আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

মা ও দুই মেয়েকে বিষপানে হত্যা

shirajgonj20150821094655ওমেনঅাই: আমেনা বেগম (৩৫)। স্বামীর বাড়ী সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া দক্ষিণপাড়ায়। গত রোযার আগে বাবার উপর অভিমান করে দুই কন্যা সন্তান রেখে স্বামী রানা বিষপানে মারা যায়।

সেই সময় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শালিসের মাধ্যমে ছোট দুটি মেয়ে ফাতেমা (৬) ও নুপুরের (৩) ভবিষ্যতের জন্য শ্বশুর সলোমানকে দুই বিঘা জমি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও শ্বশুর রাজি হয়। আর সেই জমিই কাল হয়ে দাঁড়ালো মা ও দুই মেয়ের।

স্বামী মারা যাবার পর দুই মেয়েকে নিয়ে আমেনা বেগম পাশ্ববর্তী আমডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়ি চলে যায়। শনিবার শ্বশুর সলেমান পুত্রবধূ আমেনা বেগম ও দুই মেয়েকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থায় বাবার বাড়ি থেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে।

আর রওববার সন্ধ্যায় তাদেরকে খাবারের মধ্যে বিষক্রিয়া মিশিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ অভিযোগ নিহত আমেনা বেগমের বাবা আব্দুল মতিনসহ তার পরিবারের সদস্যদের।

পুলিশ রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ নিহতের দুই ভাসুর শহিদুল, মানিক, ননদ সেলিনা বেগম ও মানিকের স্ত্রী লিপিকে আটক করেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক আসিনুর রহমান জানান, বিষক্রিয়া অবস্থায় দুই শিশু ফাতেমা ও নুপুরকে স্থানীয় আভিসিনা হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন এবং মা আমেনা বেগমকে সদর হাসপাতালে নেয়ার পরই মারা যায়।

এ সময় লাশ নিয়ে পালানোর সময় দেবর শহিদুল ও মানিককে আটক করা হয়।

তবে পুলিশের হাতে শহিদুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যের কাছে শুনেছি সন্ধ্যার পর আমেনা দুই শিশুকে নিয়ে ঘরে খাবার খেতে যায়।

একটু পর সে ঘর থেকে বের হয়ে সবাইকে বলে দেখ নুপুর আর ফাতেমা যেন কেমন করছে-এই বলে সেও মাটিতে পড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়ি গিয়ে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসি। এরপর তিনজনই মারা যায়।’

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ননদ সেলিনা খাতুন ও ভাসুর মানিকের স্ত্রী লিপি খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের শ্বশুর আমেনা বেগমকে পছন্দ করত না। সে তার ছেলে রানাকে পুত্রবধূকে তালাক দিতে বলেছিল।

কিন্তু ছেলে রাজি ছিল না। এক পর্যায়ে আমেনার শ্বশুর সলেমান ছেলের অজান্তে বিয়ের কাবিনের টাকা মেয়ের পরিবারকে দিয়ে দেয়। বিষয়টি রানা জানতে পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করে।

পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে দুই শিশুকে দুই বিঘা জমি লেখে দেয়ার শর্তে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু এ জমি যাতে না দেয়ার জন্যই শনিবার গৃহবধূ আমেনা বেগম ও তার দুই শিশু কন্যাকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসে।

পরিকল্পিতভাবে তাদের তিনজনকেই হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি ময়না তদন্ত ছাড়া এখনো পরিস্কার নয়।

ঢাকা, ৩১ অাগস্ট (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close