আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাহিত্য

গানে-কবিতায় শামসুর রাহমানকে স্মরণ

sams_87734ওমেনঅাই: কবিতার ছন্দে, গানের সুরে ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হলো স্বদেশের ভাবনাতাড়িত কবি শামসুর রাহমানকে। শুক্রবার ছিল বাঙালীর ও বাংলাভাষার অনন্য এই কবির ৮৭তম জন্মদিন।
দিবসটি উপলক্ষে কবিকে নিবেদন করে আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা, নিবেদিত কবিতাপাঠ করেন কবিরা, আবৃত্তিশিল্পীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় শামসুর রাহমানের কবিতা এবং কণ্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করেন গান।
এভাবেই রঙে রঙে বর্ণিল হয়ে ওঠে কবির জন্মদিন উদযাপনের এ আয়োজন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ।
বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র চত্বরে শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কবি সৈয়দ শামসুল হক, কবি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কবি তারিক সুজাত।

বাংলাকাব্য ভুবনে শামসুর রাহমানের অবিস্মরণীয় অবদানসহ তার বর্ণময় কবি জীবনের কথা উঠে আসে বক্তাদের আলোচনায়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় ছয় দশক ধরে সাহিত্য-সাধনা করেছেন শামসুর রাহমান। অনেকেই তার মতো দীর্ঘ সময় সাহিত্যচর্চা করেছেন। তবে জীবদ্দশায়ই তিনি শুধু কবি নন, পরিণত হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানে। তার কবিতায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, সমাজ থেকে রাষ্ট্র সব কিছুর ছোঁয়া পেয়েছে।’
শামসুর রাহমানের সঙ্গে আপন সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। বলেন, ‘শামসুর রাহমান যখন তরুণ ছিলেন তখনও তার জন্মদিনে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আজো মনে পড়ে মায়ের কোলে বসে জন্মদিনের খাবার খাচ্ছেন তিনি।’
সৈয়দ হক আরও বলেন, ‘শামসুর রাহমান হচ্ছেন স্বাধীনতার কবি। এ স্বাধীনতা হচ্ছে চিন্তার স্বাধীনতা, শিল্পের স্বাধীনতা ও রাজনীতির স্বাধীনতা। তার কথা বলতে গেলে ভেতরে ভেতরে ভীষণ কষ্ট হয়। মনে হয় নিজের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অচল হয়ে গেছে। তার রাজনৈতিক কবিতা নিয়ে অনেক আলোচনা ও প্রশংসা হলেও যেসব কবিতায় তিনি বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল পঙক্তি সৃষ্টি করেছেন সেগুলো নিয়ে খুব একটা কথা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘জীবদ্দশার শেষ দিকে চিৎকারসর্বস্ব কবিতা নিয়ে খুব বিমর্ষ থাকতেন শামসুর রাহমান। চারপাশে আজ অনেক কবি থাকলেও ঋষিতুল্য সেই কবি আর নেই।’
সব্যসাচী লেখক বলেন, ‘‘আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শামসুর রাহমানকে নিবেদিত তার লেখা নিয়ে ‘মহান সতীর্থ শামসুর রাহমান’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশিত হবে।’’
বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘শামসুর রাহমান কখনও উচ্চকণ্ঠের কবি হতে চাননি। হতে চেয়েছেন সাধারণ মানুষের কবি। আর তার প্রথম কবিতার পাঠক ছিলাম আমরা বন্ধুরা।’
তিনি বলেন, ‘শামসুর রাহমান হচ্ছেন আমাদের কবি। এ কারণেই সারা দেশ তাকে বুকের ভেতরে লালন করেছে। শামসুর রাহমান না থাকলে বাংলা ভাষার মর্যাদা আজ এতো সমৃদ্ধ হতো না।’
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সাজানো অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে আবৃত্তি, কবিকণ্ঠে নিবেদিত কবিতাপাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
এ পর্বের শুরুতেই সৈয়দ শামসুল হক আবৃত্তি করেন শামসুর রাহমানের কবিতা ‘দেবতারা’। এরপর শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আহকাম উল্লাহ্। কবি রুবী রহমান পড়ে শোনান শামসুর রাহমানে ৫০তম জন্মদিনে লেখা স্বরচিতা কবিতা। এ ছাড়া কবিকণ্ঠে নিবেদিত কবিতাপাঠ করেন রবিউল হুসাইন, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, নূহ-উল-আলম লেনিন, কাজী রোজী, শিহাব সরকার, কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্র গোপ, কামাল চৌধুরী, আসাদ মান্নান, মুনীর সিরাজ, হালিম আজাদ, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, আমীরুল ইসলাম, তারিক সুজাত, অঞ্জনা সাহা, মৃত্তিকা গুণ, দীপিতা রাহমান প্রমুখ।
শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী লায়লা আফরোজ, রফিকুল ইসলাম ও নায়লা তারান্নুম কাকলি।
কবিতা পাঠের পর হেমন্তের সন্ধ্যায় সুরের মায়াজাল বুনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী রফিকুল আলম, মহীউজ্জামান চৌধুরী ময়না, বুলবুল মহলানবীশ, মাহজাবিন রহমান শাওলী ও উত্তম ঘোষ।

ঢাকা, ২৬ অক্টােবর(ওমেনআই২৪ডটকম)//এসএল//

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

Close
Back to top button
Close
Close