্তব্য, ‘৫৩ মিনিটের এই প্রামান্যচিত্র বঙ্গবন্ধুর পুরো রাজনৈতিক জীবনের একটি খন্ডচিত্র’। আমাদের জাতীয় আর্কাইভে এটি নি:সন্দেহে একটি মূল্যবান সংযোজন’। ‘বিজয়ের মহানায়ক’ এর সম্পাদনা, স্ক্রিপ্ট, মিউজিক ও ধারা বর্ণণার ভূয়সী প্রশংসা করে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী গৌরি চৌধুরী বলেন, ‘একটি প্রামান্যচিত্রের দৈর্ঘ্য ৫৩ মিনিট, এটি শুনে আশঙ্কা করছিলাম দর্শক আবার দেখতে দেখতে বিরক্ত হন কিনা। কিন্তু দর্শক হিসেবে এটি দেখার পর আমার আশঙ্কা ভুলই প্রমানিত হলো’। রাজনীতিক, সংষ্কৃতি কর্মী সৈয়দ এনামুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ঘোরের মধ্যে ছিলাম। মনে হলো হঠা্ৎ করেই যেন ফিল্মটি শেষ হয়ে গেলো’।
অনুষ্ঠানের শেষ পরযায়ে পরিবেশিত হয় বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কয়েকটি গান। ব্রিটেনের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী গৌরী চৌধুরী ও ফজলুল বারী বাবু, সৈয়দ নিশাত মনসুর এবং শিশুশিল্পী নাহিয়ান পাশা ও রাফা হক এতে অংশ নেন। এসময় তবলায় ছিলো আরেক শিশু শিল্পী সৌমেন।
এদিকে, দুই ব্রডকাষ্ট পার্টনার লন্ডন ভিত্তিক ‘বাংলা টিভি’ ও নিউইয়র্ক ভিত্তিক টিভিএন২৪ এ জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগষ্টেই প্রচার হয় ‘বিজয়ের মহানায়ক’। পরদিন ১৬ই আগষ্ট আবার পুন:প্রচারও করা হয় প্রামান্যচিত্রটি দুটো টেলিভিশনেই। প্রচারের পর প্রামান্যচিত্রটি নিয়ে ব্যাপক দর্শক ফিডব্যাক পাচ্ছে দুটো টেলিভিশনই, এমনটিই জানালেন বাংলা টিভি ও টিভিএন২৪ এর দুই কর্মকর্তা। বাংলা টিভি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাজ্জাদুল আজিজ মালিক বলেন, ‘অসাধারণ একটি ডকুমেন্টারী প্রচার করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুকে দেখা বা তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়েছে তাদের চোখে কেমন ছিলেন বঙ্গবন্ধু? এমন পরিকল্পনা থেকেই ‘বিজয়ের মহানায়ক’ নির্মান করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর সাহস, ব্যক্তিত্ব, কঠিন কোমলে মিশ্রিত হৃদয়, মানুষের জন্য অপার ভালোবাসা ও দুরদর্শী নেতৃত্বসহ বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে তাঁর স্নেহধন্য সৌভাগ্যবানদের স্মৃতিচারণে। ‘জয় বাংলা’ টিভি প্রযোজিত ও ‘ইনার আই’ নির্মিত নতুন এই প্রামান্যচিত্রে স্মৃতিচারণ ছাড়াও রয়েছে বাঙালীর হাজার বছরের কাঙ্খিত এই পুরুষের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের দুর্লভ ছবি, দুনিয়া কাপাঁনো ভাষন ও বিশ্বের খ্যতিমান সাংবাদিকদের সাথে তাঁর সাহসী সাক্ষাতকারগুলোর কিছু দৃশ্য। বিশিষ্ট চিত্র নির্মাতা মঈনুল হোসেন মুকুলের পরিচালনায় নির্মিত ৫৩ মিনিটের এই প্রামান্যচিত্র গবেষণা, স্ক্রিপ্ট ও সমন্বয়ে ছিলেন বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সৈয়দ আনাস পাশা। প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেন জয়বাংলা টিভি’র কর্ণধার সালিমা শারমিন হোসেন।

নির্মূল কমিটির শোক দিবসের আলোচনায় হাইকমিশনার
শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু হত্যার উদ্দেশ্য ছিলো না ষড়যন্ত্রীদের

ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: আব্দুল হান্নান বলেছেন, ‘শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টে পৃথিবীর অন্যতম নারকীয় হত্যাকান্ডটি ঘটায়নি, তাদের উদ্দেশ্যে ছিলো আমাদের জাতীর জনকের আদর্শকে চীরতরে হত্যা করার। শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্য থাকলে ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টো পথে দেশকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো না’। সদ্য নির্মিত প্রামান্যচিত্র ‘বিজয়ের মহানায়ক’ এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে এই প্রামান্যচিত্রটি নতুন প্রজন্মসহ সবার দেখা প্রয়োজন’। মাত্র ৫৩ মিনিটের এই প্রামান্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শণ খন্ড চিত্রের মত উঠে এসেছে, এমনই মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।
বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরী সেন্টারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা ও ‘বিজয়ের মহানায়ক’ প্রামান্যচিত্র প্রদর্শণীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার উপরোক্ত মন্তব্য করেন। যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক ইসহাক কাজলের সভাপতিত্বে ও সহসাধারণ সম্পাদক জামাল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির কোষাধ্যক্ষ শাহ বেলাল। আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, সৈয়দ আনাস পাশা, আজিজ চৌধুরী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এনামুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা আফসার খান সাদেক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিষ্টার প্রেস নাদিম কাদির, ‘বিজয়ের মহানায়ক’ এর পরিচালক মঈনুল হোসেইন মুকুল, প্রযোজক সালিমা শারমিন চৌধুরী, সাংবাদিক নীলু হাসান, আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজন্তা দেব রায়, কামরুল ইসলাম তুষার, যুবনেতা মতছির চৌধুরী জনি ও আলী আকবর চৌধুরী প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চীরতরে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ৭৫ থেকে ৯৬ এই দীর্ঘ ২১ বছর অনেক অপচেষ্টা করেছে ষড়যন্ত্রকারীরা, কিন্তু ইতিহাস বিকৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলেও তাতে তারা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্ন বাঙালি জাতির শেকড়ে এমন শক্তভাবে প্রথিত করেছিলেন তিনি, যা সহজে উপড়ে ফেলতে পারেনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পৃষ্টপোষকতাপ্রাপ্ত এই ষড়যন্ত্রকারীরা।

ঢাকা ২৪ আগস্ট (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close