আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

প্রতারণার শিকার নারীর না বলা কথা

shahnoorওমেনঅাই:যৌনতা যে সমাজে পুরুষতান্ত্রিক অবদমন আর উদযাপনের নামান্তর; সেই সমাজে বাজারব্যবস্থার সমান্তরালে প্রবাহিত হয়ে আসছে যৌনবাণিজ্য। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষেরা পারিবারিক অভ্যস্ততার বাইরে এসে টাকা দিয়ে ভালোবাসা কিনতে চায়। আসলে যৌনসুখ কিনতে গিয়ে তারা নারীকে অবদমনের মধ্য দিয়ে তৃপ্তি লাভ করতে চায়। কিন্তু যে নারী এই পেশায় আছেন বিক্রেতার ভূমিকার, তার বেলায়?

পাঠক, আপনার কি মনে হয়, কেউ একেবারে স্বেচ্ছায়, খুশি হয়ে, নিজের প্রেমের বোধকে অবচেতনে পাঠিয়ে ভালোবাসা বিক্রি করে? না, বেশিরভাগই এ পেশায় জড়িয়ে পড়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে। তাদের ফাঁদে ফেলে প্রতারকচক্র। ভালোবাসা বিক্রি করা সেইসব মেয়েদের জীবনেও রয়েছে হাসি-কান্না-আভিমান, রয়েছে আবেগ-অনুভূতি-সংবেদনশীলতা।
এইসব নারীর জীবনের গল্প তুলে এনেছেন ভারতীয় সাংবাদিক শাহনুর সেভারাই। বেশ কিছু পতিতালয় ঘুরে তিনি লিখেছেন ‘ডটারস অব দ্যা রেড লাইট’ নামের এক বই। সেই বই থেকে রশ্মি নামের এক মেয়ের গল্প তুলে এনেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলইন।
রশ্মি। স্বামী অনেক নির্যাতন করতো তাকে। রশ্মির ডান হাতে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন নির্যাতনের ক্ষত। স্বামী তার উপর গরম পানি ঢেলে দেয়ার ফলে হাতে পোড়া দাগ রশ্মির। স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে সে যখন বাবার বাড়ি চলে যায়, তখন তার বোনের স্বামীর যৌনসন্ত্রাসের শিকার হয়। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে রশ্মি। একটি হোটেলে কাজ নেয়ার পর সেই হোটেল এর ম্যানেজারও তাকে যৌন হয়রানি করে। আবারো রাস্তায় নেমে পড়ে রশ্নি।

এবার একটি সুতার কারখানায় কাজ নেয়া। আদতে সেটি ছিলো এক পতিতালয়। কিন্তু বুঝতে অনেক দেরি হয়ে যায় রশ্মির। ততদিনে সে প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছে। তার সন্তানদের খাওয়ানোর জন্যও তখন তার টাকা প্রয়োজন। সাংবাদিক শাহনুর সেভারাই-এর বইয়ের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলইন জানাচ্ছে রশ্নির মত অনেক নারীর গল্পই প্রায় এক।
প্রতিবারই পতিতালয়ে যাওয়ার সময় বেশ ঝামেলা পোহাতে হয় শাহানুরকে। প্রথমবার তিনি কলেজছাত্রী হিসেবে পতিতালয়ে যান। তখন একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। এনজিওর কেউই তাকে একা ছাড়েনি, তাদের কাছে এটা খুবই বিপদজনক ছিলো। এখন শাহনুর একজন সাংবাদিক। এখনও একই ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে তাকে। একা যাওয়ার সাহস করতে পারেন না তিনি।
কামাথিপুরায় যাওয়ার জন্য তিনি আশা দর্পন নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের মাধ্যমেই পতিতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান তিনি। নোটবুক, কলম, সাউন্ড রেকর্ডার নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। অনেক জেরার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাকে বোঝাতে হয় যে তার আসল উদ্দেশ্য কী।

সবকিছু ছাপিয়ে রশ্নির সাক্ষাতকার নেয়াটাই তৃপ্তি দেয় তাকে। তবে সাক্ষাতকার শেষে রশ্নিই প্রশ্ন করে বসেন যে এতকিছু লেখালেখি করে আসলে কী হবে? এতে কী লাভ? তখন শাহনুর বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, শুধু সংবাদের উদ্দেশ্যেই তিনি লেখেন না। তিনি চান রশ্নির মতো অনেক নারীর না বলা কথা তুলে আনতে।
শাহানুর দেখেছেন, পতিতাদেরও ঘর-সামলাতে হয়, সংষার করতে হয়, বাচ্চাদের খাওয়াতে হয়। তাদের জীবন মোটেই সহজ নয়, বরং অনেক বেশি সংগ্রামের।

ঢাকা, ২৯ অাগস্ট (ওমেনআই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close