আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

ঝুলি ভর্তি পুরস্কার নাসার!

nasaওমেনঅাই: কাগজে কলমে তার নাম জান্নাতুল মাওয়া। বন্ধুরা ডাকে ‌‌‌‘নাসা’। নামের সঙ্গে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থার মিল থাকলেও মহাকাশ নিয়ে তার কোন আগ্রহ নেই। রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দেয়ার স্বপ্নও নেই। নাসার স্বপ্নগুলো ছোট ছোট। নাসা তখন খুব ছোট। ক্লাসওয়ানে পড়ে। মাথায় ভুত চেপেছিল নাচ শিখবে। সমবয়সীরা যখন পুতুলের বিয়ে ভাঙার ছলে কেঁদে বুক ভাসাতো, নাসা তখন থেকেই খুব সিরিয়াস। খুব ভোরে চোখ ঘষতে ঘষতে বিছানা ছাড়ত। মুখে দুটো মুড়ি পুরেই রেডি হতো। রোজ রোজ বাসায় নাচের টিচার সুশান্ত বাবু আসত। নাসা নাচ শিখত। পায়ে ঝুমুর বেধে ঝুমুর ঝুমুর তালে নাচত। ক্লাসিক নাচটাই তাকে খুব টানত। পাশাপাশি একটু ফুসরত পেলেই গলাও সাধত মায়ের কাছে। মা একজন সঙ্গীতশিল্পী, শিক্ষক। মায়ের আস্কারাতেই চলতো নাসার সংস্কৃতি চর্চা।

তখন থাকত নওগাঁর আত্রাইয়ে। পড়ত বিয়াম স্কুলে। স্কুলে কালচালার প্রোগ্রাম হলেই সবার আগে ডাক পড়ত তার। কথায় আছে যে হাতে চুল বাঁধে সে হাতে রাধেও। নাচে-গানে মজে থাকলেও পড়াশোনাতেও কিন্তু তার জুরি মেলা ভার। পঞ্চম শ্রেনীতে ক্লাসভর্তি শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছিল। সেই শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিরতির করে ছুটে চলেছে বিদ্যের মাঠে। ভর্তি করানো হল টাঙ্গাইলের শহীদ ক্যাডেট একাডেমীতে। মাস দুয়েক পড়ার পর চলে গেল খুলনা। তার স্বপ্ন খুলনার মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হবে। ঘাড়মোড় ভেঙে শুরু করলে পড়াশোনা। মেধার দৌড়ে ভর্তি পরীক্ষায় চ্যান্স পেল।

ভর্তির পরই পাল্টে গেল নাসার চিরচেনা জীবন। আবাসিক স্কুল। চার দেয়ালে বন্দি। নানা নিয়মের কড়াকড়ি, ছড়াছড়ি। প্রথম প্রথম বেশ হাঁপিয়ে উঠতো। বারবার বাড়ির কথা মনে পড়ত। আস্তে আস্তে সব সয়ে গেছে। স্কুলে পরিচিতি গন্ডিটা বেড়েছে। বেড়েছে বন্ধু। বন্ধুদের কাছে নাসার কদর একটু বেশিই! মেয়েটা বেশ আড্ডাবাজ। কথার কথায় মাতিয়ে তোলে চারপাশ। কথার পিঠে কথা সাজিয়ে মুহুর্তেই হয়ে উঠে আড্ডার মধ্যমণি।

হঠাৎ করেই আড্ডাবাজ মেয়েটার মাথায় ভূত চাপে বড় হয়ে আর্মি হবে। আর্মি হওয়া তো আর চট্টিখানি কথা নয়। নিয়মিত দৌড়াতে হবে। ব্যয়াম করতে হবে। শরীরটাকে ফিট রাখতে হবে। কোন এক ভোরবেলা নাসা সত্যি সত্যিই দৌড় শুরু করে। তারপর আর দৌড় থামেনি। রোজ রোজ প্রাকটিসে যায়।

প্রাকটিসের মাঝেই একদিন শুনল কয়েকদিন পরেই স্কুলে শুরু হচ্ছে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ঘটনাটা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের। নাম লেখাল প্রতিযোগিতায়। চুড়ান্ত প্রতিযোগিতার পুরোটা দিনই ছিল নাসাময়। ওয়ানম্যান শো! নেপালিয়ন বেনাপোর্টের মতো, এলাম, দেখলাম, জয় করলাম! শিক্ষকদের চোখ তো ছানাবড়া! মেয়েটাকে তো কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা। প্রাপ্তির খেরোখাতাটা বেশ লম্বা। ১০০ ও ২০০ দৌড়ে প্রথম, ২০০ মিটার রিলেতে দ্বিতীয় আর লংজ্যাম্পে তৃতীয়! পুরস্কার বিতরণীর সময় শিক্ষকরা একটার পর একটা ব্যাচ গলায় পড়িয়ে দিচ্ছিলেন আর বারবার মুদ্ধ হচ্ছিলেন। মেয়েটার গলাভর্তি ব্যাচ। ঝুলিভর্তি পুরস্কার।

বিজয়ী নাসার অনুভূতিটা এমন, ‘দুই ব্যাচ সিনিয়র আপুদের সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু তারপরও আমার কন্ফিডেন্স ছিল। আমি জানতাম আমি পারবো। কারণ প্রতিদিন প্রাকটিসেই সবাইকে হারাতাম।’

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ওমেনঅাই)// এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close