আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাহিত্য

সুনীলের রূপালী জগত

sunil wqmn2ওমেনঅাই:তিনি সরস্বতীর বরপুত্র, তিনি সব্যসাচি। তিনি যেমন কবিতায় চিনিয়ে দেন ভালোবাসার অসুখ, তেমন জানিয়ে দেন ভালোবাসার কোনও জন্ম হয় না, মৃত্যু হয় না। আবার তিনিই কাকাবাবুর হাত ধরে আমাদের নিয়ে যান অ্যাডভেঞ্চারে। কখনও আবার তার নীললোহিতের সঙ্গে আমরাও মেতে উঠি জীবন চেনার নেশায়। সাহিত্যের পাতা থেকে তাই রূপালীপর্দাও হয়ে উঠেছে সুনীলময়। সত্যজিৎ রায় থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়- অনেকক গুনী পরিচালকের হাতে হয়েছে তার কাহিনির প্রতিফলন। ঋদ্ধ এই লেখকের জন্মদিনে সেই সব সিনেমায় এক ঝলক ফিরে দেখা-

প্রতিদ্বন্দ্বী:
১৯৭০ সালে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ফ্রেমবন্দি হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের ক্যামেরায়। সত্যজিতের কলকাতা ট্রিলজির এটিই প্রথম ছবি। সত্তরের দিনরাত্রি, দশকের বুকের ভিতর জমে থাকা ক্ষোভ, আন্দোলন, সাধারণ জীবন উঠে এসেছিল তার অপ্রতিদ্বন্দ্বী কলমে। চলচ্চিত্রে রূপদানে সেই কাহিনিকে নতুন মাত্রায় উপস্থাপিত করেছিলেন সত্যজিৎ। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়।
অরণ্যের দিনরাত্রি:
‘অরণ্যের দিনরাত্রি’র পরতে পরতেও মিশে আছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তার জীবনের একেবারে প্রথমদিকের ছায়াই ধরা ছিল উপন্যাসে। ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সত্যজিতের এ ছবিতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঠাকুর, রবি ঘোষ প্রমুখ। বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা ছবির নমিনেশন পেয়েছিল ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’।
এ ছবি যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই নতুন করে যেন শুরু করেছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার ‘আবার অরণ্যে’৷ যদিও এ কাহিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা নয়, তবু অরণ্যের দিনরাত্রি না থাকলে যে আবার অরণ্যে বাস্তব হয়ে উঠত না, সে কথা বলাই বাহুল্য৷
সবুজ দ্বীপের রাজা:
কাকাবাবুকে সিনেপর্দায় তুলে এনেছিলেন প্রখ্যাত পরিচালক তপন সিনহা। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাঙালি বুদ্ধিমত্তায় সব বাঁধা পেরিয়ে যেতে পারে, তাই করে দেখান সন্তুর কাকাবাবু রাজা রায়চৌধুরী। ১৯৭৯ সালের এ ছবিতে কাকাবাবু হিসেবে দেখা গিয়েছিল শমিত ভঞ্জকে। সন্তু হয়েছিলেন অরুণাভ অধিকারী।
কাকাবাবু হেরে গেলেন:
ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন পিনাকী চৌধুরী। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় ‘কাকাবাবু হেরে গেলেন’। এ বার কাকাবাবু হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল সব্যসাচী চক্রবর্তীকে।
ও এক টুকরো চাঁদ:
পরবর্তী অধ্যায়ে ২০০১ সালে এসেছিল পিনাকী চৌধুরীর ‘এক টুকরো চাঁদ’। ছবিতে কাকাবাবু সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে সন্তু হয়েছিলেন হাল আমলে তারকা সোহম চক্রবর্তী।
হঠাৎ নীরার জন্য:
২০০৪ সালে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘রানী ও অবিনাশ’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল ‘হঠাৎ নীরার জন্য’। পরিচালক সুব্রত সেন ছবির নামও নিয়েছিলেন সুনীলের বিখ্যাত কবিতার নাম থেকে। ছবিতে মুখ্য দুই ভূমিকায় ছিলেন বিক্রম ঘোষ ও জয়া শীল ঘোষ।
অপরাজিতা তুমি:
২০১২ সালে অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর পরিচালনায় আসে এ ছবি। সুনীলের উপন্যাস ‘দুই নারী হাতে তরবারী’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল এ ছবি। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে।

মিশর রহস্য:
২০১৩ সালে আবার কাকাবাবুকে ফিরিয়ে আনেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। এবার কাকাবাবু প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সন্তু হিসেবে পাওয়া গেল আরিয়ান ভৌমিককে। নানা সমালোচনা থাকলেও, কাকাবুকে অনেকদিন পর ফিরিয়ে পাওয়ার স্বাদ দিয়েছিল ‘মিশর রহস’। আর এমন সময়ে এসেছিল এ ছবি, যখন আর কাকাবাবু কোনও অভিযানে বেরতে পারবেন না। কেননা ততোদিনে থেমে গিয়েছিল সুনীলের কলম।
অন্যান্য:
অপর্ণা সেনের ‘ইতি মৃণালিনী’ ছবিতে সুনীলের ‘স্মৃতির শহর’ কবিতাটি সিনেপর্দায় ফিরে এসেছিল গান হয়ে। দেবজ্যোতি মিশ্রর সুরারোপে গেয়েছিলেন শ্রীকান্ত আচার্য।
পরিচালক শ্যামাপ্রসাদ মালায়ালাম ছবিতেও এনেছিলেন সুনীলের কাহিনি। তার ‘হীরক দীপ্তি’ ও ‘মেঘ বৃষ্টি আলো’ অবলম্বনে তৈরি করেছিলেন ‘ওরে কোদাল’ (২০০৭) এবং ‘আরিক’(২০১২)।
তার ছোটগল্প ‘রক্ত ও কান্না’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল ইংরেজি ভাষার ছবি ‘ভারা: এ ব্লেসিং’।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

Close
Back to top button
Close
Close