আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯ তম জন্মদিন

PM-Hasina-18ওমেনঅাই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯ তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে।
শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মুনাজাতের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিকেল চারটায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
দুপুর ১২ টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবং প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বঙ্গবন্ধু কিশোর মেলা, আওয়ামী ওলামা লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এদিকে, বরিশালে কেক কেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
রাত ১২টা এক মিনিটে শহরের সদর রোডে আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ কেক কাটেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহ পৃথকভাবে কেক কেটে জন্মদিনের উৎসব করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ দলটির সব শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের শেখ হাসিনার ৬৯তম শুভ জন্মদিন পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক নজরে শেখ হাসিনা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গীপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হওয়ার পর তার পরিবারকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। তিনি পুরনো ঢাকার মোগলটুলির রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন। আবাস স্থানান্তরিত হয় ৩ নম্বর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে।
১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা ভর্তি হন টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িটির দ্বারোদ্ঘাটন হয়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার মৃত্যুর পূর্ব দিন পর্যন্ত এই বাড়িতেই অবস্থান করেন।
১৯৬৫ সালে শেখ হাসিনা আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। সে বছরই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজছাত্রী সংসদের সহ-সভানেত্রী পদে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় কিশোর বয়স থেকেই তার রাজনীতিতে পদচারণা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬ দফা দাবিতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। কারাবন্দী বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয় ১৯৬৮ সালে। বিয়ের কিছুদিন পর শুরু হয় ১১ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেত্রী হিসেবে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি। আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ডাক আসে দেশমাতৃকার হাল ধরার। সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তার একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনোকিছুই তাকে তার পথ থেকে টলাতে পারেনি।
১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সরকারের আমলেই ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। বাংলাদেশ অর্জন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি নেমে আসে ১.৫৯ শতাংশে। দারিদ্র্য হ্রাস পায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া সর্বোপরি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত বিজয়ে এককভাবে আওয়ামী লীগই লাভ করে তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা।
ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে উন্নতি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ রক্ষা এবং দেশে দেশে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য পদক ও পুরস্কারে।
গতকাল রোববার তিনি পেয়েছেন ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় তার জন্মদিন পড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর বিদেশের মাটিতে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে তিনি জন্মদিন পালন করে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হবে।

সূত্র: প্রিয় ডটকম

ঢাকা,২৮ সেপ্টেম্বর (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close