আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

আয়লানের শেষ আকুতি: ‘মরে যেও না বাবা’

ayylanওমেনআই:ডুবে যাওয়ার আগে বাবাকে সতর্ক করেছিল তিন বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী আয়লান। বলেছিল ‘‘বাবা, মরে যেও না।’’ চিরতরে চলে যাওয়ার আগে এই ছিল আয়লানের শেষ কথা। আয়লানের এক ফুপু, কানাডার টরন্টোর বাসিন্দা ফাতিমা কুর্দির বরাতে আয়লানের শেষ আকুতির খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইন। গৃহযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বের হয়ে সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে সাগরপথে গ্রিসে পালাবার সময় নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয় আয়লানের। তুরস্ক উপকূলে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা তিন বছর বয়সী শিশু আয়লানের মরদেহের ছবি প্রকাশের পর তা নাড়া দিয়ে যায় বিশ্ব বিবেককে। প্রশ্ন ওঠে ইউরোপের দেশগুলোর মানবতাবোধ নিয়ে।
আয়লানের ফুপু ফাতিমা জানান, সামনে যখন একটার পর একটা বিশাল ঢেউ আসছিল আর তারই মধ্যে ভিড়ে ঠাসা শরণার্থী বোঝাই নৌকায় কোনরকমে বাবার হাত ধরে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়েছিল একরত্তি আয়লান। দুই ছেলে এবং স্ত্রীকে ঢেউয়ের দাপট থেকে রক্ষা করতে গিয়ে যখন নিজেই ডুবতে বসেছিলেন আবদুল্লা কুর্দি, তখন বাবাকে দেখে চিৎকার করে বলে উঠেছিল ছোট্ট আয়লান, ‘‘বাবা, মরে যেও না।’’
আয়লানের এক ফুপু, কানাডার টরন্টোর বাসিন্দা ফাতিমা কুর্দি এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চিরতরে চলে যাওয়ার আগে এই ছিল আয়লানের শেষ কথা। কান্না ভেজা গলায় ফাতিমা বলেছেন, ‘‘এক দিকে দুই ছেলে ও স্ত্রী। আর অন্য দিকে, নিজেকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। এই দুইয়ের মধ্যে প়ড়ে যখন হাঁসফাঁস করছিল আবদুল্লা, সে সময়ই আয়লান বাবাকে বাঁচানোর জন্য চেঁচিয়ে ওঠে।’’
ফাতিমা জানান ঘটনার সময় আবদুল্লার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তার। তখনই আবদুল্লা বোনকে জানিয়েছেন, আয়লান ও গালিপের হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। যখন উথালপাথাল ঢেউয়ের থেকে বাচ্চাদের আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন, তখনই বুঝতে পারেন যে বড় ছেলে গালিপ আর নেই। ছোট ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, আয়লানের চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। ওই দৃশ্য দেখে চোখ বুজে ফেলেন আবদুল্লা। অন্য দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, জলের মধ্যে নাকানিচোবানি খাচ্ছেন স্ত্রী। আবদুল্লার কথায়, ‘‘সর্বশক্তি দিয়ে আমি ওঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।’’
ফাতিমা জানিয়েছেন, গ্রিস পর্যন্ত আসার খরচ আবদুল্লাকে দিয়েছিলেন তিনি। ফতিমার আক্ষেপ, ‘‘আমি যদি ওঁদের ওই সাহায্য না পাঠাতাম, তা হলে হয় তো এই দুর্ঘটনা ঘটত না।’’
আবদুল্লার আর এক বোন টিমা কুর্দি, যিনি আবদুল্লাদের জন্য কানাডায় থাকার বন্দোবস্ত করেছিলেন, তিনি ব্রিটিশ কলম্বিয়ার বাড়িতে বসে জানিয়েছেন, ভাইকে আর কোবানে থাকতে দেবেন না তিনি। তাঁকে কানাডায় নিজের কাছে নিয়ে আসবেন। তবে এই মুহূর্তে কোবান ছাড়তে রাজি নন আবদুল্লা। স্ত্রী ও দুই ছেলের স্মৃতি সম্বল করেই বাকি জীবনটা কোবানেই কাটিয়ে দিতে চান তিনি।

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close