আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

টুপি বানিয়ে সাবলম্বি ১০ হাজার নারী

tupi wmnওমেনঅাই: লক্ষ্মীপুরে ওমানি (নকশী) টুপি বুনিয়ে সাবলম্বি হয়ে উঠছে লক্ষ্মীপুরের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। সংসারে কাজের ফাঁকে ফাঁকে এ টুপি বুনন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন এসব পরিবারের নারীরা। এতে করে সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাদের।

গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চলছে নশকি টুপি বুননের কাজ। এই টুপি বুননের কাজে জড়িত রয়েছে রামগতির চরআলেকজান্ডার, চররমিজ, চরসেকান্তর, গুচ্ছ গ্রাম, সমবায় গ্রাম, শিক্ষা গ্রাম ও কমলনগরের হাজির হাট, মতিহাট, চরফলকন ও চরজাঙ্গালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবার।

এই টুপি ওমানে রপ্তানি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এর নামকরণ করা হয় ওমানী টুপি। উপকুলীয় এ জেলার গ্রাম অঞ্চলের হতদরিদ্র নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এ নকশী টুপি বুনন করে পরিবারের বারতি রোজগার করছেন। পড়াশুনার পাশাপাশি টুপি বুননের কাজে নেমে পড়েছেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরাও। এতে করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসে গ্রামীণ জনপদের এসব পরিবারের মাঝে।

ওমানি টুপি বুনন কারিগররা জানায়, এক একটি নকশী টুপি বুনতে সময় লাগে এক থেকে দুই সপ্তাহ। আর ক্ষুদ্র এ শিল্পের কারিগররা তাদের শ্রমের মজুরি হিসাবে টুপি ভেদে পান ৫শ থেকে ৬শ টাকা। যা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১শ থেকে ১২শ টাকায়। এখানকার উৎপাদিত টুপি কদর থাকায় তা রপ্তানি হচ্ছে ওমানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

তারা আরো জানায়, পুঁজির অভাবে স্থানীয় মহাজনদের দেয়া টুপিতে নকশীর কাজ করায় তাদের লাভ কিছুটা কম হচ্ছে। তবে সরকারি সহায়তা পেলে এ পেশায় তারা আরো লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম আশ্রাফ উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নেই প্রায় ৩ হাজার পরিবার দৈনন্দিন সংসারের কাজের ফাঁকে নকশী টুপি বুনন করে বাড়তি রোজগার করছে। এতে করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাদের। এ নকশী টুপি বুনন কার্যক্রম তথা ক্ষুদ্র এ শিল্পকে সরকারি নজরধারীর মধ্যে নিয়ে আসলে রপ্তানি বাণিজ্য যেমন সম্প্রসারিত হবে, সেই সঙ্গে গ্রামীণ দারিদ্র বিমোচনে এ শিল্প উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি।

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরী উপ-ব্যবস্থাপক মো. তাজুল ইসলাম জানান, জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার লোক এ নকশী টুপি বুননের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এ নকশী টুপি বুনন করে লাভবান হচ্চেন তারা। এটা বিশাল একটি কর্মযোগ্য, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ নকশী টুপি বুনন শিল্পের কারিগরদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সহজ শর্তে সরকারি ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ শিল্পের কারিগরদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে রপ্তানি বাণিজ্য যেমন সম্প্রসারিত হবে, তেমনি গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি। সরকারি কিংবা দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে এ শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশী প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ওমেনঅাই)// এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close