আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক থেকে

বাংলাদেশ সরকারে ৪৩ বছরে মাত্র ৩৫ জন নারী!

মেহেবুব আলম বর্ণ:
গত ৪৩ বছরে বাংলাদেশ সরকারে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদে সাড়ে আটশ’রও বেশি পুরুষ জায়গা পেয়েছেন। সেখানে মাত্র ৫০ জনের বেশি নারী এমন পদগুলো পেয়েছেন। অর্থাৎ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ১শ’ জন পুরুষের বিপরীতে মাত্র ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নারী জায়গা পেয়েছেন। শতাংশের হিসেবটি ৮৬৪ জন পুরুষ ও ৫৩ জন নারীকে গণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ৩৫ জন নারী সরকারে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন একাধিকবার সরকারে থাকায় সংখ্যাটি ৫০ ছাড়িয়েছে। একইভাবে পুরুষদের মধ্যেও অনেকেই একাধিকবার সরকারে আছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ভালো ভালো কথা বলেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নানান প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন, সম-অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ২০১৪ এর ইশতেহারে আওয়ামী লীগ প্রশাসন ও সমাজের সর্বস্তরের উচ্চপদে নারীদের নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে অঙ্গীকার করলেও এবার মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারে ৪ জন নারী, দ্বিতীয়বার ৭ জন নারী ও তৃতীয় দফায় ৪ জন নারী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। আর তাঁর নির্বাচনকালীন সরকারে ছিলেন ৫ জন নারী।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে তিনবার। এরমধ্যে ২০০১ সালে গঠিত খালেদা জিয়ার সরকারে জায়গা পেয়েছিলেন ৪ জন নারী। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার স্বল্প মেয়াদী সরকারে নারী ছিলেন মাত্র ৩ জন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে ছিলেন ৩ জন নারী।

বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর বণ্টন করা হয়েছিল ১১ জনের মধ্যে। তাতে কোন নারী ছিলেন না।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করা হয়। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সরকারের মেয়াদ ছিল ১ বছর ২ মাস ৪ দিন। ২৩ জনের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তর বণ্টন করা হয়। এই ২৩ জনের মধ্যেও কোন নারী ছিলেন না। এরপর ১৬ মার্চ ১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান আবারও সরকার গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল এই সরকার। মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় ৩৭ জনকে নিয়ে। এই সরকারে দুজন নারী মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পান। তাঁরা হলেন অধ্যক্ষা বদরুন্নেসা আহমেদ (শিক্ষা) ও বেগম নূরজাহান মুরশিদ (সমাজ কল্যাণ)।

এরপর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২৯ জনকে নিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তারমধ্যে কোন নারী ছিলেন না। এই সরকারের মেয়াদ ছিল ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত। এই দিনটিতেই বঙ্গবন্ধু পরিবার-পরিজনসহ নিহত হন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই সরকারে ১০ জন মন্ত্রী ও ১১জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এই সরকারে কোন নারীকে জায়গা দেওয়া হয়নি।

১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রভার গ্রহণ করেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। একই বছরের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এসময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তখন সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান ভাগাভাগি করে সবগুলো মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেন। এ সরকারেও কোন নারী ছিলেন না। এরপর ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর আবারও বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি রেখে জিয়াউর রহমান ২০ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য। এই ২০ জনের মধ্যে বিনিতা রায় এবং ফিরোজা বারীকে উপদেষ্টা করা হয়। এই সরকারের মেয়াদ ছিল ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যা সংখ্যা ৮ জন বাড়িয়ে ২৮ জন করা হয়। কিন্তু বাদ পড়ে যান আগের উপদেষ্টা দুইজন নারী। এই সরকারে আর নারী উপদেষ্টা নেওয়া হয়নি। ১৯৭৮ সালের ১২ জুন পর্যন্ত চলে এই সরকার।

১৯৭৮ সালের ১২ জুন আবারও রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান। এসময় তিনি ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এই সরকারে ড. আমিনা রহমান ও বিনিতা রায় জায়গা পান। এই সরকারের মাঝে আসেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও অস্থায়ী বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সময়কাল ছিল ১২ জুন ১৯৭৮ থেকে ২০ নভেম্বর ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। এই সরকারে মোট ৬৫ জন সরকারে ছিলেন। এরমধ্যে নারী ছিলেন ৫ জন।

২০ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮২ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সময়কাল ছিল। এ সময়টিতে মোট ৫০ জন সরকারে ছিলেন। তাঁদের মাঝে ছিলেন মাত্র ২ জন নারী।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের শাসনামল ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ এর ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১২ জন মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ৪ জন ছিলেন নারী।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দিন আহমেদের সময়কালে মোট ১৭ জন উপদেষ্টার মধ্যে একজনও নারী ছিলেন না। এরপর বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সময় ১১ জন উপদেষ্টার মধ্যে একজন নারী ছিলেন ড. নাজমা চৌধুরী। প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের ১১ জন উপদেষ্টার মধ্যে একজন নারী উপদেষ্টা ছিলেন বেগম রোকেয়া আফজাল রাহমান। রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড.ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের আমলে উপদেষ্টা ছিলেন ১৫ জন। এরমধ্যে তিনজন ছিলেন নারী। প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের ১৬ জন উপদেষ্টার মধ্যে ২ জন নারী ছিলেন। তাঁর স্পেশাল এ্যাসিসট্যান্স ৫ জনের মধ্যে কোন নারী ছিলেন না।
যে নারীরা সরকারে জায়গা পেয়েছেন

শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী, রওশন এরশাদ, মন্নুজান সুফিয়ান, সালমা ইসলাম, ইসমত আরা সাদেক, সাহারা খাতুন, দীপু মনি, মেহের আফরোজ চুমকি, শিরিন শারমিন চৌধুরী, জিনাতুন নেসা তালুকদার, খুরশীদ জাহান হক, সেলিমা রহমান, অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম, সারোয়ারী রহমান, ড.শরিফা খাতুন, ব্যারিস্টার রাবেয়া ভুঁইয়া, মমতা ওহাব, সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ, তসলিমা আবেদ, কামরুন্নাহার জাফর, আমিনা রহমান, বিনিতা রায়, ফিরোজা বারী, বদরুন্নেসা আহমেদ, নূরজাহান মুরশিদ, ড.নাজমা চৌধুরী, সুলতানা কামাল, রোকেয়া আফজাল রহমান, ইয়াসমিন মুর্শেদ, প্রফেসর সুফিয়া রহমান, গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী ও রাশেদা কে চৌধুরী।
সৌজন্যে প্রিয়.কম

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close