আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুকিঁতে বেশি নারীরা

images (1)ওমেনঅাই:সাধারণ যে কোনও কাজের চেয়ে যেসব নারী ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি এক-তৃতীয়াংশ বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।প্রতিবছর স্ট্রোকে পুরুষের তুলনায় নারী মৃত্যু সংখ্যাও বেশি।তাই এবারের বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থার থিম নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আই অ্যাম উইম্যান’। কারণ নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি।

একইসঙ্গে অল্পবয়সীদেরও স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানা গেছে। যাদের ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে বেশি বয়সে গিয়ে তাদের স্ট্রোক হলেও কম বয়সীদের স্ট্রোক হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন, কাজের চাপ এবং অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফলে। একইসঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়েই যারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত তাদের খাবারের প্রতি ঝোঁক থাকে কম এবং তারা ধূমপানে বেশি আসক্ত বলেও জানা গেছে।

বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা জানায়, নারী পুরুষ সবার ডায়াবেটিস হলেও প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস, প্রসবকালীন জটিলতা একলাম্পশিয়া, জন্ম নিরোধক বড়ি সেবন, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা হাড় ক্ষয় রোগ- এসব কারণে নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি হয়। একই সঙ্গে তারা জানায়, পুরুষের তুলনায় নারীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও কম। সেইসঙ্গে নারীদের স্থূলতা, বিষণ্নতা এবং অনিয়মিত হৃদষ্পন্দনও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

সংস্থাটি আরও বলেছে, সারা বিশ্বেই নারীরা ‘কেয়ার গিভার’, ‘কেয়ার রিসিভার’ নয়। অনেক সময় নীরবে অনেকে স্ট্রোকের শিকার হলেও চিকিৎসার সুযোগ হয় না বলেই পরে তারা বড় ঝুঁকিতে পড়েন।

সংস্থার জরিপে জানা গেছে, বিশ্বে প্রতি ছয় সেকেন্ডে একজন মানুষ স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান। বছরে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে এবং এই সংখ্যা এইডস, যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়া রোগে সম্মিলিতভাবে মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যায়, হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা হওয়া, কথা বলা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে অসুবিধা এবং বিভ্রান্তি স্ট্রোকের মূল লক্ষণ। একইসঙ্গে মস্তিষ্কজনিত স্নায়বিক যে কোনও সমস্যা হঠাৎ করে হলেই সেটি স্ট্রোক হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলো, মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্ত জমে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মস্তিষ্কের ওই অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত শরীরের অন্যান্য অংশ অকেজো হয়ে যাওয়া। স্ট্রোকের রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব সিটিস্ক্যান করাতে পারলে তার চিকিৎসা দ্রুত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ডা. আমিনুল ইসলাম। এছাড়াও, প্রসবকালীন একলাম্পশিয়া জটিলতা, মাদক সেবন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এমনকি কিছু কিছু ওষুধ অতিরিক্ত সেবন করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান এবং মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা, চর্বি এবং কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার কম খাওয়া, খাবারে লবন কম দেওয়া, ডিমের কুসুম, বাদাম, ফাস্টফুড, দুধ-ঘি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়া, বেশি করে শাকসবজি খাওয়া এবং মাংসের পরিমাণ কমিয়ে মাছ বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর(ওমেনআই২৪ডটকম)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close