আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

গর্ভাবস্থায় কিছু সমস্যা ও প্রতিকার

amitumi_pregnancy-careওমেনঅাই:গর্ভাবস্থায় মায়েদের অনেক ধরণর সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় গর্ভবতী মা এসব সমস্যা কাউকে বলেন না। কিন্তু এসব সম্যসা পরে মারাত্বক রূপ নিতে পারে। তাই গর্ভবর্তী মায়ের যেকোন স্বাস্থ্য সমস্যায় তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

গর্ভবর্তী মায়ের কিছু সাধারণ সমস্যা ও সমাধান-

বমি ভাব বা খাওয়ায় অরুচি
বমি সাধারণত শুরুর দিকেই বেশি হয়। তিন মাসের পর থেকে আস্তে আস্তে বমি কমে যায়। এ উপসর্গ সাধারণত মায়ের শরীরের খুব বেশি ক্ষতি করেনা। তবে খাওয়া-দাওয়া কমে যাওয়ার জন্য শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

বমি বা বমি ভাব প্রতিকার
১৷ গর্ভবর্তী মাকে আশ্বস্ত করতে হবে
২৷ ঘুম থেকে উঠে শুকনা খাবার খেতে হবে। যেমন- মুড়ি, বিস্কুট
৩৷ খাবারের অন্ততঃ ১/২ ঘণ্টা পর পানি খেতে হবে
৪৷ বারেবারে অল্প করে খেতে হবে
৫৷ দ্রুত দুধ বা পানি পান করবেন না
৬৷ প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা
১৷ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে পরিমাণ মতো আয়রন ও ক্যালসিয়াম খেতে হবে।
২৷ আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কচুর শাক, কলার মোচা, তেঁতুল, তরমুজ, কলিজা, ডিম ইত্যদি খেতে হবে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আঁনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে।

গলা ও বুক জ্বালা
গলা ও বুক জ্বালা গর্ভাবস্থায় মায়েদের একটা সাধারণ সমস্যা। অল্প ভোজন, দুশ্চিন্তা, অধিক পরিশ্রম এবং যথেষ্ট পরিমাণে পানি না করার জন্য এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে।

প্রতিকার
১৷ খাওয়ার পর পরেই শোবেন না, শোয়ার প্রয়োজন বেশি হলে মাথার নিচে দুটি বালিশ দিয়ে অর্ধ শোয়া অবস্থায় থাকুন
২৷ মসলাযুক্ত ভাজা খাবার খাওয়া যাবে না
৩৷ প্রচুর পরিমাণে ঠাণ্ডা পানি পান করতে হবে
৪।সহজপাচ্য খাবার বারে বারে অল্প অল্প খেতে হবে

কোষ্ঠকাঠিন্য
গর্ভাবস্থায় অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। অনুপযুক্ত খাবর গ্রহণ, প্রয়োজনমতো পানি পান না করা ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

প্রতিকার
১৷ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা।
২৷ প্রচুর পরিমাণ শাক-সবজি ও টাটকা ফল খেতে হবে। যেমন – কলা, আম, গাছপাকা পেয়ারা, খেজুর, পেঁপে, আপেল ইত্যাদি। এছাড়াও দুধ-ভাত, কলা কিংবা আটার রুটি ও দুধ খাওয়া যেতে পারে।
৩৷ নিয়মিত ঘরের কাজ ও হাঁটাচলা করতে হবে
৪৷ প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন৷

অনিদ্রা
গর্ভাবস্থার শেষের দুই-তিন মাস অনিদ্রার ভাব হয়। অনেকের আবার ঘুম কমে যায়।

প্রতিকার
১৷ বিকেলে হাটা, শোবার আগে গরম দুধ খাওয়া বা বই পড়া ইত্যাদিতে উপকার হতে পারে।
২৷ ঘুমের অসুবিধা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

হাত-পায়ে টান ধরা
বিশেষ করে রাতে অনেক সময় পায়ে টান ধরে। হালকা ম্যাসেজ বা গরম সেক দিলে উপকার পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

পিঠে ব্যথা
গর্ভের প্রথমাবস্থা থেকে এ কষ্ট অনেক সময় দেখা দেয় যা শেষের দিকে খুব বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিকার
১৷ শক্ত বিছানা ঘুমালে উপকার পেতে পারেন
২৷ শিরদাঁড়ায় ম্যাসেজ করতে পারেন
৩৷ হাঁটাচলার সময় কোমরে বেল্ট ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়
৪৷ সামনে ঝুঁকে কোনও কাজ করা যাবে না
৫৷ ভারী জিনিস উঠানো যাবে না
৬৷ ব্যথার ওষুধ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া খাওয়া উচিত নয়

পায়ের শিরা ফুলে যাওয়া
অনেক সময় গভবর্তী মায়ের পায়ের শিরা ফুলে যেতে পারে।

প্রতিকার
১৷ দীর্ঘ সময় দাঁড়ানো যাবে না
২৷ পা তুলে বসতে হবে
৩৷ প্রয়োজনে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে

গর্ভাবস্থায় পা ফোলা
গর্ভাবস্থায় নারীর পা ফুলতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস সময়ে পা ফুলে গেছে কিনা দেখার জন্য উভয় গোড়ালির চারপাশে বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন। যে পয়েন্টে চাপ দেওয়া হয় সেখানে যদি একটি ছোট গর্ত হয়ে যায় এবং শীঘ্র তা মিলিয়ে যায় তবে বুঝতে হবে পায়ে পানি নেমেছে। শরীরে লবণ বৃদ্ধির ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে যায় ও পানি জমে। শরীরে পানি জমলে বা শরীর ফুলে গেলে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর রক্তচাপ, প্রস্রাব পরীক্ষা করা ও ওজন দেখা উচিত।

প্রতিকার
১৷ পা উঁচুতে রেখে বিশ্রাম নেয়া
২৷ খাবারের সাথে বাড়তি লবন না খাওয়া

বুক ধড়ফড় ও নিঃশ্বাসের কষ্ট
গর্ভাবস্থায় নারীর হার্টের কাজ বেড়ে যায়। কারণ মা ও শিশু দুইয়ের শরীরের রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মায়ের রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। এসব কারণে বুক ধড়ফড় করে। জরায়ুর বৃদ্ধির ফলে ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে এবং তার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। তাই নিঃশ্বাসের নিতে কষ্ট হয়।

মূত্র নালীর সংক্রমণ
গর্ভবস্থায় নারীর প্রসাবে জ্বালা পোড়া হতে পারে।

প্রতিকার
১৷ প্রচুর তরল পানীয় খেতে হবে
২৷ প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে

জ্বর
গর্ভাবস্থায় খুব জ্বর হলে মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যে খুব বিপজ্জনক হতে পারে। এরূপ হলে হাসপাতালে বা ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

মাথাব্যথা
অতিরিক্ত পরিশ্রম, ক্ষুদা এবং গরম লাগলে মাথাব্যথা হতে পারে। একারণে এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

ঢাকা, ০২ েসপ্টেম্বর (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close