আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অপরাধস্পট লাইট

নিজ গৃহেই নির্যাতনের শিকার নারী

ওমেন আই :
বিবাহিত জীবনে ৮৭ শতাংশ নারী জীবনে কোন না কোন সময়ে নির্যাতিত হয়েছেন। নির্যাতনের এ চিত্রে রয়েছে শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক কিংবা যৌন নির্যাতন। বাংলাদেশে ‘নারী নির্যাতন’ শব্দটি নতুন নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমপ্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বিবাহিত নারীর ৮০ শতাংশ জীবনের কোন না কোন সময়ে শারীরিকভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এক-তৃতীয়াংশ নারী তাদের স্বামী দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্যান্য বয়সের তুলনায় ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীরাই এই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেশি। যে গৃহে নারী সবচেয়ে নিরাপদ হবার কথা সে গৃহেই নির্যাতনের এ চিত্র।

নির্যাতনের হার শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ২৬ শতাংশ নারী তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামী দ্বারা ধর্ষিত হন। ৩০ শতাংশ নারী স্বামীর রোষানল থেকে বাঁচতে নিরবে ধর্ষণ মেনে নেয়। অর্থনৈতিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন অর্ধেক নারী। এক-তৃতীয়াংশ নারী তাদের জীবনে স্বামী ছাড়া অন্য ব্যক্তি দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে বিবাহিত ৮৭ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার। ‘নারীর প্রতি সহিংসতা’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে এমনই ভয়াবহ বিষয় উঠে এসেছে।

এ সহিংসতার কারণ কী হতে পারে, জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী-পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী বলেন, সমাজে অসমতা এবং সুশাসনের অভাবই মূলত নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। নারীরা নির্যাতিত হলেও নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার অভাবে আইনী সহায়তা নিতে চান না। তাছাড়া নারী নির্যাতনের অধিকাংশ মামলাই সমাজের প্রভাশালীদের প্রভাবে চূড়ান্ত শাস্তির মুখ দেখে না। সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেলে নারীর প্রতি সহিংসতা আরো কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

জরিপ প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ৪০ শতাংশ নারী ১৪ বছরের আগেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলনে বাধ্য হন। তবে জরিপ সংশ্লিষ্টরা একে ‘ধর্ষণ’ বলতে নারাজ, তাদের হিসেবে এটি অনিচ্ছায় যৌন মিলনে বাধ্য হওয়া বলে উল্লেখ করেন।’ গ্রামের চেয়ে বস্তুগতভাবে শহর অঞ্চলের মানুষ অনেক অগ্রসর হলেও গ্রামীণ অঞ্চলের চেয়ে শহর অঞ্চলে এ হার বেশি। শহরের ৫০ শতাংশ নারী ১৪ বছর কিংবা তার আগেই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এর আগে নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোন জরিপ দেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৭ সালে বিবিএস এর ডেমোগ্রাফিক্যাল এন্ড হেলথ সার্ভের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৫-৪৯ বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ শারীরিক ও ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী তাদের স্বামী দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মূলত অল্প বয়সে বিবাহিত, অশিক্ষিত এবং দরিদ্র নারীরা বেশি এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, দারিদ্র্য, সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হওয়া, নারীর অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা, নারী-পুরুষের ক্ষমতার অসমতা নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ। দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

জরিপের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল হক সরদার জানান, ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের ৭টি বিভাগে শহর ও পল্লী এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। যার মধ্যে ১২৫৩০ জন মহিলার সাক্ষাত্ নেয়া সম্ভব হয়েছে। জরিপকালে ১ শতাংশ পরিবার উল্লেখ করেছেন, সহিংসতার শিকার নারীরা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে কিংবা আত্মহত্যা করেছে। মানব পাচারের শিকার হয়েছে ১ শতাংশ নারী।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close