আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্দোলন সংগ্রামে নারীস্পট লাইট

বাঙালির নাদিয়ার রান্না করে বিশ্ব জয়

Nadiya_wmnওমেনআই:২৭ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এবছর ‘গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩০ বছরের নাদিয়া হোসেইন।

ভোজন রসিক হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত রয়েছে বাঙালির। এবার বাঙালি আরেকবার প্রমাণ করলো, তারা শুধু ভোজনরসিকই নয়, ভালো রাঁধতেও জানে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও বলেছিলেন, ‘জিতবেন একজনই, আর তিনি হলেন নাদিয়া। কারণ প্রচণ্ড চাপে তিনি শান্ত থাকতে জানেন।’

রানারআপ হওয়া তমাল ও ইয়ানও বলেছেন, এই পুরস্কার নাদিয়ারই পাওনা ছিল।

নাদিয়া প্রমাণ করলো বাঙালিরা ভাল রাঁধতেও জানে
ব্রিটিশ কমেডিয়ান জো ব্র্যান্ডের হাত থেকে সেরার পুরস্কার নেন নাদিয়া। কেক-পেস্ট্রি তৈরির এই প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে ‘ক্ল্যাসিক ব্রিটিশ কেক’ বানাতে গিয়ে নাদিয়া বেছে নিয়েছিলেন বিয়ের কেক। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিয়েতে কেকের প্রচলন খুব কম। আমার স্বামী আবদাল হোসেইন ও তিন সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী কেক বানিয়েছি।’

যুক্তরাজ্যের রান্না-বিষয়ক সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা বিবিসির ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’-এর চূড়ান্ত পর্ব ছিল গতকাল বুধবার।নাদিয়ার এ বিজয় মুহূর্ত দেখেছে বিশ্বের দেড় কোটিও বেশি দর্শক।

প্রতীক্ষা তিন প্রতিযোগীর মধ্যে শিরোপা ওঠে কার মাথায় তাই দেখার। শেষ পর্যন্ত জিতলেন নাদিয়া। রানারআপ হন ইয়ান কামিং ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তমাল রায়।

নাদিয়া প্রমাণ করলো বাঙালিরা ভাল রাঁধতেও জানে
প্রতিযোগিতার মোট ৬টি পর্ব দাপটের সঙ্গে অতিক্রম করে এসেছেন নাদিয়া। গড়ে ৯.৫ মিলিয়ন দর্শক টেলিভিশনের পর্দায় উপভোগ করেছে প্রতিটি পর্ব, দেখেছে নাদিয়ার নৈপুণ্য। শুধু সেমিফাইনালই দেখেছে ১০দশমিক ২ মিলিয়ন দর্শক। ফাইনালে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৫ মিলিয়ন।

ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার এটি ছিল ষষ্ঠ সিজন। চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন ব্রিটিশ বেকের দুই জনপ্রিয় মুখ পল হলিউড ও ম্যারি ব্যারি। দুজনই বলেছেন, নাদিয়া শুরু থেকেই আশার আলো দেখিয়েছেন। প্রতিটি পর্বে তাঁর একাগ্রতার ছাপ ছিল। এককথায় অনন্য নাদিয়া।

নাদিয়া প্রমাণ করলো বাঙালিরা ভাল রাঁধতেও জানে
শখের বশে কেক-পেস্ট্রি তৈরি করেন—এমন প্রতিযোগীদের নিয়েই এ আয়োজন। ধাপে ধাপে বাছাই শেষে ১২ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১০ সপ্তাহের এই প্রতিযোগিতা। এরপর তিনজন প্রতিযোগী উত্তীর্ণ হন চূড়ান্ত পর্বে। সেই তিনজনকে নিয়েই গতকালের এই আসরে সেরা হলেন প্রথম কোনো বাংলাদেশি।

নাদিয়ার বাবা-মার আদি নিবাস সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মোহম্মদপুর গ্রামে। বাবা জমির আলী ও মা আসমা বেগমের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে নাদিয়া তৃতীয়।

ধর্মভীরু নাদিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্রিটেনে। লন্ডন থেকে চল্লিশ মাইল দূরবর্তী শহর লুটনে কেটেছে নাদিয়ার শৈশব ও কৈশোর। বর্তমানে স্বামী সন্তান নিয়ে উত্তর ইংল্যান্ডের লিডসে বসবাস করলেও অধিকাংশ সময়ই থাকেন লুটনে।

ঢাকা,০৮ অক্টোবর (ওমেনঅাই)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close